ইংরেজি উইমেন্স সুপার লিগে গত সপ্তাহে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের ফলাফল প্রকাশ পেয়েছে। ম্যানচেস্টার সিটি লেস্টারকে ৬-০ পরাজিত করে শীর্ষে ফিরে এসেছে, চেলসিতে লরেন জেমসের গোল ও সহায়তা দলকে ২-০ দিয়ে লিভারপুলের ওপর জয় নিশ্চিত করেছে, আর এভারটন ওয়েস্ট হ্যামকে ১-০ দিয়ে পরাজিত করে অপ্রত্যাশিত উত্থান বজায় রেখেছে।
ম্যানচেস্টার সিটি লেস্টারের মুখোমুখি হয়ে শৈল্পিক আক্রমণ দেখিয়েছে, যেখানে দলটি মোট ৩১টি শট তৈরি করে তার মধ্যে ১৫টি লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছেছে। এক্সপেক্টেড গোল (xG) ৪.৬৩ ছিল, যা দলের আক্রমণগত আধিপত্যকে নির্দেশ করে। প্রতিপক্ষের ঘরে ৬৬টি স্পর্শ এবং ৬৬০টি পাসের মধ্যে ৬০০টি সফল হওয়ায় পাসের সঠিকতা ৯১% এ পৌঁছেছে।
দলটির ফোরফর্ট—লরেন হেম্প, বান্নি শো, কেরোলিন এবং ভিভিয়ান্নে মিয়েডেমা—প্রতিটি গোলের সঙ্গে যুক্ত ছিল। হেম্প বামফ্ল্যাঙ্কে ১১টি সুযোগ তৈরি করে দুইটি সহায়তা যোগ করেছে। শো তার স্বতন্ত্র হেডার দিয়ে এই মৌসুমের ১৫তম লিগ গোলের স্বাক্ষর রেখেছে। মিয়েডেমা দুইটি গোলের মাধ্যমে তার স্কোরিং ক্ষমতা পুনরায় প্রমাণ করেছে, আর কেরোলিন একক গোলের পাশাপাশি একটি সহায়তা দিয়ে দলের আক্রমণকে সমৃদ্ধ করেছে।
এই পারফরম্যান্সে অ্যান্ড্রে জেগ্লার্টজের কোচিং দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে; তার দলটি দ্রুতগতির, স্বচ্ছন্দ আক্রমণাত্মক শৈলীতে ফিরে এসেছে। শটের পরিমাণ ও পাসের নির্ভুলতা উভয়ই দলকে শীর্ষে ফিরিয়ে এনেছে, যা লেস্টারকে কঠিন অবস্থায় ফেলেছে।
চেলসির লিভারপুলের সঙ্গে ম্যাচে লরেন জেমসের পারফরম্যান্স আলাদা নজরে এসেছে। তিনি প্রথমে কেন্দ্রীয় ফরোয়ার্ড হিসেবে খেলায় প্রভাব ফেলেছেন, পরে উইংয়ে সরে গিয়ে দলকে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে গতি দিয়েছেন। জেমসের গোলের পরে তিনি সজোকে নুসকেনের প্রথম গোলের সহায়তা করে স্কোরবোর্ডে ২-০ বাড়িয়ে দেন।
চেলসির কোচ সোনিয়া বোম্পাস্টরের জন্য এই ম্যাচটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ তিনি গত গ্রীষ্মের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে পা আঘাতের কারণে দীর্ঘ সময়ের জন্য মাঠে উপস্থিত হতে পারেননি। এই ম্যাচে তিনি ষষ্ঠ লিগ স্টার্ট এবং প্রথম পূর্ণ ৯০ মিনিট খেলেছেন, যা তার শারীরিক পুনরুদ্ধারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। তিনি দলের জন্য ফিটনেস বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেছিলেন, “যখন তিনি এই স্তরে পারফর্ম করেন, তিনি স্টার্টিং এক্সিতে প্রথম পছন্দ।”
এভারটন ওয়েস্ট হ্যামের সঙ্গে ১-০ জয় অর্জন করে লিগে অপ্রত্যাশিত উত্থান চালিয়ে যাচ্ছে। একমাত্র গোলটি কঠোর প্রতিরক্ষা ভেঙে এনে অর্জিত হয়, যা দলের আত্মবিশ্বাসকে বাড়িয়ে দেয়। এই জয়টি এভারটনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সপ্তাহের শেষ ম্যাচগুলোতে ম্যানচেস্টার সিটি পরবর্তী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবে, চেলসি লিগের বাকি অংশে লিভারপুলের সঙ্গে পুনরায় মুখোমুখি হবে, আর এভারটন তাদের পরবর্তী প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে লড়াই করবে। এই দলগুলোকে এখনো তাদের ফর্ম বজায় রাখতে এবং শীর্ষে পৌঁছানোর জন্য ধারাবাহিক পারফরম্যান্স বজায় রাখতে হবে।



