ম্যাকলসফিল্ড ফুটবল ক্লাব আগামী সোমবার ব্রেন্টফোর্ডের সঙ্গে এফএ কাপের ম্যাচে মুখোমুখি হবে, যা ক্লাবের ক্রিস্টাল প্যালেসকে পরাজিত করার পরের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এই জয়টি স্থানীয় ভক্তদের মধ্যে বিশাল উল্লাস সৃষ্টি করেছে এবং শহরের ফুটবলের ঐতিহ্যকে নতুন আলোতে তুলে ধরেছে।
চেসাইরের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত এই ছোট শহরের রেলওয়ে স্টেশনের প্যাসেঞ্জার ব্রিজে একটি ফ্রিজে শহরের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো লিপিবদ্ধ। সেখানে ১৮৭৪ সালে ম্যাকলসফিল্ড টাউন প্রতিষ্ঠা এবং ১৯৭৯ সালে জয় ডিভিশনের “আননন প্লেজারস” রিলিজের উল্লেখ রয়েছে। এই চিহ্নগুলো শহরের দীর্ঘায়ু ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতীক।
স্থানীয় মানুষদের মধ্যে একটি রসিকতা প্রচলিত যে, ১০৫ বছর ধরে ম্যাকলসফিল্ডে কোনো বড় ঘটনা ঘটেনি। “ম্যাকসের ম্যাকস” বলে পরিচিত এই শহরটি ধীরে ধীরে পরিবর্তনকে গ্রহণ করে, যেখানে বাসিন্দারা এই ধীর গতি নিয়ে সন্তুষ্ট।
শহরটি ঐতিহাসিকভাবে একটি উত্তর ইংল্যান্ডের মিল টাউন, যেখানে তুলার বদলে রেশম উৎপাদন প্রধান ছিল। এক সময়ে এটি একটি ব্যস্ত বাজার শহর হিসেবে পরিচিত ছিল, তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হাই স্ট্রিটের পতনের ফলে বাণিজ্যিক কার্যক্রম কমে গেছে।
বিশেষত মার্কস অ্যান্ড স্পেন্সের শাখা বন্ধ হয়ে গিয়ে এখনো বন্ধ দরজায় রয়ে গেছে, যা শহরের অর্থনৈতিক সংকটের দৃশ্যমান চিহ্ন। তবু, স্থানীয় উদ্যোগগুলো কিছুটা সান্ত্বনা দিচ্ছে।
প্রতি মাসের শেষ রবিবারে অনুষ্ঠিত হয় ট্রিকল মার্কেট, যেখানে হস্তশিল্পের খাবার ও ছোটখাটো পণ্য বিক্রি হয়। এই ইভেন্টটি অঞ্চলের “সবচেয়ে বড় মাসিক অনুষ্ঠান” হিসেবে গর্বের সঙ্গে প্রচারিত হয় এবং স্থানীয় ব্যবসায়িকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আয় উৎস।
ফুটবল শহরের হৃদয়ে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। ম্যাকলসফিল্ড এফসি ক্রিস্টাল প্যালেসকে পরাজিত করে এফএ কাপের ইতিহাসে এক বড় চমক সৃষ্টি করে, যা শহরের ফুটবল গর্বকে পুনরুজ্জীবিত করেছে। এই জয়টি স্থানীয় মিডিয়ার দৃষ্টিতে একটি উজ্জ্বল মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
যদিও এই বিজয়টি শহরের গলিতে বড় শোরগোল সৃষ্টি করে, তবু ম্যাকলসফিল্ড এক্সপ্রেস, যা মূলত ম্যানচেস্টার থেকে প্রকাশিত হয়, তার কাগজের সংস্করণে সীমিত স্থান পায়। অধিকাংশ খবর তাদের ওয়েবসাইটে এবং সংক্ষিপ্ত সাপ্তাহিক সংস্করণে প্রকাশিত হয়।
স্টেশন সমীপের ওল্ড মিলস্টোন পাবের সামনে একটি ব্যানার “We are the champions” লেখা রয়েছে। তবে এই ব্যানারে দেখা ক্লাবের লোগোটি ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে বন্ধ হয়ে যাওয়া ক্লাবের, যা ২০১৭-১৮ মৌসুমে ন্যাশনাল লিগের শিরোপা জিতেছিল। এই স্মৃতি ক্লাবের উঁচু সময়কে স্মরণ করিয়ে দেয়।
২০১৭-১৮ মৌসুমে ন্যাশনাল লিগের শিরোপা জয় করে ফুটবল লিগে প্রবেশের পর ক্লাবটি আর্থিক সমস্যার মুখে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত বন্ধ হয়ে যায়। এই ঘটনাটি স্থানীয় ভক্তদের জন্য একটি দুঃখজনক স্মৃতি হয়ে রয়ে গেছে, তবে একই সঙ্গে ভবিষ্যতে পুনর্গঠনের আশা জাগিয়ে তুলেছে।
ব্রেন্টফোর্ডের সঙ্গে আসন্ন ম্যাচটি ম্যাকলসফিল্ডের জন্য আরেকটি বড় পরীক্ষা হবে। উভয় দলই এফএ কাপের অগ্রগতির জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, এবং ম্যাচটি স্থানীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। ভক্তদের প্রত্যাশা উচ্চ, এবং শহরের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোও এই ম্যাচের মাধ্যমে অতিরিক্ত আয় আশা করছে।
ম্যাকলসফিল্ডের বাসিন্দারা এই ম্যাচকে শহরের ফুটবল ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখছে। তারা আশা করে যে ব্রেন্টফোর্ডের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী পারফরম্যান্স ক্লাবকে আবারও জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি এনে দেবে।
এফএ কাপের এই রাউন্ডে ম্যাকলসফিল্ডের পারফরম্যান্স স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে খাবার ও পানীয় ব্যবসা, হোটেল এবং স্মারক বিক্রেতাদের জন্য। শহরের ছোটখাটো ব্যবসায়িকদের জন্য এই ম্যাচটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সারসংক্ষেপে, ম্যাকলসফিল্ডের এফএ কাপের যাত্রা ক্রিস্টাল প্যালেসের বিরুদ্ধে চমকপ্রদ জয়ের মাধ্যমে শুরু হয়েছে এবং এখন ব্রেন্টফোর্ডের সঙ্গে মুখোমুখি হতে চলেছে। শহরের ঐতিহাসিক পটভূমি, অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং ফুটবলের প্রতি উত্সাহ একসঙ্গে এই ম্যাচকে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করে।



