ভারতে এই সপ্তাহে চার দিনের AI ইম্প্যাক্ট সামিট অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে বিশ্বব্যাপী এআই ল্যাব ও বড় টেক কোম্পানির শীর্ষ নির্বাহীরা এবং রাষ্ট্রনায়কগণ অংশগ্রহণ করছেন। সমিটের মূল লক্ষ্য দেশীয় এআই ইকোসিস্টেমকে ত্বরান্বিত করা এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করা।
সমিটের আয়োজকরা মোট ২৫ লক্ষ দর্শকের প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন, যা ভারতের প্রযুক্তি ইভেন্টের ইতিহাসে অন্যতম বড় সংখ্যা। এই বিশাল উপস্থিতি স্থানীয় স্টার্টআপ, গবেষক এবং শিল্পের মধ্যে নেটওয়ার্কিংকে ত্বরান্বিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গুগল সিইও সুন্দর পিচাই, ওপেনএআই সিইও স্যাম অল্টম্যান, অ্যানথ্রপিক সিইও ডারিও আমোডেই, রিলায়েন্স চেয়ারম্যান মুখেশ অম্বানি এবং গুগল ডিপমাইন্ড সিইও ডেমিস হ্যাসাবিস এই গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্টে উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতি এআই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মাইক্রোসফট, এনভিডিয়া এবং ক্লাউডফ্লেয়ারসহ অন্যান্য বড় টেক কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তারাও সমিটে অংশ নেন। এই সংস্থাগুলো এআই গবেষণা, ক্লাউড অবকাঠামো এবং নিরাপত্তা সমাধানে সহযোগিতা বাড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
আয়োজকরা উল্লেখ করেছেন যে এআই ইম্প্যাক্ট সামিটের মাধ্যমে ভারতকে এআই গবেষণা ও উন্নয়নের গ্লোবাল হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এআই স্টার্টআপের জন্য তহবিল, প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করা হবে।
এআই শিল্পের দ্রুত বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনাও উঁচুতে রয়েছে। বিশেষ করে ডেটা সায়েন্স, মেশিন লার্নিং এবং রোবোটিক্স ক্ষেত্রে দক্ষ পেশাদারদের চাহিদা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
সোমবারের শেষ দিকে নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী এবং ফরাসি রাষ্ট্রপতি এম্যানুয়েল ম্যাক্রন একসঙ্গে সমিটে ভাষণ দেবেন। দুজন নেতার সমন্বিত বক্তব্যে এআই ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং নৈতিক মানদণ্ডের ওপর জোর দেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতায় ভারত ও ফ্রান্সের যৌথ গবেষণা প্রকল্প, ডেটা শেয়ারিং চুক্তি এবং এআই নীতিমালা গঠনে সমন্বয় নিয়ে আলোচনা হবে। এই উদ্যোগগুলো উভয় দেশের প্রযুক্তি শিল্পকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।
সমিটের সময় বিভিন্ন প্যানেল ও কর্মশালায় এআই নীতি, নিরাপত্তা, এবং সামাজিক প্রভাব নিয়ে গভীর আলোচনা হবে। অংশগ্রহণকারীরা বাস্তব উদাহরণ এবং কেস স্টাডির মাধ্যমে এআই প্রযুক্তির বাস্তবায়ন পদ্ধতি শিখতে পারবেন।
অংশগ্রহণকারী স্টার্টআপ এবং গবেষকরা বিনিয়োগকারী ও বড় কোম্পানির সঙ্গে সরাসরি মিটিংয়ের সুযোগ পাবেন, যা ভবিষ্যতে যৌথ প্রকল্পের ভিত্তি গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। এ ধরনের সংযোগের মাধ্যমে ভারতীয় এআই ইকোসিস্টেমের আন্তর্জাতিক দৃশ্যমানতা বাড়বে।
সামিটের সমাপ্তি শেষে অংশগ্রহণকারীরা এআই প্রযুক্তির নৈতিক ব্যবহার, ডেটা গোপনীয়তা এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামো নিয়ে সম্মতিপূর্ণ রূপরেখা তৈরি করার লক্ষ্য রাখবেন। এই রূপরেখা দেশীয় নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
সার্বিকভাবে, চার দিনের AI ইম্প্যাক্ট সামিট ভারতকে এআই ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



