যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী রিশি সানাকের সরকার রক্ষা খাতে ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছে। সরকার বর্তমান রক্ষা ব্যয়ের লক্ষ্যকে ত্বরান্বিত করে পূরণ করার পরিকল্পনা তৈরি করছে, যার ফলে বাজেটের ওপর বিলিয়ন পাউন্ডের অতিরিক্ত চাপ আসতে পারে।
মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্সে বিরোধী নেতা স্যার কীইর স্টারমার উল্লেখ করেন, বৃহত্তর হুমকির মোকাবিলায় রক্ষা ব্যয় দ্রুত বাড়াতে হবে। এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার রক্ষা ব্যয়ের লক্ষ্যকে ত্বরান্বিত করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
প্রধানমন্ত্রীর পূর্ববর্তী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত দেশের মোট উৎপাদনের ২.৫% রক্ষা ব্যয়ে ব্যয় করার লক্ষ্য ছিল। তবে তিনি পরবর্তী সংসদে এই অনুপাতকে ৩% পর্যন্ত বাড়ানোর “ইচ্ছা” প্রকাশ করেন। এখন সরকার এই লক্ষ্যকে বর্তমান সংসদ (যা ২০২৯ পর্যন্ত চলার সম্ভাবনা) শেষের আগে অর্জনের উপায় খুঁজছে।
প্রধানমন্ত্রীর সহকারীরা বর্তমানে ৩% লক্ষ্য পূরণের জন্য বিভিন্ন প্রস্তাবনা পর্যালোচনা করছে, তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। আর্থিক মন্ত্রণালয় এই প্রস্তাবনাগুলোর প্রভাব নিয়ে সতর্ক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেছে।
প্রধানমন্ত্রীর এবং তার পরামর্শদাতাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে রক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনার বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এই বৈঠকে কীভাবে বিদ্যমান রক্ষা প্রতিশ্রুতি পূরণ করা যায় তা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
গত মাসে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রক্ষা মন্ত্রণালয়কে আগামী চার বছরে অতিরিক্ত ২৮ বিলিয়ন পাউন্ডের প্রয়োজন হবে, যাতে বর্তমান ব্যয় কাঠামো বজায় রাখা যায়। এই অতিরিক্ত তহবিলের অভাবই সরকারকে লক্ষ্য ত্বরান্বিত করার দিকে ধাবিত করছে।
সেনা প্রধান স্যার রিচার্ড নাইটন জানিয়েছেন, বর্তমান বাজেটের সীমাবদ্ধতার মধ্যে সব রক্ষা প্রকল্প দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। তাই অতিরিক্ত ব্যয় ছাড়া পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সরকারের অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষণ দেখায়, পূর্বে নির্ধারিত রক্ষা ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি বাড়তি ব্যয় এবং চলমান বিলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এই বাস্তবতা নতুন ব্যয় পরিকল্পনা ত্বরান্বিত করার মূল কারণ হিসেবে কাজ করছে।
ডাউনিং স্ট্রিটের সূত্র অনুযায়ী, রক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনা এখনও চূড়ান্ত রূপ নিচ্ছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা চলছে। তবে পরিকল্পনা নিয়ে বিভিন্ন অনুমান ও আলোচনা চলছে।
৩% জিডিপি লক্ষ্যকে পাঁচ বছর আগে অর্জন করা হলে বাজেটের ওপর বিশাল চাপ পড়বে। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত ব্যয় সরকারকে আর্থিক দিক থেকে কঠিন অবস্থায় ফেলতে পারে।
অর্থনৈতিক পূর্বাভাস প্রদানকারী স্বাধীন সংস্থা, অফিস ফর বাজেট রেসপনসিবিলিটি, সরকারের ব্যয় পরিকল্পনা ও তার অর্থনৈতিক প্রভাবের বিশ্লেষণ করে। তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রক্ষা ব্যয় দ্রুত বাড়ালে সামগ্রিক আর্থিক ভারসাম্য বজায় রাখা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, যুক্তরাজ্যের সরকার রক্ষা ব্যয়কে ত্বরান্বিত করে ৩% জিডিপি লক্ষ্য পূরণের সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছে, তবে বাজেটের সীমাবদ্ধতা, অতিরিক্ত তহবিলের প্রয়োজন এবং অর্থনৈতিক প্রভাবের কারণে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সময় লাগতে পারে।



