ফ্র্যাক্টাল অ্যানালিটিক্স, ভারতের প্রথম এআই‑ভিত্তিক কোম্পানি যা শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে, ২০২৬ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে আইপিও চালু করে। শেয়ারগুলো প্রাথমিকভাবে প্রতি শেয়ার ₹৮৭৬-এ লেনদেন হয়, যা ইস্যু মূল্যের ₹৯০০‑এর নিচে। বিক্রয় সেশনের শেষের দিকে দাম আরও হ্রাস পেয়ে বন্ধের সময় ₹৮৭৩.৭০-এ পৌঁছায়, ফলে ইস্যু মূল্যের তুলনায় প্রায় ৭% কমে যায়।
এই মূল্যভিত্তিক লেনদেনের ফলে কোম্পানির মোট বাজার মূলধন প্রায় ₹১৪৮.১ বিলিয়ন, যা প্রায় $১.৬ বিলিয়ন সমান। ইস্যু মূল্যের নিচে বন্ধ হওয়া বাজারের প্রত্যাশা ও বিনিয়োগকারীর সতর্কতার সূচক হিসেবে দেখা হচ্ছে, বিশেষ করে সাম্প্রতিক সফটওয়্যার শেয়ারগুলোর বড় বিক্রয়ের পর।
ফ্র্যাক্টালের শেয়ার মূল্য তার সর্বশেষ প্রাইভেট-সেক্টর মূল্যায়নের তুলনায় কমে গেছে। জুলাই ২০২৫-এ কোম্পানি দ্বিতীয় পর্যায়ের বিক্রয়ে প্রায় $১৭০ মিলিয়ন সংগ্রহ করে, তখন তার মূল্যায়ন $২.৪ বিলিয়ন ছিল। জানুয়ারি ২০২২-এ $৩৬০ মিলিয়ন তহবিল সংগ্রহের পর কোম্পানি $১ বিলিয়ন অতিক্রম করে, ফলে ভারতের প্রথম এআই ইউনিকর্ন হিসেবে স্বীকৃত হয়।
ফ্র্যাক্টালের আইপিও ভারতের এআই কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দেশটি এআই প্রযুক্তির বিকাশ ও বিনিয়োগের কেন্দ্রবিন্দু হতে চায়, এবং এই লক্ষ্যে বিশ্ববিখ্যাত এআই সংস্থা যেমন ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিক দেশের সরকার, বড় প্রতিষ্ঠান এবং ডেভেলপার সম্প্রদায়ের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সংযোগ স্থাপন করছে।
এই সপ্তাহে দিল্লিতে এআই ইম্প্যাক্ট সামিটের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে বৈশ্বিক প্রযুক্তি নেতৃবৃন্দ, নীতিনির্ধারক এবং শিল্পের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা একত্রিত হন। সামিটটি ভারতের এআই ইকোসিস্টেমকে আন্তর্জাতিক দৃষ্টিতে তুলে ধরার পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্য রাখে।
ফ্র্যাক্টালের আইপিও প্রক্রিয়ায় মূলধন সংগ্রহের পরিমাণে উল্লেখযোগ্য সমন্বয় করা হয়। প্রাথমিকভাবে পরিকল্পিত ₹৪৯ বিলিয়ন (প্রায় $৫৪০ মিলিয়ন) সংগ্রহের লক্ষ্য থেকে ব্যাংকিং পরামর্শের পরিমাণে ৪০% বেশি কমিয়ে, শেষ পর্যন্ত ₹২৮.৩৪ বিলিয়ন (প্রায় $৩১২.৫ মিলিয়ন) সংগ্রহ করা হয়। এই রক্ষণশীল মূল্য নির্ধারণের পেছনে বাজারের অস্থিরতা ও বিনিয়োগকারীর ঝুঁকি সচেতনতা ছিল।
২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত ফ্র্যাক্টাল অ্যানালিটিক্স মূলত ডেটা অ্যানালিটিক্স সফটওয়্যার সরবরাহ করে, যা আর্থিক সেবা, খুচরা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে বড় প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্য করে। কোম্পানি ২০২২ সালে এআই প্রযুক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে, মেশিন লার্নিং ও জেনারেটিভ এআই সমাধানকে মূল পণ্য হিসেবে যুক্ত করে। এর আয়ের বেশিরভাগ অংশ যুক্তরাষ্ট্রসহ বিদেশি বাজার থেকে আসে, যা আন্তর্জাতিক গ্রাহক ভিত্তি শক্তিশালী করে।
শেয়ার বাজারে ফ্র্যাক্টালের মৃদু সূচনা বিনিয়োগকারীদের এআই সেক্টরের প্রতি সতর্ক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে। যদিও কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদী বৃদ্ধির সম্ভাবনা উচ্চ, তবে বর্তমান বাজারের অস্থিরতা ও উচ্চ মূল্যায়নের তুলনায় শেয়ার মূল্যের হ্রাস ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে। বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দেন যে ভবিষ্যতে কোম্পানির আয় বৃদ্ধি ও এআই পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা শেয়ার মূল্যের স্থিতিশীলতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সারসংক্ষেপে, ফ্র্যাক্টাল অ্যানালিটিক্সের আইপিও প্রথম দিনই ইস্যু মূল্যের নিচে বন্ধ হওয়া ভারতের এআই শিল্পের বিকাশে বিনিয়োগকারীর সতর্কতা ও বাজারের পুনর্গঠনকে নির্দেশ করে। কোম্পানির আন্তর্জাতিক গ্রাহক ভিত্তি ও এআই পণ্যের পোর্টফোলিও দীর্ঘমেয়াদে মূল্য সৃষ্টি করতে পারে, তবে শেয়ার মূল্যের স্বল্পমেয়াদী অস্থিরতা ভবিষ্যৎ তহবিল সংগ্রহ ও স্টক পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলতে পারে।



