রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় পদ্মা নদীর কলাবাগন এলাকায় আজ দুপুরে ‘জাটকা ইলিশ রক্ষা ও সংরক্ষণ‑২০২৬’ নামক মৎস্য সংরক্ষণ অভিযান চালু হয়। মৎস্য অধিদপ্তরের সিনিয়র অফিসার মো. আনোয়ারুল ইসলাম ও দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ ত্রিনাথ সাহা নেতৃত্বে দলটি পরিত্যক্ত জাল ও অবৈধ শিকারের সন্ধান চালায়।
পরিদর্শনের সময় দলটি প্রায় এক লাখ মিটার দৈর্ঘ্যের পরিত্যক্ত কারেন্ট জাল উদ্ধার করে। অতিরিক্তভাবে ৩০০ মিটার অতিরিক্ত জাল এবং মোট পাঁচ কিলোগ্রাম জাটকা ইলিশও জব্দ করা হয়। জালটি নদীর প্রবাহে আটকে থাকা অবস্থায় পাওয়া যায়, যা মাছের প্রজনন ও পরিবেশের ক্ষতি করে বলে অনুমান করা হয়।
অভিযানের অংশ হিসেবে ২০ বছর বয়সী শাহ আলম শেখ, হিরু শেখের পুত্র, যাকে স্থানীয় সূত্রে জটিল জাল ব্যবহার করে ইলিশ শিকারের অভিযোগে ধরা পড়ে, তাকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় আদালতে পাঠিয়ে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
গোয়ালন্দের মৎস্য অফিসার মো. আনোয়ারুল ইসলাম জানিয়ে বলেন, মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন অনুসারে নদীর জলে অবৈধ জাল ও শিকারের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হয়। তিনি উল্লেখ করেন, জালটি ধ্বংস করে পুনরায় ব্যবহার রোধ করা হয়েছে এবং গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ ত্রিনাথ সাহা যোগ করেন, জালটি পরিবেশগত ক্ষতি এড়াতে অবিলম্বে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে এমন অবৈধ কার্যকলাপ রোধে নজরদারি বাড়ানো হবে এবং সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগে শূন্য সহনশীলতা বজায় থাকবে।
জব্দকৃত পাঁচ কিলোগ্রাম জাটকা ইলিশ স্থানীয় একটি এতিমখানায় দান করা হয়েছে, যেখানে শিশুরা এই মাছের পুষ্টিকর মূল্য উপভোগ করতে পারবে। জাল ও ধ্বংসকৃত সামগ্রীগুলোকে পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপাদান হিসেবে বিবেচনা না করে সম্পূর্ণভাবে নষ্ট করা হয়েছে, যাতে পুনরায় ব্যবহার না হয়।
‘জাটকা ইলিশ রক্ষা ও সংরক্ষণ‑২০২৬’ অভিযানটি মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইনের অধীনে বার্ষিকভাবে অনুষ্ঠিত হয়। এই উদ্যোগের লক্ষ্য নদীর স্বাভাবিক জৈবিক বৈচিত্র্য রক্ষা, অবৈধ শিকারের হার কমানো এবং স্থানীয় মৎস্যজীবীদের টেকসই উপার্জন নিশ্চিত করা। গোয়ালন্দে এই বছরের প্রথম বড় অভিযান হিসেবে উল্লেখযোগ্য ফলাফল অর্জিত হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত শাহ আলম শেখের মামলা এখন আদালতে চলমান, যেখানে প্রমাণের ভিত্তিতে শাস্তি নির্ধারিত হবে। মৎস্য সংরক্ষণ সংস্থা ও স্থানীয় প্রশাসন ভবিষ্যতে একই রকম অবৈধ কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। এই ধরনের অভিযান নদীর পরিবেশ রক্ষায় এবং স্থানীয় জনগণের স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইনের ধারা ৪১ অনুযায়ী অবৈধ জাল ব্যবহারকারী ও শিকারের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং জরিমানা আরোপের বিধান রয়েছে। আদালতে প্রমাণ উপস্থাপনের পর শাস্তি নির্ধারিত হবে, যা অন্য মৎস্যজীবীদের জন্য রূপকথা হিসেবে কাজ করবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা এই অভিযানের প্রতি ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। অনেকেই নদীর স্বচ্ছতা ও মাছের সংখ্যা বাড়ার আশায় আশাবাদী প্রকাশ করেছেন এবং ভবিষ্যতে আরও কঠোর নজরদারি চেয়েছেন। একই সঙ্গে, তরুণ মৎস্যজীবীরা বৈধ পদ্ধতিতে মাছ ধরা শিখতে প্রশিক্ষণ কর্মশালার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেছেন।



