২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর, সংসদে ব্যবসা পেশার প্রতিনিধির সংখ্যা প্রথমবারের মতো অর্ধেকের বেশি হয়েছে। নির্বাচনী কমিশনের কাছে জমা দেওয়া স্বীকৃতিপত্রে ১৭৮ জন সংসদ সদস্যই নিজেদের পেশা ব্যবসা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এদের গড় বার্ষিক আয় এক কোটি টাকা, তবে দুইজন সদস্য আয় প্রকাশ না করার কারণে গড়ে সামান্য পরিবর্তন হয়েছে।
ব্যবসায়িক পেশার পর দ্বিতীয় বৃহত্তম গোষ্ঠী হল আইনজীবী, যেখানে ৪০ জন আইন পেশা থেকে নির্বাচিত হয়েছেন এবং তাদের গড় বার্ষিক আয় ২৬.৮ লাখ টাকা। এ গোষ্ঠীর উচ্চ আয় আইন পেশার সামাজিক মর্যাদা ও পারিশ্রমিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন।
কৃষি খাতে প্রতিনিধিত্বকারী ১৪ জন সংসদ সদস্যের গড় আয় ১১.৭ লাখ টাকা, যা দেশের কৃষক শ্রেণীর গড় আয়ের তুলনায় বেশী। তবে এই গোষ্ঠীর সর্বনিম্ন আয়কারী হলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের রংপুর-৫ নৌকা নির্বাচিত গোলাম রাব্বানি, যাঁর বার্ষিক আয় মাত্র ৪০,০০০ টাকা। তার পাশাপাশি, রাব্বানির চলমান সম্পদ ২২.৯ লাখ টাকা, আর তার স্ত্রীর সম্পদ ১৬.৫ লাখ টাকা।
শিক্ষাক্ষেত্রের প্রতিনিধিত্বকারী ২৮ জন শিক্ষক সংসদে প্রবেশ করেছেন, যার মধ্যে মাত্র চারজনই জামায়াতের নয়। শিক্ষকদের উচ্চ সংখ্যার পেছনে শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার ও নীতি নির্ধারণে তাদের ভূমিকা বাড়ানোর ইচ্ছা রয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক পরিচয়কে ‘রাজনীতিবিদ’ হিসেবে স্বীকার করা মাত্র নয়জন সদস্য, যার মধ্যে বিএনপি থেকে রয়েছে চেয়ারপার্সন তারিক রহমান, খুলনা-৪ এর আজিজুল বরি হেলাল, চাঁদপুর-১ এর এএনএম এহসানুল হক মিলন, খাগড়াছড়ি থেকে আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, বরিশাল-২ এর সরদার শারফুদ্দিন আহমেদ, ভোলা-৪ এর মো. নুরুল ইসলাম এবং মানিকগঞ্জ-২ এর মোইনুল ইসলাম খান। জামায়াতের প্রতিনিধিত্বকারী হলেন রংপুর-২ এর এটিএম আজহারুল ইসলাম এবং রাজশাহী-১ এর মো. মুজিবুর রহমান।
ডাক্তার পেশার প্রতিনিধিত্বকারী কমপক্ষে দশজন সংসদ সদস্য, যার মধ্যে তিনজন জামায়াতের এবং বাকি সবাই বিএনপি থেকে। সর্বোচ্চ আয়কারী ডাক্তার হলেন জামায়াতের মো. মোসেলেহুদ্দিন ফারিদ, যাঁর আয় বিদেশে চিকিৎসা সেবা থেকে আসে এবং গড়ে ডাক্তারের বার্ষিক আয় ১৮ লাখ টাকা।
অবশিষ্ট সদস্যদের মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত পেশাজীবী, বেসরকারি চাকরিজীবী এবং বিজ্ঞানী অন্তর্ভুক্ত। এ গোষ্ঠীর উপস্থিতি নীতি নির্ধারণে বৈচিত্র্য ও বিশেষজ্ঞ দৃষ্টিকোণ যোগায় বলে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করছেন।
সংসদে সর্বোচ্চ আয়কারী হলেন বিএনপি থেকে কুমিল্লা-৮ এর জাকারিয়া তাহের, যাঁর বার্ষিক আয় ৫৯.১ কোটি টাকা এবং চলমান সম্পদ ১৭২.৩ কোটি টাকা। জাকারিয়া তাহেরের এই বিশাল সম্পদ তাকে সংসদের একক ব্যতিক্রমী উদাহরণ করে তুলেছে।
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয়কারী হলেন ঢাকা-৮ এর হিয়াম আব্বাস, যাঁর বার্ষিক আয় ৯.২৬ কোটি টাকা। হিয়াম আব্বাসের উচ্চ আয় ব্যবসা ও সম্পদ ব্যবস্থাপনার দক্ষতা নির্দেশ করে, যা সংসদে ব্যবসায়িক স্বার্থের প্রভাব বাড়াতে পারে।
এই নতুন সংসদে ব্যবসা, আইন, শিক্ষা ও চিকিৎসা ক্ষেত্রের প্রতিনিধিত্বের ভারসাম্য রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন গতিপথ তৈরি করবে। ব্যবসায়িক পটভূমি বিশিষ্ট সদস্যদের সংখ্যার বৃদ্ধি নীতি প্রণয়নে বেসরকারি খাতের স্বার্থের প্রাধান্য বাড়াতে পারে, তবে একই সঙ্গে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বাস্তবিক অবদান রাখার সম্ভাবনা রয়েছে। ভবিষ্যতে এই গোষ্ঠীর পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া ও পার্টি নীতির সমন্বয় দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক নীতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।



