কানাডার স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতা গোষ্ঠী, যুক্তরাষ্ট্রের চলচ্চিত্র শিল্পের আর্থিক অস্থিরতার মুখে, আন্তর্জাতিক চুক্তি ভিত্তিক সহ‑প্রযোজনা ব্যবহার করে তহবিল বাড়িয়ে বিশ্বব্যাপী দর্শকের কাছে পৌঁছানোর পরিকল্পনা চালু করেছে। এই প্রবণতা বিশেষভাবে মন্ট্রিয়াল ভিত্তিক পরিচালক জেনেভিভ ডুলুদে‑ডে সেলসের নতুন চলচ্চিত্র ‘নিনা রোজা’‑এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে, যা বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবে প্রিমিয়ার পাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের মুভি বাজারে বিনিয়োগের অনিশ্চয়তা এবং উৎপাদন খরচের বৃদ্ধি, কানাডার স্বতন্ত্র নির্মাতাদের জন্য নতুন অর্থায়ন পথের প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে। ফলে তারা ইউরোপ ও অন্যান্য দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ব্যবহার করে সহ‑প্রযোজনা মডেল গড়ে তুলছে, যা উভয় পক্ষকে আর্থিক ও সৃজনশীল সুবিধা প্রদান করে।
‘নিনা রোজা’ একটি ট্রান্সঅ্যাটলান্টিক ড্রামা, যার পরিচালনা জেনেভিভ ডুলুদে‑ডে সেলসের দায়িত্বে। ছবির মূল চরিত্র মিহাইল, যিনি ২৮ বছর আগে স্ত্রীর মৃত্যুর পর বুলগেরিয়া ত্যাগ করে কানাডায় বসবাস করেন এবং একা তার কন্যা রোজা লালন করেন। এখন মন্ট্রিয়ালের একজন শিল্প বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করা মিহাইল, তার কন্যার নামের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ ৮ বছর বয়সী বুলগেরিয়ান শিল্পী নিনার চিত্রকর্মের সত্যতা যাচাই করতে দেশে ফিরে আসেন।
কাহিনীর মোড়ে মিহাইলের অতীতের ছায়া ফিরে আসে; নিনার অনলাইন ভাইরাল চিত্রকর্মের পেছনে লুকিয়ে থাকা গোপনীয়তা ও তার নিজের হারিয়ে যাওয়া স্মৃতিগুলি একসাথে উদ্ঘাটিত হয়। ছবিটি বুলগেরিয়ার প্রাকৃতিক দৃশ্য ও মন্ট্রিয়ালের নগর পরিবেশের বৈপরীত্যকে মিশ্রিত করে, যা দুই সংস্কৃতির সংযোগকে দৃশ্যমান করে।
‘নিনা রোজা’র উৎপাদন কাঠামোতে কানাডা, বেলজিয়াম, বুলগেরিয়া এবং ইতালি চারটি দেশের সহ‑প্রযোজনা অংশীদার যুক্ত হয়েছে। কানাডার সহ‑প্রযোজনা নীতিমালা অনুসারে, মোট বাজেটের ২৫ শতাংশের বেশি বিদেশে ব্যয় করা নিষিদ্ধ, তাই অতিরিক্ত তহবিলের জন্য বিদেশি অংশীদার অপরিহার্য হয়ে ওঠে। এই নিয়মের কারণে চলচ্চিত্রটি একাধিক আন্তর্জাতিক অংশীদারকে একত্রিত করতে বাধ্য হয়।
বহু দেশের আর্থিক অবদান, সৃজনশীল ও প্রযুক্তিগত ভূমিকা কীভাবে ভাগ করা হবে তা নির্ধারণ করা সহজ কাজ ছিল না। চারটি দেশের প্রতিনিধিরা একে অপরের প্রত্যাশা ও অবদান সমন্বয় করতে দীর্ঘ সময় ব্যয় করেন। পরিচালক ডুলুদে‑ডে সেলস উল্লেখ করেন, “প্রকল্পটি শেষ পর্যন্ত সফল হয়েছে, তবে চারটি দেশের সমন্বয়ে কাজ করা এক দীর্ঘ মরুভূমি পাড়ি দেওয়ার মতো ছিল।”
‘নিনা রোজা’র পাশাপাশি, কানাডা‑গানা সহ‑প্রযোজনা থ্রিলার ‘প্যারাডাইস’ও বার্লিনে বিশ্বপ্রিমিয়ার পাবে। এই ছবির প্রযোজক অ্যান‑মারী গেলিনাস, জেরেমি কম্টের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য পরিচালনা, একইভাবে একাধিক দেশের আর্থিক সমর্থন সংগ্রহে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন। উভয় প্রকল্পই দেখায় যে আন্তর্জাতিক চুক্তি ভিত্তিক সহ‑প্রযোজনা, কানাডার স্বাধীন চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য নতুন বৃদ্ধির পথ খুলে দিচ্ছে।
কানাডার স্বতন্ত্র চলচ্চিত্র নির্মাতারা এখন আর শুধুমাত্র দেশীয় তহবিলের ওপর নির্ভর করছেন না; তারা ইউরোপ ও আফ্রিকার সঙ্গে পারস্পরিক সুবিধা ভিত্তিক চুক্তি গড়ে তোলার মাধ্যমে বড় স্কেলে উৎপাদন ও বৈশ্বিক বিতরণ সম্ভব করে তুলছেন। এই পদ্ধতি কেবল আর্থিক ঝুঁকি কমায় না, বরং সৃজনশীল দৃষ্টিকোণ থেকে বৈচিত্র্যপূর্ণ গল্পকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে উপস্থাপন করার সুযোগ দেয়।
সারসংক্ষেপে, যুক্তরাষ্ট্রের চলচ্চিত্র বাজারের অস্থিরতা কানাডার স্বাধীন নির্মাতাদেরকে আন্তর্জাতিক চুক্তি সহ‑প্রযোজনা মডেলে রূপান্তরিত করেছে। ‘নিনা রোজা’ এবং ‘প্যারাডাইস’ এর মতো প্রকল্পগুলো এই পরিবর্তনের স্পষ্ট উদাহরণ, যেখানে একাধিক দেশের আর্থিক ও সৃজনশীল সম্পদ একত্রিত হয়ে বিশ্বব্যাপী দর্শকের কাছে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আসে। ভবিষ্যতে আরও বেশি কানাডিয়ান চলচ্চিত্র এই মডেল অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের ছাপ রেখে যাবে বলে আশা করা যায়।



