জাতীয় নির্বাচন কমিশনের প্রধান কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন আগামীকাল জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে নতুনভাবে নির্বাচিত ২৯৭ জন সংসদ সদস্যের শপথ গ্রহণের দায়িত্ব নেবেন। শপথ অনুষ্ঠান সকাল ১০টায় নির্ধারিত এবং এটি নির্বাচনের পর প্রথম সরকারি কার্যক্রম হিসেবে গণ্য হবে। শপথের মাধ্যমে নতুন আইনসভার সদস্যরা তাদের দায়িত্ব ও শপথবদ্ধতা গ্রহণ করবেন, যা সংসদীয় কার্যক্রমের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করে।
ইলেকশন কমিশনের সিনিয়র সেক্রেটারি আখতার আহমেদ আজ সন্ধ্যায় একটি চিঠি জারি করে সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাকে অবহিত করেছেন। চিঠিতে অন্তত বিশটি সরকারি বিভাগ, ক্যাবিনেট বিভাগসহ প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়কে শপথ অনুষ্ঠানের সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হয়েছে। এই নির্দেশনা অনুযায়ী নিরাপত্তা, সিটিং ব্যবস্থা এবং প্রোটোকল সংক্রান্ত সকল প্রস্তুতি ত্বরান্বিত করা হবে।
শপথ কক্ষটি জাতীয় সংসদ ভবনের বিশেষভাবে নির্ধারিত ঘরে অবস্থিত, যেখানে পূর্বে বহুবার শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের পাশাপাশি সংসদীয় কর্মী, নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তাবৃন্দ এবং নির্বাচনী কর্মকর্তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। মিডিয়া কভারেজের জন্য নির্ধারিত জোনে স্থানীয় ও জাতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের প্রবেশের অনুমতি থাকবে, তবে শপথের গোপনীয়তা ও শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য নির্দিষ্ট নিয়মাবলী মেনে চলা বাধ্যতামূলক।
শপথ অনুষ্ঠানে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যরাও অংশ নেবেন। তারা একই সময়ে শপথ গ্রহণের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের কাজের জন্য তাদের দায়িত্ব স্বীকার করবেন। এই সমন্বিত শপথ প্রক্রিয়া নতুন সংসদ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সমন্বিত কাজের সূচনা চিহ্নিত করে, যা আইনগত কাঠামোর সমন্বয়কে সহজতর করবে।
নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের মাধ্যমে সংসদীয় কার্যক্রমের আইনি বৈধতা নিশ্চিত হবে এবং সরকারকে আইনসভার সমর্থন পেতে সহায়তা করবে। শপথের পর প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে প্রধান মন্ত্রীর নির্বাচিত দল প্রধান ভূমিকা পালন করবে এবং সরকার গঠন প্রক্রিয়া শুরু হবে। এই ধাপটি দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
রাজনৈতিক দলগুলো শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি সম্পর্কে ইতিবাচক মন্তব্য প্রকাশ করেছে। শাসন দল ও বিরোধী দল উভয়ই শপথের সময়সূচি মেনে চলা এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য সহযোগিতা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। যদিও কিছু দল নিরাপত্তা ও লজিস্টিক্স সংক্রান্ত উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, তবে তারা সকলের সমন্বয়ে অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন করার প্রত্যাশা প্রকাশ করেছে।
শপথের পর সংসদ দ্রুতই প্রথম অধিবেশন শুরু করবে, যেখানে বাজেট অনুমোদন, নীতি নির্ধারণ এবং আইন প্রণয়নের কাজ শুরু হবে। নতুন সংসদ সদস্যদের কমিটি গঠন, প্রশ্নোত্তর সেশন এবং তদারকি কার্যক্রমের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। এই প্রক্রিয়াগুলো দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও জনসেবা কার্যক্রমের জন্য ভিত্তি স্থাপন করবে।
সামগ্রিকভাবে, শপথ অনুষ্ঠানটি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। সিইসি ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টা নিশ্চিত করবে যে শপথটি নিরবচ্ছিন্ন ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়, যা নতুন সংসদকে কার্যকরভাবে কাজ শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ভিত্তি প্রদান করবে।



