বেরলিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ‘পার্সপেকটিভস’ শো-কেসে নতুন দিকনির্দেশনা সম্বলিত ‘এ প্রেয়ার ফর দ্য ডাইং’ চলচ্চিত্রটি প্রথমবারের মতো বড় পর্দায় প্রকাশিত হয়েছে। পরিচালক দারা ভ্যান ডুসেনের রচিত এই কাজটি ১৯শ শতাব্দীর আমেরিকান সীমান্তে স্থাপিত এক ট্র্যাজেডি, যেখানে মানবিক নৈতিক দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে গল্প গড়ে তোলা হয়েছে। চলচ্চিত্রটি ১ ঘণ্টা ৩৫ মিনিটের দৈর্ঘ্য এবং একই নামের স্টুয়ার্ট ও’ন্যানের উপন্যাস থেকে রূপান্তরিত।
দারা ভ্যান ডুসেন, নিউ ইয়র্কের বাসিন্দা, লডজের পোলিশ ন্যাশনাল ফিল্ম স্কুলে প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর বর্তমানে নরওয়েতে বসবাস করছেন। স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে ইতিমধ্যে প্রশংসা অর্জন করার পর, তিনি এই পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রকল্পে আত্মবিশ্বাসী স্বরে প্রথম পদক্ষেপ রেখেছেন। তার দৃষ্টিকোণ থেকে তৈরি এই চলচ্চিত্রটি, ঐতিহাসিক পটভূমি ও মানবিক প্রশ্নের সংমিশ্রণে সমৃদ্ধ, যা দর্শকদের গভীর চিন্তায় নিমজ্জিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
চিত্রে প্রধান ভূমিকায় যুক্ত হয়েছে ইংরেজি গায়ক-অভিনেতা জোনি ফ্লিন এবং অভিজ্ঞ চরিত্র অভিনেতা জন সি. রিলি, যাদের পারফরম্যান্স ইতিমধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। পাশাপাশি ক্রিস্টিন কুজাথ থর্প, গুসটাভ লিন্ডহ, অ্যান্ড্রু হুইপ, হিল্টন পেলসার, ক্রিস্টোফার জন-স্লেটার, ড্যানিয়েল ওয়েম্যান, ডেভিড গ্যানলি, তাদহ গ মর্ফি এবং ক্রিস্টোফার রাইঘের মতো নামগুলোও ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই বহুমুখী কাস্টের সমন্বয় চলচ্চিত্রের বর্ণনাকে সমৃদ্ধ করেছে।
‘এ প্রেয়ার ফর দ্য ডাইং’কে ‘ট্রেইন ড্রিমস’ নামের আরেকটি সাম্প্রতিক চলচ্চিত্রের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে, যা ক্লিন্ট বেন্টলি পরিচালিত এবং ডেনিস জনসনের উপন্যাস থেকে রূপান্তরিত। ‘ট্রেইন ড্রিমস’ ২০২৫ সালে স্যান্ডেন্সে প্রিমিয়ার হয় এবং পরবর্তীতে পুরস্কার মৌসুমে মনোযোগ পায়। উভয় ছবিই আমেরিকান ফ্রন্টিয়ারকে পটভূমি হিসেবে ব্যবহার করে, একই সময়ে নতুন মুখ ও অভিজ্ঞ অভিনেতাদের সমন্বয় ঘটায়, যা দর্শকদের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা জাগিয়ে তুলেছে।
বেরলিন উৎসবে ‘পার্সপেকটিভস’ শো-কেসের অংশ হিসেবে এই চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী বড় সাড়া ফেলেছে। শিল্প সমালোচক ও চলচ্চিত্রপ্রেমীরা ছবির ভিজ্যুয়াল স্টাইল, সময়ের সঠিক পুনর্নির্মাণ এবং চরিত্রগুলোর নৈতিক সংগ্রামকে প্রশংসা করছেন। বিশেষ করে জোনি ফ্লিনের সূক্ষ্ম অভিনয় ও জন সি. রিলির শক্তিশালী উপস্থিতি দর্শকের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। উৎসবের পর্দায় প্রথমবারের মতো এই দুই শিল্পীর পারস্পরিক ক্রিয়া দেখা যায়, যা চলচ্চিত্রের আকর্ষণ বাড়িয়ে তুলেছে।
এই কাজের মাধ্যমে দারা ভ্যান ডুসেনের নাম চলচ্চিত্র জগতে আরও দৃঢ় হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার প্রশিক্ষণ ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, পাশাপাশি নরওয়ের পরিবেশে সৃষ্টিশীলতা, ছবির গুণগত মানে প্রতিফলিত হয়েছে। চলচ্চিত্রের সাফল্য তার ভবিষ্যৎ প্রকল্পের জন্য মঞ্চ প্রস্তুত করবে এবং অন্যান্য তরুণ নির্মাতাদের জন্য উদাহরণ স্থাপন করবে।
‘এ প্রেয়ার ফর দ্য ডাইং’ চলচ্চিত্রের সাফল্য কেবলমাত্র ক্যাস্ট ও ক্রুদের ক্যারিয়ারকে নয়, বরং আমেরিকান ফ্রন্টিয়ার থিমের আধুনিক পুনর্নির্মাণকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করবে। উৎসবের পরবর্তী দিনগুলোতে এই ছবির আন্তর্জাতিক বিতরণ ও পুরস্কার প্রার্থনা সম্পর্কে আরও তথ্য প্রকাশিত হবে, যা চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্য উত্তেজনাপূর্ণ অপেক্ষা তৈরি করবে।



