চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ফাটাপাড়া এলাকায় বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণ ঘটায় দুইজনের মৃত্যু এবং তিনজনের আঘাত। ঘটনাস্থলে কাজ করছিলেন কালাম নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে, যেখানে তার ভাই দুলালের নির্দেশে বোমা তৈরি হচ্ছিল। বিস্ফোরণের পর দুলালের বংশধরদের বেশিরভাগই ঘরবিহীন হয়ে পড়েছে; তাদের মধ্যে অনেকেই কৃষক, যাদের ধানক্ষেত্রে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা এখন ব্যাহত।
দুলাল পূর্বে আর্থিকভাবে দুর্বল ছিলেন, তবে সীমান্তে অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে উল্লেখযোগ্য সম্পদ অর্জন করেন। তিনি স্থানীয়ভাবে “মাদক সম্রাট” নামে পরিচিত এবং ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) বরখাস্ত ও পলাতক চেয়ারম্যান শহীদ রানা (টিপু) এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী। শহীদ রানা চারজনের হত্যার মামলার আসামি। দুলাল আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন, তবে নির্বাচনের আগে জামায়াত-এ-ইসলামিতে যোগ দেন।
স্থানীয় জামায়াত নেতা লতিফুর রহমানের মতে, দুলাল জাহান্নামের পথে গিয়ে নিজের বংশের লোকজনের জীবনও নষ্ট করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, দুলালের বংশধরদের বেশিরভাগই এখন ঘরবিহীন এবং ধানক্ষেত্রের বালুমাটির জমিতে পানি না থাকায় ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। এই পরিস্থিতি এলাকার সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবেশকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
বোমা তৈরির মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রতিপক্ষের নেতা-কর্মীদের বাড়িতে হামলা ও ত্রাস সৃষ্টি করা। দুলাল শহীদ রানা অনুপস্থিতিতে নিজে নেতা হতে চেয়েছিলেন; এজন্য তিনি বিরোধী দলের ঘরবাড়িতে আক্রমণের পরিকল্পনা করেন। বৃহস্পতিবার ভোটের দিন রাতে ফাটাপাড়ায় জামায়াতের বিজয় মিছিলের সময় বিএনপি ইউনিয়ন সভাপতি নাসির উদ্দিন এবং ইউপি সদস্যসহ কয়েকজনের বাড়িতে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এর ফলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হন।
বিএনপি প্রার্থীর ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে দায়ের করা অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ওই সংঘর্ষের পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি কর্মীদের লক্ষ্য করে বোমা তৈরি করা হয়। দায়েরকৃত তথ্য অনুযায়ী, বোমাগুলি রাতভর ব্যাগে প্যাক করে ওয়ার্ডে পৌঁছে দেওয়া হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তার মতে, বোমা তৈরির কাজ দুলালের নির্দেশে এবং লক্ষ্য ছিল বিরোধী দলের ঘরবাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ভয় সৃষ্টি করা।
স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ঘটনাস্থল দখল করে তদন্ত শুরু করেছে। বিস্ফোরণের ফলে ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়ি ও আশপাশের সম্পত্তি রেকর্ড করা হয়েছে, এবং মৃত ও আহতদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। বর্তমানে দুজন মৃতের দেহ ফরেনসিক বিশ্লেষণের জন্য পাঠানো হয়েছে, আর আহতদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে।
প্রাসঙ্গিক আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণে, দুলাল এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক মামলা দায়ের করা হবে বলে জানানো হয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে বোমা তৈরির উপকরণ, ব্যবহার করা বিস্ফোরক পদার্থ এবং সংশ্লিষ্ট যোগাযোগের রেকর্ড সংগ্রহ করা হয়েছে। আদালতে মামলার শোনানির তারিখ নির্ধারণের জন্য প্রাথমিক শুনানি শীঘ্রই অনুষ্ঠিত হবে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসন জরুরি সহায়তা প্রদান এবং বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে ঘরছাড়া পরিবারদের জন্য অস্থায়ী শরণস্থল ও মৌলিক সেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে। কৃষকদের জন্য সেচের ব্যবস্থা পুনরায় চালু করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে, যাতে ধানক্ষেত্রের ক্ষতি কমানো যায়।
বোমা তৈরির এই অপরাধের ফলে এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় জনগণ নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং পুনরায় এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতি এবং আদালতের রায়ের অপেক্ষায়, সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে আইনের আওতায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।



