চট্টগ্রাম সীতাকুণ্ডে কোস্ট গার্ড শুল্ক ফাঁকি দিয়ে দেশের সীমান্ত পারাপার করা বড় পরিমাণের ভারতীয় বস্ত্র ও বিদেশি সিগারেট আটক করেছে। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম‑উল‑হক জানিয়েছেন, অভিযানটি গোপন সূত্রের ভিত্তিতে পরিকল্পিত হয় এবং সন্ধ্যা ৯টায় বিশেষ টহল দল ভাটিয়ারি কোস্ট গার্ড স্টেশন থেকে চালু হয়।
অভিযানটি সীতাকুণ্ড থানার ছোট কুমিরা বাজার সংলগ্ন, ঢাকা‑চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে গাড়ি থামিয়ে সন্দেহজনক একটি কাভার্ড ভ্যানের তল্লাশি করে। তল্লাশিতে প্রায় ৮ কোটি ৯২ লাখ টাকার মূল্যমানের অবৈধ পণ্য পাওয়া যায়। এতে ভারতীয় শাড়ি, থ্রি‑পিস স্যুট, লেহেঙ্গা এবং মোট ১,২৯৮ কার্টন বিদেশি সিগারেট অন্তর্ভুক্ত ছিল।
কাভার্ড ভ্যানের চালক ও সহকারীকে গার্ডের সদস্যরা গ্রেপ্তার করে, তবে পরবর্তীতে তাদের মুচলেকা নিয়ে গাড়িটি ছেড়ে দেওয়া হয়। জব্দকৃত পণ্যগুলোকে দ্রুত চট্টগ্রাম কাস্টমসের হস্তান্তর করা হয়, যাতে আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে শাস্তি আরোপ করা যায়।
কোস্ট গার্ডের এই পদক্ষেপের পেছনে শুল্ক ফাঁকি ও অবৈধ বাণিজ্য রোধের উদ্দেশ্য রয়েছে। সিয়াম‑উল‑হক উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আরও অভিযান চালিয়ে চোরাচালান দমন করা হবে। তিনি আরও বলেন, সীমান্ত পারাপারকারী গোপন গুদাম ও গাড়ি ট্র্যাক করে অপরাধী গোষ্ঠীর কার্যক্রম নষ্ট করা গার্ডের অগ্রাধিকার।
অভিযানের সময় পাওয়া ভারতীয় বস্ত্রের মধ্যে ঐতিহ্যবাহী শাড়ি, আধুনিক থ্রি‑পিস স্যুট এবং লেহেঙ্গা অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা মূলত ভারতীয় বাজার থেকে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা হয়। বিদেশি সিগারেটের কার্টনগুলো বিভিন্ন ব্র্যান্ডের, যা দেশের বাজারে অবৈধভাবে বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল।
কাস্টমসের কর্মকর্তারা জব্দকৃত পণ্যের বিশদ তালিকা তৈরি করে, শুল্ক ও দণ্ডের হিসাব নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করছেন। আইন অনুযায়ী, শুল্ক ফাঁকি ও অবৈধ বাণিজ্যের জন্য কঠোর শাস্তি আরোপ করা হয়, এবং জব্দকৃত পণ্যগুলোকে নিলাম বা ধ্বংসের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হতে পারে।
এই ঘটনার পর, সীতাকুণ্ডে স্থানীয় ব্যবসায়িক সম্প্রদায় ও সাধারণ মানুষ নিরাপত্তা ও শুল্ক নীতির প্রতি সচেতনতা বাড়াতে আহ্বান জানিয়েছে। তারা উল্লেখ করে, সীমান্ত পারাপারকারী গোপন গুদাম ও অবৈধ পণ্য সরবরাহকারী গোষ্ঠীর কার্যক্রমে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া দরকার, যাতে দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করা যায়।
কোস্ট গার্ডের এই সফল অভিযান দেশের শুল্ক নীতি মেনে চলার গুরুত্বকে পুনরায় জোরদার করেছে। ভবিষ্যতে গোপন সূত্রের ভিত্তিতে আরও সমন্বিত অভিযান চালিয়ে, শুল্ক ফাঁকি ও অবৈধ বাণিজ্যের বিরুদ্ধে কঠোর লড়াই চালিয়ে যাওয়া হবে বলে গার্ডের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা আশ্বাস দিয়েছেন।



