গুরুত্বপূর্ণ শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করতে গুলশানের বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি আজ বিকেলে উপস্থিত হন। এ সাক্ষাৎকারে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ সংক্রান্ত পরিকল্পনা ও নতুন প্রস্তাবনা সম্পর্কে জানালেন।
গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপের সময় গনি উল্লেখ করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ সংসদের শপথকক্ষে অনুষ্ঠিত হবে, আর মন্ত্রিসভা সদস্যদের শপথ সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে। এই ব্যবস্থা পূর্বে ঘোষিত সময়সূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
বিএনপির প্রতিনিধিরা শপথের স্থান ও সময়সূচি নিয়ে কিছু অতিরিক্ত পরামর্শ উপস্থাপন করেন, যা গনি স্বীকার করে জানান যে সরকার এসব প্রস্তাবনা বিবেচনা করবে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পরিবর্তন আনতে সরকারী দিক থেকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হয়নি।
12 ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে 300টি আসনের মধ্যে 299টি আসনে ভোট গ্রহণ করা হয়। পরদিন ইলেকশন কমিশন 297টি আসনের ফলাফল ঘোষণার মাধ্যমে চূড়ান্ত করে, তবে চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের গেজেট প্রকাশ না হওয়ার কারণ উচ্চ আদালতের নির্দেশনা।
বিএনপি 297টি ঘোষিত আসনের মধ্যে 209টি জয়লাভ করে, ফলে পার্লামেন্টে সর্ববৃহৎ দল হিসেবে তার অবস্থান নিশ্চিত হয়। দুইটি ফলাফল স্থগিত থাকা আসনে বিএনপির প্রার্থীরা অগ্রগামী অবস্থায় রয়েছে, যা ভবিষ্যৎ ভোটে পার্লামেন্টের সংখ্যাগণনা বাড়াতে পারে।
বিএনপির জোটের অংশীদার তিনটি আসনে জয়লাভ করে, আর জামায়াতে ইসলামী 68টি আসনে বিজয়ী হয়। 11-দলীয় নির্বাচনী জোটের অন্যান্য অংশীদার মোট 9টি আসনে সিট পায়। এই ফলাফলগুলোকে ভিত্তি করে নতুন সরকারের গঠন ও নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়বে।
শপথ অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি প্রায় ১,২০০ জন অতিথি উপস্থিত থাকার কথা জানানো হয়েছে, যা শপথের মর্যাদা ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বাড়াবে। অনুষ্ঠানের প্রায় ১৪ ঘণ্টা আগে এই অতিথি তালিকা চূড়ান্ত করা হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল গতকাল সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ মঙ্গলবার সকাল ১০ টায় হবে, আর মন্ত্রিসভা সদস্যদের শপথ একই দিনের বিকেল ৪ টায় অনুষ্ঠিত হবে। এই সময়সূচি পূর্বে ঘোষিত পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
শপথ অনুষ্ঠানে দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও আমন্ত্রণ পেয়েছেন, যা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের দিক থেকে নতুন সরকারের স্বীকৃতি ও সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
শপথের প্রস্তুতি ও সময়সূচি সম্পর্কে স্পষ্টতা পাওয়া গন্তব্যে, রাজনৈতিক দলগুলো এখন পার্লামেন্টে তাদের ভূমিকা গঠন ও নীতি নির্ধারণের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। শপথের পর নতুন সরকারের গঠন, মন্ত্রিপরিষদ গঠন ও আইনসভার কার্যক্রমের সূচনা হবে দেশের রাজনৈতিক দিগন্তে নতুন অধ্যায়ের সূচনা।
বিএনপি ও অন্যান্য দলগুলোর শপথের পরবর্তী পদক্ষেপ, জোট গঠন ও নীতি নির্ধারণের প্রক্রিয়া দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে। সরকার ও বিরোধী দলগুলোর সমন্বিত কাজের মাধ্যমে শীঘ্রই পার্লামেন্টের কার্যক্রম শুরু হবে, যা দেশের শাসনব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা বাড়াবে।



