অভিনেতা রাজকুমার রাও ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে সামাজিক মাধ্যমে জানিয়ে দিলেন, তিনি ‘নিকাম’ শিরোনামের বায়োপিকের শ্যুটিং সম্পন্ন করেছেন। জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত এই শিল্পী তার নতুন চরিত্রের জন্য শারীরিক পরিবর্তনকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন এবং এ নিয়ে বিস্তারিত তথ্য শেয়ার করেছেন।
রাও উল্লেখ করেন, অভিনয় তার জীবনের মূল অংশ এবং তিনি সর্বদা চরিত্রের স্বভাবকে শারীরিক রূপে প্রকাশ করতে চেষ্টা করেন। ‘নিকাম’ ছবির জন্য তিনি শারীরিক পরিবর্তনের মাধ্যমে চরিত্রের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন, যা তিনি স্বেচ্ছায় গ্রহণ করেছেন।
প্রোস্থেটিকের পরিবর্তে নিজের পরিশ্রমে চরিত্রের রূপ গড়ে তোলার his belief is evident in his statements. তিনি বলেন, যদি শারীরিক পরিশ্রমের মাধ্যমে চরিত্রের চেহারা অর্জন করা যায়, তবে কোনো কৃত্রিম উপকরণ ব্যবহার করা প্রয়োজন নেই। এই নীতি ‘নিকাম’ ছবিতেও প্রয়োগ করা হয়েছে।
‘নিকাম’ চরিত্রের জন্য রাও প্রায় ৯‑১০ কেজি ওজন বাড়াতে বাধ্য হন। তিনি নিজের ডায়েটের মধ্যে পিজ্জা, মিষ্টি, আলু পরোটা এবং বিরিয়ানি অন্তর্ভুক্ত করে ওজন বাড়ানোর পরিকল্পনা করেন। একই সঙ্গে তিনি চুল পাতলা করার জন্য হেয়ারস্টাইলিস্টের বিরোধিতার সত্ত্বেও তা গ্রহণ করেন, যাতে চরিত্রের চেহারা সঠিকভাবে ফুটে ওঠে।
এর আগে রাও ‘বোসে: ডেড/অ্যালাইভ’, ‘ট্র্যাপড’ এবং ‘শ্রীকান্ত’ ছবিতে শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের মাধ্যমে দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন। ‘বোসে’ তে অর্ধেক গোঁফ ছাড়া, ‘ট্র্যাপড’ এ অতিরিক্ত ওজন এবং ‘শ্রীকান্ত’ এ দৃষ্টিহীন চরিত্রের অভিনয় করার সময় তিনি নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হয়েছেন।
এই সব পরিবর্তনের সময় রাও প্রায়ই সহকর্মী ও প্রযুক্তিগত দলের কাছ থেকে বিরোধের মুখোমুখি হন, তবে তিনি নিজের নীতিতে অটল থেকেছেন। তিনি বলেন, চরিত্রের সত্যিকারের অনুভূতি প্রকাশের জন্য শারীরিক রূপান্তর অপরিহার্য।
রাজকুমার রাও তার ক্যারিয়ারে বহুবার স্বীকৃতি পেয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে জাতীয় পুরস্কার। তার এই অর্জনগুলো তাকে শিল্পের মধ্যে এক বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে এবং শারীরিক পরিবর্তনের মাধ্যমে চরিত্রে ডুবে যাওয়ার তার প্রচেষ্টা আরও মূল্যবান করে তুলেছে।
‘নিকাম’ ছবির শ্যুটিং শেষ হওয়ার পর রাও আশা প্রকাশ করেছেন, দর্শকরা পর্দায় তার পরিশ্রমের ফল দেখতে পাবেন। তিনি উল্লেখ করেন, ছবির মুক্তির সঙ্গে সঙ্গে দর্শকরা তার শারীরিক পরিবর্তনের সূক্ষ্মতা ও কঠোর পরিশ্রম অনুভব করবেন।
চলচ্চিত্রটি শীঘ্রই থিয়েটার স্ক্রিনে আসবে, এবং রাও তার ভক্তদের কাছে এই প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন যে, এই নতুন রূপে তিনি তাদের কাছে নতুন অভিজ্ঞতা উপস্থাপন করবেন।
সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত পোস্টে রাও তার শারীরিক পরিবর্তনের প্রক্রিয়া নিয়ে কিছু ছবি ও মন্তব্য শেয়ার করেছেন, যা ভক্তদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে। অনেকেই তার এই নিষ্ঠা ও আত্মত্যাগকে প্রশংসা করেছেন।
রাজকুমার রাও ভবিষ্যতে আরও চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে নিজেকে প্রমাণ করার সংকল্প প্রকাশ করেছেন। ‘নিকাম’ ছবির পরবর্তী প্রকল্পগুলোতে তিনি একই রকম শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতির মাধ্যমে নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর লক্ষ্য রাখছেন।



