28 C
Dhaka
Monday, February 16, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিনবম পে স্কেল বাস্তবায়নের সুপারিশ কমিটির প্রথম সভা রোববার অনুষ্ঠিত

নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের সুপারিশ কমিটির প্রথম সভা রোববার অনুষ্ঠিত

রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঢাকা শহরে সরকারী কর্মকর্তাদের প্রত্যাশিত নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য গঠিত উচ্চপর্যায়ের সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভা সম্পর্কে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সংবাদ সম্মেলনে নিশ্চিত করেন।

কমিটির নেতৃত্বে মন্ত্রিপরিষদ সচিব আছেন, যাঁর অধীনে জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন ২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি ২০২৫ কর্তৃক দাখিলকৃত প্রতিবেদনগুলো পর্যালোচনা করা হবে। প্রথম বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামোর বিশদ, আর্থিক সংস্থান এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা চালানো হয়।

এর আগে ২১ জানুয়ারি, সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খান নেতৃত্বাধীন ২৩ সদস্যের নবম জাতীয় বেতন কমিশন তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দেয়। সময়ের তিন সপ্তাহ আগে এই প্রতিবেদন জমা হওয়ায় সরকারী কর্মচারীদের জন্য উল্লেখযোগ্য বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়।

প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী সর্বনিম্ন বেতন ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০,০০০ টাকা করা হবে, আর সর্বোচ্চ বেতন ৭৮,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৬০,০০০ টাকা করা হবে। এভাবে বেতনের অনুপাত ১:৯.৪ থেকে কমিয়ে ১:৮ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা বেতন বৈষম্য হ্রাসে সহায়ক বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ সরকারকে অতিরিক্ত এক লাখ ষাট হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হবে। এই অতিরিক্ত ব্যয়ের মধ্যে ২০টি গ্রেড বজায় রেখে মূল বেতনের পাশাপাশি স্বাস্থ্যবীমা চালু করা, পেনশন ব্যবস্থার সংস্কার এবং সরকারি কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের পুনর্গঠন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা প্রতিবেদনের গ্রহণযোগ্যতা প্রকাশ করে জানান যে, দীর্ঘ সময় ধরে জনগণ এই পরিবর্তনের অপেক্ষা করে আসছে। তিনি উল্লেখ করেন, সুপারিশ প্রণয়ন কমিটি এখন আর্থিক প্রভাব এবং ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পদ্ধতি বিশ্লেষণ করছে।

কমিটির সদস্যরা আর্থিক সংস্থান নির্ধারণের জন্য বিভিন্ন মডেল নিয়ে আলোচনা করেন এবং বাজেটের ওপর প্রভাব কমাতে সম্ভাব্য তহবিল সংগ্রহের উপায় অনুসন্ধান করেন। পাশাপাশি, বেতন কাঠামোর ধাপে ধাপে রোলআউটের সময়সূচি নির্ধারণের জন্য প্রস্তাবনা তৈরি করা হচ্ছে।

প্রস্তাবিত কাঠামোতে স্বাস্থ্যবীমা ও পেনশন সংস্কারের পাশাপাশি সরকারি কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের পুনর্গঠনও উল্লেখ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো কর্মচারীদের সামাজিক সুরক্ষা বাড়াতে এবং বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে লক্ষ্যভুক্ত।

কমিটির কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে জানানো হয় যে, পরবর্তী সপ্তাহে আর্থিক বিশ্লেষণ সম্পন্ন করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন বাংলাদেশ সরকারকে হস্তান্তর করা হবে। এই চূড়ান্ত প্রতিবেদন সরকারের অনুমোদন ও বাস্তবায়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের সময় বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও মুদ্রাস্ফীতির প্রভাবও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহস উল্লেখ করেন যে, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রেখে বেতন বৃদ্ধি পরিকল্পনা করা প্রয়োজন।

অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা ইঙ্গিত দেন যে, অতিরিক্ত ব্যয় সরকারী বাজেটের ওপর চাপ বাড়াতে পারে, তবে বেতন বৈষম্য হ্রাস ও কর্মচারীর মনোবল বাড়াতে এই পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করা যায় না।

সর্বশেষে, সুপারিশ প্রণয়ন কমিটি সকল সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুততম সময়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যাতে বাংলাদেশ সরকার নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments