দোরসেটের এক প্রাক্তন বন্দী, ওমর বেনগুইট, যিনি দক্ষিণ কোরিয়ান ছাত্র জং-ওক শিনের হত্যার জন্য ২৩ বছর জেলখানায় কাটিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে নতুন প্রমাণ প্রকাশ করেছে যে পুলিশ তাকে ফ্রেম করতে পারে। এই তথ্যটি বিএসসি প্যানোরামা সম্প্রচারের এক তদন্তে উন্মোচিত হয়েছে, যেখানে দেখা গেছে মূল প্রসিকিউশন সাক্ষীর বিবৃতি সিসিটিভি রেকর্ডের সঙ্গে সরাসরি বিরোধপূর্ণ।
বিবাদিত মামলায় মোট ১৩ জন সাক্ষী এখন বিএসসিকে জানিয়েছেন যে তারা আদালতে তাদের বক্তব্য বাড়িয়ে বলতে বা মিথ্যা বলতে পুলিশ থেকে চাপের মুখে পড়েছিলেন। এই সাক্ষীদের মতে, পুলিশ তাদের বিবৃতি পরিবর্তন করতে বা অতিরিক্ত তথ্য যোগ করতে নির্দেশ দিয়েছিল, যা প্রমাণের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
দোরসেট পুলিশ এই অভিযোগের সরাসরি উত্তর না দিয়ে বলেছে যে মামলাটির তদন্ত “বিস্তারিত, সূক্ষ্ম এবং জটিল” ছিল। তবে তারা কোনোভাবে ফ্রেমিংয়ের ইঙ্গিতকে প্রত্যাখ্যান করেনি, বরং তদন্তের স্বচ্ছতা ও জটিলতা তুলে ধরেছে।
শিন, যাকে ওকি নামেও চেনা যায়, ২০০২ সালে বৌনমাউথের একটি নৈশক্লাব থেকে বাড়ি ফেরার পথে ছুরিকায় নিহত হন। বেনগুইট, যিনি মাদক ও ছুরি অপরাধে পূর্বে দোষী সাব্যস্ত ছিলেন, ২০০৫ সালে তৃতীয় ট্রায়ালে দোষী সাব্যস্ত হন, যদিও পূর্বের দুইটি জুরি সিদ্ধান্তে কোনো রায়ে পৌঁছাতে পারেনি।
বিএসসি প্যানোরামা জানায়, এই মামলায় সিসিটিভি বা ফরেনসিক প্রমাণের অভাবে সাক্ষীর বর্ণনা অপরাধের একমাত্র ভিত্তি ছিল। সিসিটিভি রেকর্ডে দেখা যায় যে মূল সাক্ষীর বর্ণনা এবং ভিডিও রেকর্ডের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে, যা প্রমাণের নির্ভরযোগ্যতা হ্রাস করে।
প্রাক্তন হত্যা দলে ডিটেকটিভ ব্রায়ান মারফি, যিনি ২০০টিরও বেশি হত্যা মামলায় কাজ করেছেন, প্যানোরামার উপস্থাপিত প্রমাণ পর্যালোচনা করে স্বাধীন পুলিশ আচরণ অফিসকে (IOPC) দরখাস্ত করেছেন যে দরসেট পুলিশের এই মামলায় হস্তক্ষেপের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হোক। মারফি উল্লেখ করেন, বেনগুইটের দোষী রায় নিরাপদ নয় এবং তা পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।
বেংগুইটের আইনজীবী দেস জেনসনও একই রকম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, যদি পুলিশ সাক্ষীদের মিথ্যা বলতে বাধ্য করে থাকে, তবে তা প্রমাণের গঠনকে বিকৃত করেছে এবং ন্যায়বিচারকে নষ্ট করেছে। তার মতে, এই ধরনের প্রক্রিয়া ন্যায়বিচার ব্যবস্থার মৌলিক নীতির সরাসরি লঙ্ঘন।
মামলাটির সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবও উল্লেখযোগ্য। বৌনমাউথের অর্থনীতি আন্তর্জাতিক ছাত্রদের ওপর নির্ভরশীল, এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার দ্রুত অপরাধী ধরতে চেয়েছিল। এই চাপের ফলে পুলিশকে দ্রুত ফলাফল প্রদানে প্রেরণা পেতে পারে, যা তদন্তের স্বচ্ছতাকে প্রভাবিত করেছে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করেন।
বর্তমানে, বেনগুইটের মুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান। স্বাধীন পুলিশ আচরণ অফিসের তদন্তের ফলাফল এবং আদালতে নতুন প্রমাণের উপস্থাপনা ভবিষ্যতে রায়ের পরিবর্তন ঘটাতে পারে। মামলাটির পুনরায় পরীক্ষা করা হলে, ২৩ বছর কারাবাসের পর বেনগুইটের ন্যায়বিচার পুনরুদ্ধার সম্ভব হতে পারে।
এই ঘটনা পুলিশি তদন্তের স্বচ্ছতা, সাক্ষীর সুরক্ষা এবং ন্যায়বিচারের স্বতন্ত্রতা সম্পর্কে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে এমন ধরনের ভুল রায় এড়াতে সিসিটিভি ও ফরেনসিক প্রমাণের ব্যবহার বাড়ানো এবং সাক্ষীদের উপর অনধিক চাপ না দেওয়া জরুরি।
মামলাটির পরবর্তী ধাপ হবে স্বাধীন পুলিশ আচরণ অফিসের তদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ এবং আদালতে নতুন প্রমাণের ভিত্তিতে রায়ের পুনর্বিবেচনা। যদি তদন্তে প্রমাণিত হয় যে পুলিশ সাক্ষীদের চাপ দিয়ে মিথ্যা বিবৃতি সংগ্রহ করেছে, তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত বেনগুইটের মুক্তি ও ন্যায়বিচার পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা অনিশ্চিত রয়ে যাবে।



