বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দুইটি জেলায় জয়লাভের পর বগুড়া-৬ আসন ত্যাগের লিখিত নোটিশ ইলেকশন কমিশনে জমা দিয়েছেন। তিনি ঢাকা-১৭ আসন বজায় রাখার সিদ্ধান্ত জানিয়ে, বগুড়া-৬ আসন শূন্য করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
ইলেকশন কমিশনের সিনিয়র সেক্রেটারি আকতার আহমেদ জানান, তারেক রহমানের নোটিশ পাওয়া সত্ত্বেই কমিশন গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের কাজ চালিয়ে যাবে, যাতে বগুড়া-৬ আসন শূন্য হিসেবে ঘোষিত হয়। গেজেট প্রকাশের পর ৩০ দিনের মধ্যে প্রার্থীকে কোন আসন রাখবে তা লিখিতভাবে জানাতে হয়, না হলে কমিশন স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটিকে বৈধ ও বাকি গুলোকে শূন্য ঘোষণা করতে পারে।
এটি রেপ্রেজেন্টেশন অফ দ্য পিপল অর্ডার (RPO) ১৯৭২, ধারা ১৯(২) অনুসারে বাধ্যতামূলক। একাধিক জেলায় জয়লাভকারী প্রার্থীর ক্ষেত্রে তিনি কোনটি রাখতে চান তা লিখিতভাবে জানাতে হয়, আর না জানালে কমিশন নিজস্ব বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেবে।
বগুড়া-৬ আসনে তারেক রহমান ২১৬,২৮৪ ভোটে জয়লাভ করে, জামায়াত-এ-ইসলামির প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল ৯৭,৬২৬ ভোটে পরাজিত হন। এই ফলাফল তাকে ঐ জেলায় স্পষ্ট সংখ্যার মাধ্যমে জয়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
অন্যদিকে ঢাকা-১৭ আসনে তারেকের জয় তুলনামূলকভাবে সংকীর্ণ ছিল; তিনি ৭২,৬৯৯ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন, যখন জামায়াত-এ-ইসলামির প্রার্থী এস.এম. খালিদুজ্জামান ৬৮,৩০০ ভোট সংগ্রহ করেন। দুটো জেলায় তারেকের পার্থক্য ভোটের পরিমাণে স্পষ্ট।
RPO অনুযায়ী, শূন্য ঘোষিত সংসদীয় আসন গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে উপ-নির্বাচনের মাধ্যমে পূরণ করতে হবে। তাই বগুড়া-৬ আসনের শূন্যতা ঘোষিত হলে, কমিশনকে দ্রুতই উপ-নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করতে হবে।
ইলেকশন কমিশন এখন গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর বগুড়া-৬ উপ-নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণের কাজ শুরু করবে। একই সঙ্গে, শেরপুর-৩ আসনে ভোটদান বাতিল হওয়ার পর, সেখানে নতুন নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্বও কমিশনের ওপর। শেরপুর-৩-এ জামায়াতের প্রার্থী মৃত্যুর কারণে ভোটদান স্থগিত হয়েছিল।
শেরপুর-৩-এ পুনরায় ভোটের ব্যবস্থা গেজেট ঘোষণার পর ৯০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে, যা বগুড়া-৬ উপ-নির্বাচনের সঙ্গে সমন্বয় করা সম্ভব। উভয় জেলায় নতুন ভোটের প্রস্তুতি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও সময়মত সম্পন্ন হওয়া নিশ্চিত করবে।
প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে, জামায়াত-এ-ইসলামির প্রার্থী সোহেল এবং খালিদুজ্জামান উভয়ই তাদের ভোটের পার্থক্য উল্লেখ করে, বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ আসনে পুনরায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তারা গেজেট ঘোষণার পর শূন্য আসনের জন্য উপ-নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, বগুড়া-৬ শূন্য ঘোষণা হলে, বিএনপি ও তারেকের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে, কারণ উপ-নির্বাচনে প্রতিপক্ষের আক্রমণাত্মক প্রচারণা প্রত্যাশিত। একই সঙ্গে, শেরপুর-৩-এ পুনরায় ভোটের ফলাফলও পার্টিগুলোর কৌশলগত অবস্থানকে প্রভাবিত করতে পারে।
সারসংক্ষেপে, তারেকের বগুড়া-৬ আসন ত্যাগের সিদ্ধান্ত গেজেট প্রকাশের পর শূন্য ঘোষণার দিকে নিয়ে যাবে, এবং ইলেকশন কমিশনকে ৯০ দিনের মধ্যে উপ-নির্বাচন ও শেরপুর-৩-এ পুনরায় ভোটের ব্যবস্থা সম্পন্ন করতে হবে। এই প্রক্রিয়া দেশের সংসদীয় প্রতিনিধিত্বের পুনর্গঠন ও রাজনৈতিক গতিপথে নতুন মোড় আনবে।



