ডাবলিন – লেনি এব্রাহামসন, যিনি ‘নরমাল পিপল’ ছবির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছেন, এখন তার নতুন অজানা শিরোনামের চলচ্চিত্রের জন্য শুটিং শুরু করছেন। এই প্রকল্পে ইভ হিউসন ও টম বার্ক প্রধান চরিত্রে অভিনয় করবেন এবং ১৯৭০-এর দশকের শেষের দিকে ডাবলিনের জিউইশ সম্প্রদায়কে পটভূমি হিসেবে ব্যবহার করা হবে।
শুটিং ২ মার্চ ডাবলিনে শুরু হবে এবং ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র ডেভি, ১২ বছর বয়সী এক ছেলেকে নিয়ে, যিনি কৈশোরের অস্থিরতা এবং তার বাবা-মায়ের বিবাহের পরিবর্তনশীল গতিবিধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার চেষ্টা করছেন। এই কাহিনীকে সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণনা করা হয়েছে একটি সুরেলা ও আবেগময় চিত্র হিসেবে, যেখানে ডেভির অভ্যন্তরীণ পরিবর্তন এবং পারিবারিক সম্পর্কের জটিলতা একসঙ্গে ফুটে ওঠে।
প্রযোজনা দায়িত্বে আছেন এলিমেন্ট পিকচার্সের এড গুইনি ও অ্যান্ড্রু লো, পাশাপাশি ক্যাথরিন মেজ এবং লেনি এব্রাহামসন নিজে। এলিমেন্ট পিকচার্সের সঙ্গে পূর্বে কাজ করা টিমের সদস্যরাও এই প্রকল্পে যুক্ত, যেমন প্রোডাকশন ডিজাইনার অ্যানা র্যাকার্ড, চিত্রগ্রাহক সুজি ল্যাভেল, এডিটর নাথান নুগেন্ট, মেক-আপ ডিজাইনার সোনিয়া ডোলান এবং সুরকার স্টিফেন রেনিক্স।
পোশাক নকশা ও চুলের স্টাইলিংয়ের দায়িত্বে আছেন ইমার নিঃ মাউলডোমনাইঘ, যিনি ‘দ্য ব্যানশিস অফ ইনিশেরিন’ ছবিতে কাজ করেছেন, এবং অর্লা ক্যারোল, যিনি একই ছবিতে হেয়ার স্টাইলিস্ট হিসেবে কাজ করেছেন। এই দলটি এব্রাহামসনের পূর্বের টেলিভিশন সিরিজ ‘নরমাল পিপল’ ও ‘কনভারসেশনস উইথ ফ্রেন্ডস’ এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছে, ফলে ছবির ভিজ্যুয়াল ও সাউন্ডের গুণমানের প্রত্যাশা বাড়ছে।
টম বার্কের সাম্প্রতিক কাজের মধ্যে রয়েছে স্টিভেন সোডারবের্গের ‘ব্ল্যাক ব্যাগ’, পাশাপাশি ‘ফিউরিসা: এ ম্যাড ম্যাক্স সাগা’, ‘দ্য সুভেনিয়র’ এবং টিভি সিরিজ ‘স্ট্রাইক’। তার অভিনয়শৈলীকে সমালোচকরা প্রশংসা করে আসছেন, এবং এই নতুন প্রকল্পে তার উপস্থিতি ছবির আকর্ষণ বাড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইভ হিউসনও সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য প্রকল্পে যুক্ত ছিলেন। তিনি ‘ফ্লোরা অ্যান্ড সন’ ছবিতে এবং টিভি সিরিজ ‘দ্য পারফেক্ট কাপল’ ও ‘ব্যাড সিস্টার্স’ এ অভিনয় করেছেন। এছাড়া তিনি শীঘ্রই স্টিভেন স্পিলবার্গের ‘ডিসক্লোজার ডে’ ছবিতে দেখা যাবে, যা জুন মাসে মুক্তি পাবে। তার বহুমুখী পারফরম্যান্স এই নতুন চলচ্চিত্রে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
চিত্রনাট্য ও পরিচালনা ব্যতীত আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে ফিল্ম৪, হাই ফ্রিকোয়েন্সি এন্টারটেইনমেন্ট, স্ক্রিন আয়ারল্যান্ড এবং আরটিই। এই সংস্থাগুলোর সমর্থন ছবির উৎপাদন খরচের বড় অংশ কভার করবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তার প্রবেশের পথ সুগম করবে।
যুক্তরাষ্ট্রে ছবির বিতরণ দায়িত্বে রয়েছে এ২৪, যা বিশ্বব্যাপী স্বতন্ত্র চলচ্চিত্রের জন্য পরিচিত একটি বিতরণ সংস্থা। কানাডায় ইলেভেশন পিকচার্স এই কাজটি করবে, আর আন্তর্জাতিক বিক্রয় পরিচালনা করবে ফিল্মন্যাশন এন্টারটেইনমেন্ট। এই বিতরণ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ছবিটি ইউরোপ, এশিয়া ও অন্যান্য অঞ্চলে দর্শকের কাছে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
টম বার্কের এজেন্ট হিসেবে কাজ করে বি-সাইড, এন্টারটেইনমেন্ট ৩৬০, ডব্লিউএমই এবং পাবলিক আই। ইভ হিউসনের প্রতিনিধিত্বে রয়েছে ডব্লিউএমই, ব্রিলস্টাইন এন্টারটেইনমেন্ট পার্টনার্স, ন্যারেটিভ, স্লোয়ান, অফার এবং ওয়েবার ও ডার্ন। এই এজেন্সিগুলো তার ক্যারিয়ার পরিকল্পনা ও আন্তর্জাতিক প্রকল্পে অংশগ্রহণের জন্য সমন্বয় করবে।
চিত্রের পটভূমি হিসেবে ডাবলিনের জিউইশ সম্প্রদায়ের ঐতিহাসিক পরিবেশকে তুলে ধরা হবে, যা ১৯৭০-এর দশকের শেষের দিকে শহরের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত। এই সময়ে জিউইশ সম্প্রদায়ের নিজস্ব ঐতিহ্য ও আধুনিকতা মিশ্রিত হওয়ার একটি অনন্য মুহূর্তকে ছবিতে চিত্রায়িত করা হবে।
প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক শিরোনাম এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে প্রযোজক ও পরিচালক একে একটি ‘লিরিক্যাল ও আবেগময়’ কাজ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। শুটিং চলাকালীন ডাবলিনের স্থানীয় লোকজন ও ঐতিহাসিক স্থাপনা ব্যবহার করে বাস্তবধর্মী পরিবেশ তৈরি করা হবে, যা দর্শকদের সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রবাহিত হতে সাহায্য করবে।
এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে লেনি এব্রাহামসন আবারও ডাবলিনের গল্পকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরতে চান, যেখানে স্থানীয় সংস্কৃতি, পরিবারিক সম্পর্ক এবং ব্যক্তিগত বিকাশের থিমগুলো একত্রে গাঁথা হবে। ছবির শেষ পর্যন্ত দর্শকদের জন্য একটি স্মরণীয় অভিজ্ঞতা তৈরি হবে, যা ডাবলিনের অতীত ও বর্তমানের সংযোগকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করবে।



