জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, রমজান মাসের আগমনের প্রস্তুতি হিসেবে জানুয়ারি মাসে দেশীয় বাজারে প্রায় ৯,৭৭৪ কোটি টাকার রোজা পণ্য প্রবেশ করানো হয়েছে। এই পণ্যের মোট ওজন প্রায় ১,৫৬০,৬৯০ টন, যা দেশের খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ যোগ করেছে।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের মাধ্যমে এই পণ্যের অধিকাংশই দেশে পৌঁছেছে, যার ফলে রমজানকালে মূল খাদ্যদ্রব্যের ঘাটতি কমে এবং মূল্য স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে। ভোজ্য তেল, চিনি, ছোলা, ডাল, খেজুর এবং বিভিন্ন মশলা সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বিশাল পরিমাণ আমদানি করা হয়েছে।
খেজুরের ক্ষেত্রে জানুয়ারিতে মোট ২৬,৫১৪ মেট্রিক টন পণ্য প্রবেশ করানো হয়েছে। এর মধ্যে ৯৮০ মেট্রিক টন প্যাকেজড খেজুরের মূল্য ৩০ কোটি ৪৪ লাখ টাকা, ২৫,২৬৩ মেট্রিক টন অন্যান্য খেজুরের মূল্য ৫৪২ কোটি ২৮ লাখ টাকা, এবং অতিরিক্ত ২৭০ মেট্রিক টন খেজুরের মূল্য ৬ কোটি ৫ লাখ টাকা।
গুঁড়ো দুধের আমদানি ও উল্লেখযোগ্য। একাধিক এইচএস কোডের অধীনে ৫,৪৪৪ মেট্রিক টন গুঁড়ো দুধের মূল্য ১৭১ কোটি ৭২ লাখ টাকা, ৭,৭৮০ মেট্রিক টন (২০০ কেজি প্যাক) গুঁড়ো দুধের মূল্য ৩৫০ কোটি ১২ লাখ টাকা, পাশাপাশি ২৬ মেট্রিক টন গুঁড়ো দুধের মূল্য ১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা এবং ৯ মেট্রিক টন গুঁড়ো দুধের মূল্য ৬ লাখ টাকা।
ছোলার ক্ষেত্রে ৯৫,৮৭০ মেট্রিক টন পণ্য ৮১০ কোটি ৮৮ লাখ টাকায় আমদানি করা হয়েছে। মসুর ডালের মোট ওজন ১,১৯,৯৪২ মেট্রিক টন, যার মূল্য ৯৪৭ কোটি ২৮ লাখ টাকা, এবং মটরের ১৩,৭২৮ মেট্রিক টন পণ্য ৬৩ কোটি ২৮ লাখ টাকায় বাজারে এসেছে।
রসুনের আমদানি ৭,৭৪৩ মেট্রিক টন, যার মূল্য ৯৬ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, আর অতিরিক্ত মটরের ২০,৬৩৯ মেট্রিক টন পণ্য ৯৪ কোটি ৯১ লাখ টাকায় সরবরাহ করা হয়েছে। এই পরিমাণের গৃহস্থালির চাহিদা পূরণে রমজানকালে রসুন ও মটরের দাম স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করা যায়।
মশলাজাতীয় পণ্যের তালিকায় ১৭৮ মেট্রিক টন গোলমরিচ ৯ কোটি ৬৬ লাখ টাকায়, ১৩ মেট্রিক টন মরিচ ৫৫ লাখ টাকায়, ১,৫৪২ মেট্রিক টন দারুচিনি ৩২ কোটি ৮৪ লাখ টাকায়, ২১২ মেট্রিক টন লবঙ্গ ১০ কোটি ৫৬ লাখ টাকায়, ৮৯ মেট্রিক টন এলাচ ১৬ কোটি ৭২ লাখ টাকায়, ২৪৩ মেট্রিক টন জিরা ১০ কোটি ৫৯ লাখ টাকায়, ১৪০ মেট্রিক টন হলুদ ২ কোটি ৪৪ লাখ টাকায় এবং ৫৬ মেট্রিক টন সুগন্ধি মশলা আজওয়াইন ৮১ লাখ টাকায় আমদানি করা হয়েছে। এই মশলাগুলি রমজানের খাবারের স্বাদ বাড়াবে এবং বাজারে সরবরাহের ঘাটতি কমাবে।
শস্যের ক্ষেত্রে ৮,২৫,৩০৯ মেট্রিক টন গম ২,৮৪১ কোটি ৯০ লাখ টাকায় এবং ৭৭,৩২৫ মেট্রিক টন চাল ৪৩৭ কোটি ৩২ লাখ টাকায় আমদানি করা হয়েছে। এছাড়া ১৭ মেট্রিক টন (৯৪০ কেজি) চাল ১৮ লাখ টাকায় বাজারে এসেছে। শস্যের এই পরিমাণ রমজানকালে রুটির ও ভাতের চাহিদা মেটাতে যথেষ্ট হবে।
ভোজ্য তেলের ক্ষেত্রে ৭৭,৪৬০ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল ১,১৩০ কোটি ৯ লাখ টাকায় এবং ১ মেট্রিক টন রিফাইন্ড সয়াবিন তেল ৯ লাখ টাকায় সরবরাহ করা হয়েছে। তেলজাত পণ্যের এই বড় পরিমাণের আমদানি রমজানের খাবার প্রস্তুতিতে তেল মূল্যের অস্থিরতা কমাতে সহায়তা করবে।
বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, রমজান মৌসুমে এই পরিমাণের আমদানি সরবরাহ শৃঙ্খলকে মজবুত করবে এবং মৌসুমী মূল্য বৃদ্ধি রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে দীর্ঘমেয়াদে গুদামজাতকরণ ও লজিস্টিক্সের দক্ষতা উন্নত না হলে, চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সংরক্ষণ সমস্যার ঝুঁকি দেখা দিতে পারে।
ভবিষ্যৎ প্রবণতা হিসেবে, রমজান শেষে চাহিদা হ্রাসের সঙ্গে সঙ্গে আমদানিকৃত পণ্যের বিক্রয় দ্রুত কমে যেতে পারে, ফলে স্টক পরিষ্কার করার জন্য বিক্রয়মূল্য হ্রাসের সম্ভাবনা থাকে। তাই ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সঠিক স্টক ম্যানেজমেন্ট এবং বিক্রয় কৌশল গড়ে তোলার প্রয়োজন।
সারসংক্ষেপে, জানুয়ারি মাসে রমজান প্রস্তুতির জন্য ১০ হাজার কোটি টাকারও বেশি মূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি করা হয়েছে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও বাজারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।



