ঢাকা, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ – বাংলাদেশ সরকারের শীর্ষ প্রশাসনিক পদে নতুন নাম নাসিমুল গনি. মন্ত্রিপরিষদ সচিবের শপথে তিনি সরকারী দায়িত্ব গ্রহণের ঘোষণা দেন, যা দেশের নীতি ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শপথ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা সদস্যদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। শপথের পর গনি সরকারকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, তিনি প্রশাসনিক দক্ষতা ও স্বচ্ছতা বাড়াতে কাজ করবেন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দায়িত্বে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে মন্ত্রিসভার কার্যক্রম সমন্বয়, নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন তদারকি, এবং সরকারি সংস্থার পারফরম্যান্স মূল্যায়ন। গনি এই দায়িত্বে পূর্বে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে উচ্চপদে কাজ করেছেন, যা তাকে অভিজ্ঞতা প্রদান করেছে।
সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, গনি শপথের পরই মন্ত্রিপরিষদ সচিবের অতিরিক্ত দায়িত্বে সিরাজ উদ্দিন মিয়াকে নিযুক্ত করা হবে। তিনি প্রজ্ঞাপন মন্ত্রণালয়ের কাজের তত্ত্বাবধানসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবেন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিবের পূর্ববর্তী নিয়োগকর্তা ড. শেখ আব্দুর রশীদের নিয়োগ বাতিলের পর গনি এই পদে আসেন। রশীদের পরিবর্তে গনি নিয়োগের সিদ্ধান্ত সরকারী নীতি ও প্রশাসনিক কাঠামোর পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রতিপক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে, কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী গনির নিয়োগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা দাবি করে, উচ্চপদে নিয়োগের স্বচ্ছতা ও রাজনৈতিক প্রভাবের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তবে সরকার এই উদ্বেগের প্রতি কোনো মন্তব্য করেনি।
গনি শপথ গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে তিনি সরকারি কর্মী নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ নীতিতে সংস্কার আনতে ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, দক্ষতা ও পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে কর্মী নির্বাচন করা হবে, যা প্রশাসনিক কার্যকারিতা বাড়াবে।
এছাড়া, গনি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনা ও সামাজিক কল্যাণ প্রকল্পের ত্বরান্বিত বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবের ভূমিকা জোরদার করবেন। তিনি বলছেন, নীতি-নির্ধারণে তথ্যভিত্তিক পদ্ধতি গ্রহণ করা হবে।
শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্ট অতিথিরা গনির প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে ভবিষ্যতে দেশের প্রশাসনিক সংস্কারকে সমর্থন করার প্রতিশ্রুতি দেন। তারা উল্লেখ করেন, গনির নেতৃত্বে সরকারী সেবা নাগরিকের কাছে আরও সহজলভ্য হবে।
গনির শপথ গ্রহণের পরপরই মন্ত্রিপরিষদের অধীনে চলমান কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে। এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে অবকাঠামো উন্নয়ন, ডিজিটাল রূপান্তর এবং কৃষি খাতের আধুনিকায়ন।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, গনি মন্ত্রিপরিষদ সচিবের পদে থাকাকালীন সরকারী নীতি-নির্ধারণে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সম্ভাবনা বাড়বে। তবে রাজনৈতিক সমতা বজায় রাখতে তিনি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মতামতকে সমন্বয় করার চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবেন।
গনির শপথ গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে সরকারী যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে তার কর্মসূচি ও লক্ষ্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়েছে। তিনি আগামী মাসে প্রথমবারের মতো মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করবেন, যা দেশের প্রশাসনিক কাঠামোকে আধুনিকায়নের দিকে ধাবিত করবে।



