গাজীপুরের বোর্ড বাজারে আজ সকাল ১১:৩০ টার দিকে ঢাকা‑ময়মনসিংহ মহাসড়কের এক পাশে প্রায় একশোজনেরও বেশি গার্মেন্টস কর্মী প্রতিবাদে সমবেত হন, দুই মাসের বকেয়া বেতন দাবি করে রাস্তাটি আংশিকভাবে বন্ধ করে।
প্রদর্শনকারীরা উইন্টার উল সুয়েটার লিমিটেড (দায়ু বাংলাদেশ) নামক ফ্যাক্টরির কর্মচারী, যার ইউনিট‑৩ হ্যারিকেন রোড, গাচা এলাকায় অবস্থিত, এবং তারা স্লোগান গেয়ে তাদের বেতন না পাওয়ার অভিযোগ তুলে ধরেছেন।
শহরের শিল্প পুলিশ অতিরিক্ত সুপারিনটেনডেন্ট সালিম রেজা জানান, প্রতিবাদটি শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালিত হয়েছে এবং গাড়ি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ না হয়ে ধীর গতিতে চলেছে;现场ে আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
গাজীপুর ট্রাফিক পুলিশ ইনস্পেক্টর তারিকুল ইসলাম উল্লেখ করেন, এই আন্দোলনটি মূল চৌরাস্তার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে রুটের গতি কমিয়ে দিয়েছে, ফলে যানজট বাড়ে।
ফ্যাক্টরি ব্যবস্থাপনা ও কর্মীদের মধ্যে আলোচনার প্রক্রিয়া চলমান, উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা বকেয়া বেতন নিষ্পত্তি নিয়ে সমঝোতার চেষ্টা করছেন।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের গাজীপুর মেট্রোপলিটন শাখার সভাপতি শফিউল আলম কর্মীদের বেতন ও ভাতা অবিলম্বে প্রদান করার আহ্বান জানান, এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেন।
প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারী কর্মীদের মধ্যে ফ্যাক্টরির ইউনিট‑৩ থেকে আসা কর্মীদের উপস্থিতি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, যারা হ্যারিকেন রোডে অবস্থিত তাদের কর্মস্থল থেকে সরাসরি রোডে নেমে এসেছে।
ফ্যাক্টরির পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি; যোগাযোগের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ফ্যাক্টরি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।
গার্মেন্টস শিল্প দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান চালিকাশক্তি, এবং এই ধরনের শ্রমিক বিরোধ উৎপাদন শৃঙ্খলে ব্যাঘাত ঘটিয়ে সময়মতো অর্ডার পূরণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। বকেয়া বেতন সমস্যার সমাধান না হলে একই রকম কর্মী আন্দোলন অন্যান্য ফ্যাক্টরিতে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা সরবরাহকারী ও ক্রেতাদের মধ্যে বিশ্বাসের ক্ষতি করতে পারে।
বাজারে এই ঘটনার ফলে গাজীপুরের গার্মেন্টস পার্কের লজিস্টিক্সে সাময়িক ধীরগতি দেখা দিতে পারে, বিশেষ করে রোডে চলাচলকারী কন্টেইনার ট্রাক ও কাঁচামাল সরবরাহকারী গাড়িগুলোর সময়সূচি প্রভাবিত হতে পারে। রপ্তানি ভিত্তিক কোম্পানিগুলো যদি সময়মতো পণ্য পাঠাতে না পারে, তবে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছ থেকে শিপমেন্ট দেরি সংক্রান্ত শাস্তি বা অর্ডার পুনর্বিবেচনা হতে পারে।
শ্রমিকদের বেতন সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা দীর্ঘমেয়াদে শিল্পের উৎপাদন খরচ বাড়াতে পারে, কারণ ফ্যাক্টরিগুলো অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও শ্রমিক সন্তুষ্টি প্রোগ্রাম চালু করতে বাধ্য হতে পারে। এছাড়া, শ্রমিক ইউনিয়নের চাহিদা পূরণে সরকার ও শিল্প সমিতির নীতি সমন্বয় প্রয়োজন, নতুবা ভবিষ্যতে বৃহত্তর স্তরের প্রতিবাদে রূপ নিতে পারে।
প্রতিবাদটি এখনও চলমান, এবং বিকাল ১ টার দিকে ট্রাফিক ধীরগতিতে চলতে থাকে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ ও ফ্যাক্টরি ব্যবস্থাপনার সমঝোতা গার্মেন্টস সেক্টরের স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।



