28 C
Dhaka
Monday, February 16, 2026
Google search engine
Homeবিনোদনঅস্ট্রিয়ার ‘ফোর মাইনাস থ্রি’ চলচ্চিত্রের বার্লিন ফেস্টিভ্যালে বিশ্বপ্রদর্শনী

অস্ট্রিয়ার ‘ফোর মাইনাস থ্রি’ চলচ্চিত্রের বার্লিন ফেস্টিভ্যালে বিশ্বপ্রদর্শনী

অস্ট্রিয়ার পরিচালক অ্যাড্রিয়ান গয়িগিঙ্গার পরিচালিত ‘ফোর মাইনাস থ্রি’ (Vier Minus Drei) বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্যানোরামা বিভাগে বিশ্বপ্রদর্শনী পেল। চলচ্চিত্রটি বাস্তব ঘটনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যেখানে এক ক্লাউন পরিবারকে গাড়ি দুর্ঘটনায় স্বামী ও দুই সন্তান হারাতে হয়।

বিবরণী অনুযায়ী, গল্পের মূল চরিত্র বারবারা প্যাচল-এবারহার্টের (Barbara Pachl‑Eberhart) জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে রচিত, যার একই নামের বেস্টসেলিং বই থেকে চিত্রনাট্য রচিত হয়েছে। বারবারা ও তার সঙ্গী হেলি (Robert Stadlober অভিনয়) পেশাদার ক্লাউন, দুজন সন্তানসহ বিকল্পধর্মী জীবনযাপন করতেন, যখন এক রাতের গাড়ি দুর্ঘটনা তাদের পরিবারকে ধ্বংস করে দেয়।

চলচ্চিত্রে বারবারার জীবনের অন্ধকার মুহূর্তের পাশাপাশি তার হাসি, আশা এবং মানবিকতার প্রতি বিশ্বাসের সংগ্রামকে সময়ের ছাঁকনায় উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রধান চরিত্রে ভ্যালেরি প্যাচনার (Valerie Pachner) অভিনয়, পাশাপাশি স্টেফানি রেইনস্পারগার, হ্যানো কোফ্লার এবং রোনাল্ড জেহ্রফেল্ডের সমর্থন রয়েছে।

গয়িগিঙ্গার প্রথমে স্ক্রিপ্টের সংক্ষিপ্তসারটি তার দ্বিতীয় সন্তান জন্মের সময় পড়ে, তখন তিনি মনে করেন বিষয়টি তার জন্য খুবই তীব্র হতে পারে। তবে প্রথম খসড়া পড়ার পর তিনি উপলব্ধি করেন যে ছবিটি মূলত আশা ও পুনর্গঠনের গল্প, যা দর্শকদের কাঁদতে বাধ্য করবে না, বরং জীবনের কঠিন মুহূর্তে হাসির শক্তি দেখাবে।

প্রযোজনা দলে পিটার ওয়াইল্ডলিং, গেরিট ক্লেইন, মার্টিন ফেইল এবং ডেভিড স্টোলিংগার অন্তর্ভুক্ত। ছবির বিশ্ব বিক্রয় কাজটি বেটা সিনেমা পরিচালনা করে, আর উৎপাদন দায়িত্বে রয়েছে অস্ট্রিয়ার ২০১০ এন্টারটেইনমেন্ট এবং জার্মানির গিগ্যান্টেন ফিল্ম। জার্মানিতে আলামোড ফিল্ম এবং অস্ট্রিয়ায় পলিফিল্ম ছবির বিতরণ সংস্থা হিসেবে কাজ করবে।

‘ফোর মাইনাস থ্রি’ চলচ্চিত্রের কাঠামো সময়ের লাফের মাধ্যমে গল্পকে সাজিয়ে, দর্শকদের বারবারার জীবনের উত্থান-পতন অনুসরণ করতে দেয়। ক্লাউন হিসেবে তার পেশা এবং ব্যক্তিগত দুঃখের মিশ্রণটি মানবিক দিক থেকে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে, যা কেবলমাত্র বেদনাই নয়, পুনর্নির্মাণের সম্ভাবনাও তুলে ধরে।

উৎসবের প্যানোরামা প্রোগ্রামে এই চলচ্চিত্রের অন্তর্ভুক্তি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রপ্রেমীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বার্লিন ফেস্টিভ্যালে উপস্থিত দর্শক ও শিল্প পেশাজীবীরা ছবির থিম, অভিনয় এবং পরিচালনার পদ্ধতি নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য প্রকাশ করেছেন। গয়িগিঙ্গার ক্লাউন শিল্পের সূক্ষ্মতা ও মানবিক দিকের সংযোগকে তুলে ধরতে চেয়েছেন, যা চলচ্চিত্রের মূল বার্তা হিসেবে উঠে এসেছে।

চলচ্চিত্রের সঙ্গীত, চিত্রনাট্য এবং দৃশ্যমান উপাদানগুলো সমন্বিতভাবে একটি সমন্বিত অভিজ্ঞতা তৈরি করে, যেখানে হাসি ও কান্নার মিশ্রণটি দর্শকের হৃদয়ে গভীর প্রভাব ফেলে। গয়িগিঙ্গার উল্লেখ করেন, “কোনো দর্শক ১২০ মিনিটের জন্য কেবল কাঁদতে চায় না; তারা আশা ও পুনর্জন্মের গল্পও চান।” এই দৃষ্টিকোণ থেকে চলচ্চিত্রটি শুধুমাত্র দুঃখের বর্ণনা নয়, বরং মানবিক শক্তির উদযাপন হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।

‘ফোর মাইনাস থ্রি’ ভবিষ্যতে জার্মানি ও অস্ট্রিয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে মুক্তি পাবে, যেখানে আলামোড ফিল্ম ও পলিফিল্মের বিতরণ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বৃহত্তর দর্শকের কাছে পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে। চলচ্চিত্রটি ক্লাউন শিল্পের ঐতিহ্যকে আধুনিক সামাজিক সমস্যার সঙ্গে যুক্ত করে, যা দর্শকদের নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে জীবন ও শিল্পের সংযোগ বুঝতে সাহায্য করবে।

এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে গয়িগিঙ্গার এবং তার দল মানবিক দুঃখের মুখে হাসির শক্তি কীভাবে কাজ করে তা পুনরায় সংজ্ঞায়িত করতে চেয়েছেন। বার্লিন ফেস্টিভ্যালে এই কাজের স্বীকৃতি, অস্ট্রিয়ান ও জার্মান চলচ্চিত্র শিল্পের সহযোগিতা এবং বাস্তব ঘটনার ভিত্তিতে তৈরি গল্পের সমন্বয়, ভবিষ্যতে অনুরূপ প্রকল্পের জন্য একটি মডেল হিসেবে কাজ করবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Hollywood Reporter – Movies
বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক
AI-powered বিনোদন content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments