28 C
Dhaka
Monday, February 16, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধমুন্সীগঞ্জে অটোরিকশা চুরি মামলায় চারজন গ্রেফতার, অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

মুন্সীগঞ্জে অটোরিকশা চুরি মামলায় চারজন গ্রেফতার, অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার রমজানবেগ গ্রামে ২০ দিন নিখোঁজ থাকা অটোরিকশা চালকের অর্ধগলিত দেহ পুলিশ ১৫ ফেব্রুয়ারি রাতে উদ্ধার করে। একই রাতে চারজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয় এবং চুরি করা অটোরিকশার খণ্ডিত অংশও পুনরুদ্ধার করা যায়।

মৃতদেহের মালিক ছিলেন ২৪ বছর বয়সী সাকিল, যিনি ২৭ জানুয়ারি রাতে বিভিন্ন স্থানে ভাড়া দিয়ে গাড়ি চালানোর পর অচেনা এক স্থানে নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হয়। গলায় মাফলার দিয়ে গলা চেপে মারা যাওয়ার পর দেহটি কাশবনের মিলিটারি চকের কাছাকাছি ফেলে রাখা হয়।

গ্রেফতারকৃতদের নাম ও বয়স প্রকাশ করা হয়েছে: রাজন শেখ, ২৫ বছর; ইমরান সরকার, ১৯ বছর; শরীফ সুলতান (আফসু নামে পরিচিত), ২৫ বছর; এবং মো. ইউসুফ গাজী, ৬০ বছর। পুলিশ জানায়, আফসু মূল পরিকল্পনাকারী এবং তার জুয়া খেলা থেকে সৃষ্ট ঋণ পরিশোধের জন্য এই অপরাধের দায়িত্ব নেয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আফসু স্বীকার করেন যে তিনি ঋণের বোঝা থেকে মুক্তি পেতে রাজন ও ইমরানকে সঙ্গে নিয়ে অটোরিকশা চুরি ও হত্যার পরিকল্পনা করেন। লক্ষ্য ছিল তাদের পূর্বপরিচিত চালক সাকিলকে অপহরণ করে গোপন স্থানে নিয়ে গিয়ে হত্যা করা।

হত্যার পর অটোরিকশার ধাতব অংশগুলো বিচ্ছিন্ন করে চতুর্থ সন্দেহভাজন ইউসুফ গাজীর কাছে ২০,০০০ টাকায় বিক্রি করা হয়। একই সঙ্গে সাকিলের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ২,০০০ টাকায় বিক্রি হয়ে যায়। এই লেনদেনগুলো তদন্তের সময় ধরা পড়ে এবং অপরাধীর চক্র উন্মোচিত হয়।

১৫ ফেব্রুয়ারি রাতে স্থানীয় বাসিন্দারা কাশবনে অর্ধগলিত দেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে জানায়। দ্রুত পদক্ষেপে দেহটি উদ্ধার করা হয় এবং পরিধান করা প্যান্ট, শার্ট ও বেল্টের মাধ্যমে সাকিলের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। মৃতের পরিবারে শোকের স্রোতে বাবা শাহীন খালাসি মৃতের নামে মামলা দায়ের করে।

পুলিশের তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি সহায়তা ও মৃতের মোবাইলের কল রেকর্ড ব্যবহার করে অপরাধীদের সনাক্ত করা সম্ভব হয়। এই প্রযুক্তিগত সহায়তা গ্রেফতার এবং চুরি করা অটোরিকশার অংশ পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

গ্রেফতার ঘোষণার পর স্থানীয় কিছু বাসিন্দা পুলিশ সুপারিন্টেন্ডেন্টের অফিসের সামনে প্রতিবাদে সমবেত হয়। তারা অপরাধের শিকারের ন্যায়বিচার এবং তদন্তের স্বচ্ছতা দাবি করে।

প্রেস কনফারেন্সে মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপারিন্টেন্ডেন্ট মো. মেনহাজুল আলম (পিপিএম) উপস্থিত ছিলেন এবং ঘটনাবলির সংক্ষিপ্তসার উপস্থাপন করেন। অতিরিক্তভাবে পুলিশ সুপারিন্টেন্ডেন্ট মো. ফিরোজ কবির, সার্কেল অফিসার মো. বিল্লাল হোসেন (পিপিএম) এবং থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মমিনুল ইসলামও অংশ নেন।

অধিক তদন্তের জন্য ফরেনসিক বিশ্লেষণ, ডিএনএ পরীক্ষা এবং ফোনের ডেটা বিশ্লেষণ চালু রয়েছে। মামলাটি স্থানীয় আদালতে দায়ের হওয়ার পর পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারিত হয়েছে, যেখানে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রমাণ উপস্থাপন করা হবে। আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত পরিবার ও স্থানীয় জনগণ ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা বজায় রেখেছে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments