অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বোর্ডের সাম্প্রতিক ঘোষণায় স্টিভ স্মিথকে ২০২৬ সালের আইসিসি পুরুষ টি২০ বিশ্বকাপের স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তিনি জোশ হ্যাজলউডের স্থান নেবেন, যিনি ক্যালফে আঘাতের কারণে পুরো টুর্নামেন্টে অংশ নিতে অক্ষম। এই পরিবর্তনটি টুর্নামেন্টের শুরুর আগে শেষ হয়েছে এবং দলটি দ্রুত বিকল্প খুঁজে পেতে সক্ষম হয়েছে।
হ্যাজলউডের ক্যালফে আঘাতের ফলে তিনি টুর্নামেন্টের জন্য বাদ পড়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার মেডিক্যাল স্টাফ প্রাথমিকভাবে তাকে শেষের দিকে ফিট করার আশা করছিল, তবে পুনরুদ্ধার প্রত্যাশিত সময়ে সম্পন্ন হয়নি। তার অনুপস্থিতি দলের দ্রুত বোলিং আক্রমণে একটি ফাঁক তৈরি করেছে। ফলে অস্ট্রেলিয়া তৎক্ষণাৎ একটি অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানকে স্কোয়াডে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
স্টিভ স্মিথের শেষ টি২০ আন্তর্জাতিক ম্যাচটি ফেব্রুয়ারি ২০২৪-এ অনুষ্ঠিত হয়েছিল, এরপর থেকে তিনি টি২০ ফরম্যাটে কোনো ম্যাচে অংশগ্রহণ করেননি। তবে তিনি টেস্ট ও ওডিআইতে ধারাবাহিকভাবে উচ্চ স্কোর তৈরি করে দলের মূল শিলায় পরিণত হয়েছেন এবং ২০১৫ ও ২০১৯ বিশ্বকাপে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তার ব্যাটিং শৈলী, দীর্ঘ শট এবং গেমের পরিস্থিতি পড়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা টি২০ ফরম্যাটে পুনরায় কাজে লাগবে বলে আশা করা হচ্ছে। এখন তিনি অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ ব্যাটিং লাইনে ফিরে এসে টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে অবদান রাখবেন।
আইসিসি নিয়ম অনুযায়ী কোনো খেলোয়াড়ের আঘাতের ক্ষেত্রে দলকে বিকল্প খেলোয়াড় যুক্ত করার অনুমতি রয়েছে। অস্ট্রেলিয়া এই বিধি মেনে হ্যাজলউডের পরিবর্তে স্মিথকে স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করেছে। স্কোয়াডের মোট সংখ্যা এবং কাঠামো অপরিবর্তিত রেখে এই পরিবর্তনটি করা হয়েছে।
২০২৬ সালের টি২০ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্যায়ে অস্ট্রেলিয়া শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবে এবং পয়েন্ট সংগ্রহের জন্য প্রতিটি ম্যাচে পূর্ণ শক্তি দিয়ে খেলবে। দলটি ইতিমধ্যে গ্রুপের অন্যান্য ম্যাচের জন্য কৌশলগত পরিকল্পনা তৈরি করেছে এবং নতুন সংযোজনের সঙ্গে ব্যাটিং ও ফিল্ডিং দিক থেকে সমন্বয় সাধন করছে। এই প্রস্তুতি টুর্নামেন্টের শুরুর দিকে দলকে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দেবে।
অস্ট্রেলিয়ার পরবর্তী নির্ধারিত ম্যাচটি শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে হবে, যা গ্রুপ বি-তে অনুষ্ঠিত হবে। শ্রীলঙ্কা টি২০ ফরম্যাটে অভিজ্ঞ দল, তাই এই মুখোমুখি হওয়া অস্ট্রেলিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হবে। জয়লাভের মাধ্যমে দলটি পয়েন্ট সংগ্রহ করে সেমিফাইনালের পথে অগ্রসর হতে পারবে। স্মিথের উপস্থিতি ব্যাটিং ক্রমে স্থিতিশীলতা এবং অতিরিক্ত শট-গেমের সম্ভাবনা এনে দেবে, যা দলকে প্রয়োজনীয় রান তৈরি করতে সহায়তা করবে।
স্মিথের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও শট-গেম অস্ট্রেলিয়ার আক্রমণাত্মক পরিকল্পনায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। হ্যাজলউডের অনুপস্থিতিতে দলের বোলিং ইউনিটকে অতিরিক্ত সমর্থন দরকার, তবে স্মিথের অন্তর্ভুক্তি ব্যাটিং দিকের ভারসাম্য বজায় রাখবে। অস্ট্রেলিয়া এখন শেষ প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী সূচনা করা যায়। দলটি প্রশিক্ষণ শিবিরে কৌশল পুনর্বিবেচনা করে, খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতি নিশ্চিত করছে।



