নোয়াখালীর হাতিয়া সংক্রান্ত অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মোড় এসেছে। ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির ১৬ ফেব্রুয়ারি সোমবার ফেসবুকে পোস্ট করে এনসিপিআই নেতা হান্নান মাসুদ, আসিফ মাহমুদ ও সাদিক কায়েমকে জাতির সামনে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করতে আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, এই অভিযোগগুলো পরিকল্পিতভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং জনমতকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে।
নাছিরের পোস্টে বলা হয়েছে, নোয়াখালীর হাতিয়া মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তির ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টা ২৮ মিনিটে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার নথি রয়েছে। একই সময়ে অন্যত্র গিয়ে ঘটনার দায়িত্ব নেওয়ার দাবি বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি যুক্তি দেন, হাতিয়া থেকে জেলা সদর হাসপাতালে যাতায়াতে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় লাগে, ফলে একই সময়ে দুই স্থানে উপস্থিত থাকার দাবি অসঙ্গত এবং প্রশ্নবিদ্ধ।
স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন, চিকিৎসক ও প্রত্যক্ষদর্শী বাসিন্দাদের বিবৃতি অনুসারে, অভিযুক্তের হাসপাতালে ভর্তি হওয়া সত্যই ঘটেছে এবং তার উপস্থিতি অন্য কোথাও ছিল না বলে জানা যায়। নাছির উল্লেখ করেন, এই তথ্যের ভিত্তিতে অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে চিহ্নিত করা উচিত। তিনি আরও বলেন, এই ধরনের স্পর্শকাতর অভিযোগকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা সামাজিক নৈতিকতার ক্ষতি করে এবং জনশান্তি হুমকির মুখে ফেলে।
নোয়াখালী জেলা জামায়াত-এ-ইসলামি আমির ইসহাক খন্দকার পরিকল্পিত কর্মসূচি এই ঘটনার পর স্থগিত করা হয়েছে। নাছিরের মতে, এই পদক্ষেপটি মামলার ভিন্ন মাত্রা ও বাস্তবতা উন্মোচনে সহায়ক। তিনি উল্লেখ করেন, ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা মব তৈরির প্রচেষ্টা এবং একটি দলকে হেয় করার অপপ্রয়াস, যা নৈতিক অবক্ষয়ের পাশাপাশি সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি।
নাছির স্পষ্টভাবে এনসিপিআই নেতাদের, হান্নান মাসুদ, আসিফ মাহমুদ ও সাদিক কায়েমসহ শিবির, রাজাকার চক্র, জামায়াতপন্থি গোষ্ঠী ও সংশ্লিষ্ট এনসিপিআই নেতাদের, জাতির সামনে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার এবং মিথ্যা প্রচারের দায় স্বীকার করার দাবি জানিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, সত্য প্রতিষ্ঠিত হওয়া দরকার এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এই ধরনের ভুল তথ্যের প্রচার বন্ধ করা উচিত।
এই দাবি ও পদক্ষেপের ফলে নোয়াখালী রাজনীতিতে উত্তেজনা বাড়তে পারে বলে বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন। তবে নাছিরের দাবি অনুসরণে এনসিপিআই নেতাদের কী প্রতিক্রিয়া জানাবে, তা এখনও অনিশ্চিত। ভবিষ্যতে যদি ক্ষমা প্রার্থনা না করা হয়, তবে উভয় পক্ষের মধ্যে আরও তীব্র বিতর্কের সম্ভাবনা রয়েছে।
এই ঘটনার পরবর্তী ধাপ হিসেবে, স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট আইনগত সংস্থাগুলি মামলার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য অতিরিক্ত তদন্তের সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে, রাজনৈতিক দলগুলোকে জনমতকে গঠনমূলকভাবে পরিচালনা করতে এবং মিথ্যা তথ্যের বিস্তার রোধে সতর্ক থাকতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
হাতিয়া মামলার মূল বিষয়টি এখনো পরিষ্কার না হওয়ায়, জনসাধারণের দৃষ্টিতে এই বিতর্কের প্রভাব বাড়তে পারে। নাছিরের দাবি যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে রাজনৈতিক দায়িত্বশীলতা ও নৈতিকতার নতুন মানদণ্ড স্থাপিত হতে পারে। অন্যদিকে, এনসিপিআই নেতাদের প্রতিক্রিয়া ও ক্ষমা প্রার্থনা না করা হলে, রাজনৈতিক উত্তেজনা দীর্ঘমেয়াদে অব্যাহত থাকতে পারে।



