28 C
Dhaka
Monday, February 16, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধকক্সবাজারের টেকনাফে কোস্ট গার্ড ও র‌্যাবের যৌথ অভিযানতে ১৫ জনকে উদ্ধার

কক্সবাজারের টেকনাফে কোস্ট গার্ড ও র‌্যাবের যৌথ অভিযানতে ১৫ জনকে উদ্ধার

কক্সবাজারের টেকনাফ জেলায় বাহারছড়া গ্রামে কোস্ট গার্ড ও র‌্যাবের সমন্বয়ে পরিচালিত যৌথ অভিযান ১৬ ফেব্রুয়ারি সোমবার দুপুরে শেষ হয়েছে। গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চালু করা অপারেশনে সাগর পথে মালয়েশিয়া পাচারের উদ্দেশ্যে আটকে রাখা শিশুসহ মোট পনেরোজনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।

বিক্রিত তথ্য অনুযায়ী, টেকনাফের বাহারছড়া কচ্ছপিয়া এলাকায় বসবাসকারী মো. আব্দুল আলী নামের এক পরিচিত মানব পাচারকারী তার নিজ বাড়ির গুদামঘরে কয়েকজন নারী, পুরুষ ও শিশুকে আটক রেখেছিলেন। এই গুদামটি মানব পাচারের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছিল এবং ভুক্তভোগীরা মালয়েশিয়ায় পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

বিক্রিত তথ্যের ভিত্তিতে রোববার বিকেল চারটায় কোস্ট গার্ডের টেকনাফ স্টেশন, আউটপোস্ট বাহারছড়া এবং র‌্যাবের দল একত্রে গুদামঘরে তল্লাশি চালায়। তল্লাশির সময় গুদাম থেকে আটকে রাখা পনেরোজনকে উদ্ধার করা হয়। তবে অপারেশনের সময়ই পাচারকারীরা উপস্থিতি টের পেয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়, ফলে কোনো সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

উদ্ধারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, এই চক্রটি বিদেশে উন্নত জীবনযাপনের স্বপ্ন, উচ্চ বেতনের চাকরি এবং কম খরচে বিদেশ পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নাগরিকদের মালয়েশিয়ায় পাঠানোর পরিকল্পনা করছিল। ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, তারা উচ্চ বেতন ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রতিশ্রুতি শোনার পর এই চক্রে যুক্ত হয়েছিলেন।

উদ্ধারকৃত ব্যক্তিদের মধ্যে শিশুরাও অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা মানব পাচারের গৌণ দিককে আরও স্পষ্ট করে। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে, যেখানে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এই ধরনের অপরাধ রোধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া অফিসার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক কর্তৃক প্রকাশিত প্রেস রিলিজে উল্লেখ করা হয়েছে, গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান চালু করা হয়েছিল এবং তা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। র‌্যাবের কর্মকর্তারাও একই রকম মন্তব্য করে, মানব পাচার বিরোধী লড়াইয়ে এই ধরনের যৌথ অভিযান অপরিহার্য বলে জোর দিয়েছেন।

এই ঘটনার পর, টেকনাফ মডেল থানা মামলাটি দ্রুত অগ্রসর করার জন্য বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত দল গঠন করেছে। ভুক্তভোগীদের বিবরণ, সাক্ষ্য এবং গুদামঘরের অনুসন্ধান ফলাফল আইনগত প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা হবে। এছাড়া, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে মানব পাচার বিরোধী নীতি ও আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন বাড়াতে অতিরিক্ত তদারকি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

টেকনাফে পূর্বে ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে একই ধরনের একটি বড় অপারেশন চালু হয়েছিল, যেখানে ২২ জনকে উদ্ধার করা হয়েছিল। এই ধারাবাহিকতা দেখায় যে, কক্সবাজার জেলায় মানব পাচার চক্রের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর সতর্কতা ও প্রস্তুতি ক্রমাগত বাড়ছে।

অভিযানের সময় পাওয়া গুদামঘরের সামগ্রী, যন্ত্রপাতি এবং নথিপত্র তদন্তের জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে। এসব প্রমাণের ভিত্তিতে সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর পরিকল্পনা করা চক্রের অন্যান্য সদস্যদের সনাক্ত করা হবে।

অবশেষে, স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টায় মানব পাচার বিরোধী লড়াইয়ে এই ধরনের সফল অপারেশন সমাজে নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের প্রতি আস্থা বাড়িয়ে তুলবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Banglastream
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments