কোপেনহেগেন আন্তর্জাতিক ডকুমেন্টারি চলচ্চিত্র উৎসব (CPH:DOX) ১৬ থেকে ১৯ মার্চের মধ্যে ডেনমার্কের রাজধানীতে ইন্ডাস্ট্রি স্ট্র্যান্ডের জন্য একটি নতুন প্রোগ্রাম চালু করেছে। এই প্রোগ্রামটি CPH:DOX Summit এবং CPH:Conference দুইটি মূল অংশে বিভক্ত, যেখানে শিল্পের ভবিষ্যৎ গঠনকারী প্রশ্নগুলোকে কেন্দ্র করে আলোচনা হবে।
প্রোগ্রামের মূল লক্ষ্য হল রাজনৈতিক চাপ, প্ল্যাটফর্মের প্রভাব এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ‘সত্যের অবকাঠামো’ কীভাবে রক্ষা করা যায় তা বিশ্লেষণ করা। আয়োজনকারীরা জানিয়েছেন, এই বছর তারা স্বাধীন কণ্ঠস্বরের জন্য নিরাপদ স্থান তৈরি করার দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন, যাতে অ্যালগরিদমিক দমন থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
সামিটের মূল থিম ‘Safe Havens’—অর্থাৎ এমন স্বাধীন স্থান যেখানে কণ্ঠস্বরগুলো অ্যালগরিদমের হস্তক্ষেপ বা বাহ্যিক চাপে বাধা না পেয়ে প্রবাহিত হতে পারে। এই ধারণা অনুসারে, অংশগ্রহণকারীরা কিভাবে প্রযুক্তিগত বাধা অতিক্রম করে স্বাধীন প্রকাশের সুযোগ তৈরি করতে পারে তা নিয়ে কর্মশালা ও প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
কনফারেন্সের অধিবেশনগুলো নৈতিকতা, সোনিক সিনেমা এবং ভবিষ্যৎ জোটের সম্ভাবনা নিয়ে গভীর বিশ্লেষণ করবে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে সৃজনশীল টুল হিসেবে ব্যবহার করার পদ্ধতি এবং তার নৈতিক সীমা নির্ধারণের ওপর আলোকপাত করা হবে।
প্রোগ্রামে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র নির্মাতা ও শিল্প নেতাদের একটি বিশাল তালিকা অন্তর্ভুক্ত। জন উইলসন, সারা দোসা, সিনেড ওশিয়া, পোহ সি তেং, জো বিনি, ইর্মা দিমিত্রাজে, বেয়া ওয়াংগোন্দু, ট্রেসি রেক্টর, অ্যাডাম খালিল, নাথান গ্রসম্যান, হিরা নাবি এবং কীথ উইলসন সহ আরও বহু নাম উপস্থিত থাকবে। এই ব্যক্তিগণ তাদের নিজস্ব অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি শেয়ার করে শিল্পের বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলোকে আলোকিত করবেন।
ইন্ডাস্ট্রি ও প্রশিক্ষণ প্রধান মারা গৌর্ড-মার্কেডো উল্লেখ করেছেন, এই সমাবেশটি শিল্পের গভীর পরিবর্তন ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়ার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। তিনি বলেন, এই বছরের প্রোগ্রাম কনগ্লোমারেটের কন্টেন্টের ওপর প্রভাবকে প্রশ্নবিদ্ধ করে, স্বাধীন কণ্ঠস্বরের জন্য নিরাপদ স্থান নিশ্চিত করে এবং এআইকে সৃজনশীল সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করার পথ দেখায়।
সামিটের থিম ‘মিডিয়া সারভাইভরিটি: পুনর্বিবেচনা, কল্পনা, পুনর্নির্ধারণ’ হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে। এটি ইউরোপের বর্তমান মিডিয়া পরিবেশে স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধীনতা রক্ষার জন্য একটি কৌশলগত প্রতিক্রিয়া হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। আয়োজনকারীরা এটিকে ইউরোপের মিডিয়া নীতি ও প্ল্যাটফর্মের আধিপত্যের বিরুদ্ধে একটি প্রতিরোধের রূপে বর্ণনা করেছেন।
এই ইভেন্টের মাধ্যমে চলচ্চিত্র নির্মাতারা অ্যালগরিদমিক সেন্সরশিপকে এড়িয়ে চলার কৌশল শিখতে পারবেন এবং নতুন টুল ও নেটওয়ার্কের মাধ্যমে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ পাবে। এছাড়া, নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এআই ব্যবহার কীভাবে সঠিকভাবে করা যায় তা নিয়ে বাস্তবিক নির্দেশনা প্রদান করা হবে।
উদ্যোগের লক্ষ্য হল শিল্পের ভবিষ্যৎ গঠনে সৃজনশীলতা ও স্বাধীনতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া, যাতে চলচ্চিত্র নির্মাতারা প্রযুক্তিগত বাধা ছাড়াই তাদের গল্প বলতে পারে। এই ধরনের আলোচনা ও কর্মশালা শিল্পের নতুন দৃষ্টিকোণ উন্মোচন করবে এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার পথ সুগম করবে।
কোপেনহেগেন ডক ফেস্টের এই ইন্ডাস্ট্রি প্রোগ্রামটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র সম্প্রদায়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ তৈরি করবে, যেখানে রাজনৈতিক ও প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় সমন্বিত সমাধান খোঁজা হবে। অংশগ্রহণকারীরা নতুন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে, জ্ঞান ভাগাভাগি করতে এবং স্বাধীন কণ্ঠস্বরের জন্য নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হবেন।
চলচ্চিত্রপ্রেমী ও শিল্প পেশাজীবীরা এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে নতুন ধারণা ও কৌশল শিখতে পারেন, যা তাদের কাজকে আরও স্বতন্ত্র ও প্রভাবশালী করে তুলবে। তাই, আসন্ন CPH:DOX Summit ও Conference-এ অংশগ্রহণের পরিকল্পনা করা সকলের জন্য এই ইভেন্টটি অনুপ্রেরণার উৎস হতে পারে।



