নেপাল সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালানন্দ শর্মা সোমবার সকাল সাড়ে দশটায় ঢাকায় পৌঁছে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে প্রস্তুত। তিনি নেপাল দূতাবাসের মাধ্যমে জানানো তথ্য অনুযায়ী দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে উপস্থিতি নিশ্চিত করেছেন। শর্মার এই সফর নতুন সরকারের গঠন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সমন্বয় রূপে বিবেচিত হচ্ছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী শর্মা ঢাকায় পৌঁছানোর সময় নেপাল দূতাবাসের মুখপাত্রের বিবৃতি অনুযায়ী, তিনি সরাসরি হোটেল থেকে শপথ অনুষ্ঠানের স্থানে গমন করেন। তার আগমনের সময়সূচি সকাল সাড়ে দশটায় নির্ধারিত ছিল এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার পূর্ণ সমন্বয়ে তার গমন নিশ্চিত করা হয়।
গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী, বিএনপি নতুন সরকার গঠন করবে এবং তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে হবে। এই ফলাফল দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন সূচিত করেছে।
বিএনপি’র চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলটি পরিষ্কার সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত সরকারকে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের মতে, শপথ অনুষ্ঠানটি আগামীকাল মঙ্গলবার বিকাল চারটায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান এবং নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ড. আসিফ নজরুল আরও জানান, শপথ গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা রাষ্ট্রপতি দ্বারা সম্পন্ন হবে। রাষ্ট্রপতির উপস্থিতি শপথকে সংবিধানিক বৈধতা প্রদান করবে এবং নতুন সরকারের কার্যক্রমের সূচনা চিহ্নিত করবে।
জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা, যা দেশের শীর্ষ আইনসভা ভবন, শপথ অনুষ্ঠানের প্রধান স্থান হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে। এখানে উপস্থিত থাকবে দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতারা, পার্লামেন্টের সদস্যগণ এবং আন্তর্জাতিক অতিথিরা। অনুষ্ঠানে নেপাল সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গুরুত্বকে তুলে ধরবে।
শপথ গ্রহণের সময় রাষ্ট্রপতি সরাসরি শপথ পাঠাবেন, যা সংবিধানিক প্রক্রিয়ার শেষ ধাপ হিসেবে গণ্য হবে। শপথের পর নতুন সরকার দ্রুত নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের দিকে অগ্রসর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শপথের পূর্বে একই দিন সকাল দশটায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এই শপথের দায়িত্ব পালন করবেন, যা সংসদীয় কার্যক্রমের স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করবে।
বালানন্দ শর্মার সফর নেপাল সরকার ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে কূটনৈতিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। শর্মা দেশের উন্নয়ন প্রকল্প ও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বিষয়ে আলোচনা করার জন্য প্রস্তুত। তার উপস্থিতি নেপাল সরকারের দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করে।
নতুন সরকারের গঠন দেশের নীতি দিকনির্দেশে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। বিশেষত অর্থনৈতিক সংস্কার, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সামাজিক কল্যাণে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রত্যাশিত। শপথ গ্রহণের পর সরকার দ্রুত কর্মসূচি প্রকাশের মাধ্যমে জনসাধারণের প্রত্যাশা পূরণে মনোনিবেশ করবে।
শপথ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হওয়ার পর, নতুন সরকার প্রথম মিটিংয়ের মাধ্যমে কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করবে এবং সংসদে আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া শুরু করবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর থাকবে এই নতুন সরকারের গঠন ও তার নীতি বাস্তবায়নের দিকে।



