মন্ত্রণালয় অব পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন আজ প্রকাশিত নোটিশে জানিয়েছে, হোম মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সেক্রেটারি নাসিমুল গহনি চুক্তিভিত্তিকভাবে ক্যাবিনেট সেক্রেটারির পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, গহনি আজই ক্যাবিনেট ডিভিশনে স্থানান্তরিত হয়ে নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং এই আদেশ জনস্বার্থে অবিলম্বে কার্যকর হবে।
মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বিদেশি নিয়োগ শাখা থেকে প্রকাশিত গেজেটেও একই বিষয় নিশ্চিত করা হয়েছে। গেজেটের মতে, নাসিমুল গহনি ক্যাবিনেট সেক্রেটারির পদে স্থানান্তরিত হওয়ার সাথে সাথে তার পূর্বের হোম মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সেক্রেটারির চুক্তিভিত্তিক পদত্যাগ হবে। এই পদবিন্যাসের ভিত্তি সরকারী কাঠামোর কার্যকরীতা বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।
গহনি পূর্বে হোম মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সেক্রেটারির দায়িত্বে চুক্তিভিত্তিকভাবে কাজ করছিলেন। তিনি নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ক নীতি প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন এবং তার কর্মকাল শেষ হওয়ার আগে ক্যাবিনেট সেক্রেটারির পদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই নিয়োগের পূর্বে, ১৩তম সংসদীয় নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর শ্রী শেইখ আবদুর রশিদের চুক্তিভিত্তিক ক্যাবিনেট সেক্রেটারির পদ বাতিল করা হয়েছিল। রশিদের পদত্যাগের পর, চিফ অ্যাডভাইজারের প্রধান সেক্রেটারি এম সিরাজ উদ্দিন মিয়াকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ক্যাবিনেট সেক্রেটারির দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল। এই পরিবর্তনটি নির্বাচনের পরপরই ঘটেছিল এবং প্রশাসনিক শূন্যতা পূরণের উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছিল।
বিপক্ষের কিছু রাজনৈতিক দল এই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগকে নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা উল্লেখ করেছে, চুক্তি ভিত্তিক উচ্চপদে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছতা ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং তা ভবিষ্যতে প্রশাসনিক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। তবে সরকারী সূত্র এই উদ্বেগকে অস্বীকার করে, বলা হয়েছে যে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মাধ্যমে দক্ষ কর্মীকে দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ পদে স্থাপন করা সম্ভব।
মন্ত্রণালয় অব পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন নোটিশে স্পষ্ট করে বলেছে, নাসিমুল গহনি ক্যাবিনেট ডিভিশনের কাজকর্ম ত্বরান্বিত করার জন্য এবং সরকারী নীতি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সমন্বয় সাধন করবেন। তিনি ক্যাবিনেটের দৈনন্দিন কার্যক্রম তদারকি, মন্ত্রিপরিষদের সভা সমন্বয় এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর দায়িত্বে থাকবেন।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, গহনির ক্যাবিনেট সেক্রেটারির পদে নিয়োগ সরকারকে দ্রুত নীতি বাস্তবায়ন এবং প্রশাসনিক কাঠামোকে শক্তিশালী করার সুযোগ দেবে। বিশেষ করে নিরাপত্তা, অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা এবং জনসেবা ক্ষেত্রে তার পূর্ব অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতে আরও চুক্তি ভিত্তিক উচ্চপদে নিয়োগের সম্ভাবনা বাড়াতে পারে।
এই পদবিন্যাসের পর, ক্যাবিনেট ডিভিশনের কর্মসূচি পুনরায় সাজানো হবে এবং নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নির্দেশে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হবে। সরকারী সূত্র অনুযায়ী, নাসিমুল গহনি আগামী সপ্তাহের মধ্যে ক্যাবিনেটের প্রধান নীতি আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন এবং তার দায়িত্বের প্রথম পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবেন।
অবশেষে, নাসিমুল গহনির ক্যাবিনেট সেক্রেটারির দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে সরকারী প্রশাসনের কাঠামোতে একটি নতুন দিকনির্দেশনা দেখা যাচ্ছে। এই পরিবর্তনটি কীভাবে দেশের নীতি বাস্তবায়নে প্রভাব ফেলবে এবং চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ধারাবাহিকতা কীভাবে পরিচালিত হবে, তা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্পষ্ট হবে।



