28 C
Dhaka
Monday, February 16, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে প্রচারণা ব্যয় সীমা লঙ্ঘন, শীর্ষে বিএনপি ও জামাত

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে প্রচারণা ব্যয় সীমা লঙ্ঘন, শীর্ষে বিএনপি ও জামাত

ঢাকা, ১৬ ফেব্রুয়ারি – তৃতীয় দশকীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা ব্যয়ের সীমা অনলাইন ও অফলাইন উভয় ক্ষেত্রেই ব্যাপকভাবে অতিক্রান্ত হয়েছে। টিআইবি (স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা ইনস্টিটিউট) ধানমন্ডিতে অনুষ্ঠিত পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানায়, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে শীর্ষ দুই দল—বিএনপি ও জামাত—এর লঙ্ঘনের মাত্রা সর্বোচ্চ। এই লঙ্ঘনের পরিমাণ নির্ধারিত সীমা থেকে প্রায় ১৯ শতাংশ থেকে ৩২৮ শতাংশ পর্যন্ত বেশি, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতায় গুরুতর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জান এই তথ্য প্রকাশের সময় উল্লেখ করেন, পর্যবেক্ষণ দল অনলাইন বিজ্ঞাপন, সামাজিক মিডিয়া প্রচার এবং প্রচলিত পোস্টার, র্যালি ইত্যাদি সব ধরণের ব্যয় বিশ্লেষণ করেছে। ফলাফল দেখায় যে, নির্ধারিত ব্যয় সীমা অতিক্রমের হার ১৯ শতাংশের নিচে থাকা দল থেকে শুরু করে ৩২৮ শতাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত, যা নির্বাচনের ন্যায্যতা ও সমতা প্রশ্নবিদ্ধ করে।

বিশেষভাবে, বিএনপি সর্বোচ্চ ৩২৭.৫ শতাংশ ব্যয় সীমা অতিক্রম করেছে, যা অন্যান্য দলকে ছাড়িয়ে গেছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৩১৫.২ শতাংশ অতিক্রমের রিপোর্ট পেয়েছে, আর জামাতের ব্যয় সীমা লঙ্ঘন ১৫৯.১ শতাংশে রেকর্ড হয়েছে। জাতীয় পার্টি ১২৮.৬ শতাংশ এবং এনসিপি ১৯ শতাংশ অতিক্রম করেছে বলে টিআইবির বিশ্লেষণ প্রকাশ পেয়েছে। এই সংখ্যা গুলো নির্দেশ করে যে, প্রধান দুই দল ছাড়াও অন্যান্য রাজনৈতিক গোষ্ঠীরাও সীমা অতিক্রমের প্রবণতা দেখিয়েছে।

টিআইবির পর্যবেক্ষণ দল উল্লেখ করে, অনলাইন বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে ব্যয় সীমা নির্ধারণের পরেও দলগুলো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রচুর অর্থ ব্যয় করেছে। একই সঙ্গে, প্রচলিত পোস্টার, র্যালি, এবং ভোটারদের বাড়িতে সরাসরি যোগাযোগের জন্য ব্যয়কেও সীমা অতিক্রম করা হয়েছে। এই ব্যাপক লঙ্ঘন নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা বজায় রাখতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে, এখনো কোনো দল এই প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করেনি। তবে নির্বাচনী পর্যবেক্ষণ সংস্থা ও সিভিল সোসাইটি গোষ্ঠী এই ফলাফলকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করার আহ্বান জানিয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের দাবি তুলেছে। নির্বাচনী কমিশনও এই তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে।

এই পর্যবেক্ষণ ফলাফল দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন আলোচনার সূচনা করতে পারে। ব্যয় সীমা অতিক্রমের পরিমাণ যদি যথাযথভাবে শাসন করা না হয়, তবে ভবিষ্যতে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আর্থিক অসাম্যতা বাড়তে পারে, যা ভোটারদের বিশ্বাসকে ক্ষুণ্ন করবে। বিশেষ করে, শীর্ষ দুই দলের উচ্চ লঙ্ঘন হার নির্বাচনী ন্যায়বিচারকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে এবং নির্বাচনী আইনের কার্যকারিতা নিয়ে বিতর্ক উস্কে দিতে পারে।

পরবর্তী ধাপে, টিআইবি এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আরও বিশদ বিশ্লেষণ ও সুপারিশ প্রস্তুত করবে। নির্বাচনী কমিশনকে অনুরোধ করা হয়েছে যে, লঙ্ঘনকারী দলগুলোর বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তি আরোপের পাশাপাশি ভবিষ্যতে ব্যয় সীমা নির্ধারণে আরও কঠোর তদারকি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। এছাড়া, ভোটারদের সচেতনতা বাড়াতে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ব্যয়ের নিয়ন্ত্রণের জন্য নতুন নীতি প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভূত হচ্ছে।

সারসংক্ষেপে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা ব্যয় সীমা লঙ্ঘনের ব্যাপকতা টিআইবির সর্বশেষ প্রতিবেদনে স্পষ্ট হয়েছে। শীর্ষ দুই দল—বিএনপি ও জামাত—এর লঙ্ঘনের হার সর্বোচ্চ, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা রক্ষায় ত্বরিত পদক্ষেপের আহ্বান জানাচ্ছে। ভবিষ্যতে এই বিষয়টি কীভাবে সমাধান হবে, তা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে থাকবে।

৭৮/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বাংলানিউজ২৪
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments