বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসের এজেন্ট আফরোজা আব্বাস ঢাকা-৮ আসনের বাতিল ভোটের বৈধতা না হওয়ার অভিযোগ তুলে, নির্বাচন কমিশন ও অফিসারের অসহযোগিতার দোষারোপ করেন। তিনি সোমবার বিকেলে রাজধানীর দক্ষিণ শাহজাহানপুরে অনুষ্ঠিত একটি সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি প্রকাশ করেন।
আফরোজা আব্বাসের মতে, নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশনা সত্ত্বেও বাতিল ভোটের কোনো অংশকে বৈধ করা হয়নি, যা তার মতে নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারত। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই সিদ্ধান্তের ফলে মির্জা আব্বাসের প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা বাড়তে পারত। অতিরিক্তভাবে, তিনি পূর্বে প্রাপ্ত নির্দেশনার ভিত্তিতে প্রক্রিয়ার পুনর্বিবেচনা দাবি করেন।
তিনি নির্বাচনী দায়িত্বের অংশ হিসেবে সব ভোট কেন্দ্র পরিদর্শনের আইনগত অধিকার দাবি করেন এবং এ বিষয়ে তিনি কোনো অননুমোদিত প্রভাব প্রয়োগ করেননি বলে জোর দেন। তার বক্তব্যে তিনি নিজের ভূমিকা কেবল পর্যবেক্ষণ ও তদারকি পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রাখার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি সব কেন্দ্রের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে গিয়ে কোনো প্রকার অননুমোদিত হস্তক্ষেপ করেননি।
বাতিল ভোটের বৈধতা না হওয়ার ফলে মির্জা আব্বাসের ভোটসংখ্যা বৃদ্ধি পেতে পারত, এ বিষয়টি তিনি বিশেষভাবে তুলে ধরেছেন। তিনি যুক্তি দেন যে, যদি বাতিল ভোটগুলো পুনরায় গণনা করা হতো, তবে তার নির্বাচনী ফলাফল উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হতে পারত। সম্ভাব্য ভোটের পার্থক্য তার জয় নিশ্চিত করতে যথেষ্ট হতে পারত।
আফরোজা আব্বাস রিটার্নিং অফিসারের প্রতি অসহযোগিতার অভিযোগও তোলেন। তিনি জানান, রিটার্নিং অফিসার এবং অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করতে ব্যর্থ হওয়ায় নির্বাচন সংক্রান্ত নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। বিশেষ করে, ভোটের গননা ও রেকর্ড সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় সহায়তা না পাওয়া উল্লেখযোগ্য সমস্যা হিসেবে উন্মোচিত হয়েছে।
অফিসারদের সহযোগিতার অভাবের ফলে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার কিছু ধাপ সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়নি, এ কথাটি তিনি জোর দিয়ে বলেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই ধরনের ত্রুটি ভবিষ্যতে নির্বাচনের ফলাফলে অনিশ্চয়তা বাড়াতে পারে। ফলে, ভোটারদের বিশ্বাস ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এই পরিস্থিতি বিবেচনা করে, আফরোজা আব্বাস সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেন যে, ভোটগ্রহণের সময় সকল প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত হওয়া উচিত এবং এর জন্য যথাযথ তদারকি প্রয়োজন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে নির্বাচনের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।
তিনি বিশেষভাবে নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিষয়টি গভীরভাবে তদন্তের অনুরোধ করেন। তার মতে, তদন্তের ফলাফল যদি ভোটের বৈধতা ও গণনার পদ্ধতি সম্পর্কে স্পষ্টতা প্রদান করে, তবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি জনসাধারণের আস্থা পুনরুদ্ধার হবে। তিনি একটি স্বতন্ত্র তদন্ত কমিটি গঠনের প্রস্তাবও করেন।
এ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন ও রিটার্নিং অফিসার থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে দ্রুত ব্যাখ্যা ও সমাধান চাওয়া হচ্ছে, যাতে ভোটগ্রহণের ফলাফল নিয়ে উত্থাপিত প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়। এই অনুরোধের প্রতি দ্রুত সাড়া না দিলে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়



