28 C
Dhaka
Monday, February 16, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধপটুয়াখালীর মুন্সি বাড়িতে বড় অগ্নিকাণ্ড, সম্পূর্ণ ধ্বংস

পটুয়াখালীর মুন্সি বাড়িতে বড় অগ্নিকাণ্ড, সম্পূর্ণ ধ্বংস

১৬ ফেব্রুয়ারি সোমবার সকাল দশটায় পটুয়াখালী পৌরসভার নয় নম্বর ওয়ার্ডের ছোট চৌরাস্তার মুন্সি বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডে এক ব্যবসায়ীর বাসভবন সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়। আগুনের শিখা দ্রুত বাড়ির সব কক্ষ জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে, ফলে আশেপাশের বাড়িগুলোও বড় ক্ষতির ঝুঁকিতে পড়ে।

ঘটনা ঘটেছে মুন্সি বাড়ি, যা স্থানীয় ব্যবসায়ী কামরুল মুন্সির মালিকানাধীন। তিনি পটুয়াখালী জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সদস্য এবং এলাকার বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাড়া ব্যবসা পরিচালনা করেন। বাড়িটি তার পরিবারসহ তিনটি শয়নকক্ষ, রান্নাঘর এবং সংরক্ষণাগারসহ বেশ বড় কাঠামো ছিল।

অগ্নিকাণ্ডের সময় বাড়ির পেছন দিক থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়, যা প্রথমে বাড়ির মালিককে সতর্ক করে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই শিখা বাড়ির অভ্যন্তরে ছড়িয়ে পড়ে, ফলে দরজা-জানালা বন্ধ থাকলেও অগ্নি দ্রুত বাড়ি জুড়ে ছড়িয়ে যায়।

প্রতিবেশীরা ধোঁয়া ও আগুনের গন্ধে তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে পৌঁছে, কিছুজন আগুন নেভাতে চেষ্টা করে। তবে আগুনের তীব্রতা এবং গ্যাসের গন্ধের কারণে তাদের প্রচেষ্টা সীমিত থাকে। স্থানীয় মানুষদের সহায়তা সত্ত্বেও শিখা বাড়ির ছাদ পর্যন্ত পৌঁছে, কাঠামোকে সম্পূর্ণ ধ্বংসের পথে নিয়ে যায়।

ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং প্রায় এক ঘন্টার মধ্যে অগ্নি নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ারফাইটাররা হোসে পানির জোয়ার দিয়ে শিখা দমন করে, তবে বাড়ির বেশিরভাগ অংশ ইতিমধ্যে পুড়ে গিয়ে ধ্বংস হয়ে যায়। আশেপাশের কয়েকটি বাড়ি ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত কাজের ফলে বড় ক্ষতি থেকে রক্ষা পায়।

বসতঘরের মালিক কামরুল মুন্সি জানান, তিনি সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে বাড়ি ফিরে স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলছিলেন, তখনই রান্নাঘরের দিকে অস্বাভাবিক শব্দ শোনেন এবং শিখা দেখতে পান। তিনি তৎক্ষণাৎ বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন, তবে বাড়ির সব আসবাবপত্র, নগদ অর্থ এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়।

মুন্সি উল্লেখ করেন, মোট ক্ষতি প্রায় পঞ্চাশ লাখ টাকার কাছাকাছি, যার মধ্যে নগদ অর্থ, আসবাবপত্র, গাড়ি রেজিস্ট্রেশন ডকুমেন্ট এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র অন্তর্ভুক্ত। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদের পুনরুদ্ধার ও পুনর্নির্মাণের জন্য সরকারি সহায়তা ও বীমা দাবি করার পরিকল্পনা করছেন।

পটুয়াখালী ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. রাজিব হোসেন জানান, প্রাথমিক তদন্তে আগুনের সূত্রপাতের সম্ভাব্য স্থান রান্নাঘর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। রান্নাঘরে গ্যাস চুলা বা তেল গরম করার সময় কোনো ত্রুটি ঘটতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে, তবে সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।

ফায়ার সার্ভিসের দল ঘটনাস্থলে আগুনের মূল উৎস নির্ধারণের জন্য অবশিষ্ট ধোঁয়া ও চিহ্ন বিশ্লেষণ করছে। পাশাপাশি, বাড়ির গ্যাস পাইপলাইন ও বৈদ্যুতিক সংযোগের অবস্থা পরীক্ষা করা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধ করা যায়।

অগ্নিকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় পুলিশও তদন্ত শুরু করেছে। প্রমাণ সংগ্রহ, গ্যাস সিলিন্ডারের রেকর্ড এবং বাড়ির নিরাপত্তা মানদণ্ডের অনুসরণ যাচাই করা হবে। যদি কোনো নিরাপত্তা লঙ্ঘন বা অবহেলা প্রমাণিত হয়, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পটুয়াখালী পৌরসভা ও জেলা প্রশাসন জরুরি সহায়তা প্রদান ও পুনর্নির্মাণের জন্য তহবিল গঠন করার কথা জানিয়েছে। পাশাপাশি, স্থানীয় বাসিন্দাদেরকে অগ্নি নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করার জন্য প্রশিক্ষণ ও সেমিনার আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের ফলে একাধিক পরিবার বাসস্থানের অস্থায়ী সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে, তবে ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের সহযোগিতার ফলে বড় মানবিক ক্ষতি রোধ করা সম্ভব হয়েছে। তদন্তের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন দুর্যোগের পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায়।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments