ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু রবিবার জেরুজালেমে এক বক্তৃতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সঙ্গে নতুন পারমাণবিক চুক্তি গড়ার শর্ত হিসেবে সমগ্র সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ত্যাগ এবং ভবিষ্যতে কোনো সমৃদ্ধিকরণ না করার দাবি তুলে ধরেন। তিনি জোর দিয়ে বললেন, “ইরান থেকে সব সমৃদ্ধ পদার্থ বের করে নিতে হবে এবং কোনো সমৃদ্ধিকরণ ক্ষমতা থাকা যাবে না”।
এই মন্তব্যের সময় ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক দলগুলো স্বিটজারল্যান্ডে মঙ্গলবার দ্বিতীয় রাউন্ড আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। দু’পক্ষের প্রতিনিধিরা জেনেভা শহরে একত্রিত হয়ে পারমাণবিক বিষয়ক চূড়ান্ত সমঝোতার দিকে অগ্রসর হওয়ার লক্ষ্য রাখছে।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্র মন্ত্রী মাজিদ তাখ্ত‑রাভানচি টেলিভিশনকে জানিয়েছেন, যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়ে আলোচনা করতে ইচ্ছুক হয় তবে ইরান চুক্তি অর্জনের জন্য কিছু সমঝোতা করতে প্রস্তুত। তবে তিনি উল্লেখ করেছেন, শূন্য সমৃদ্ধিকরণ ইরানের জন্য লাল রেখা এবং পারমাণবিক অ-প্রসারণ চুক্তির অধীনে তার অধিকার লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে চুক্তি গড়ার জন্য চাপ বাড়িয়ে চলেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি শক্তিশালী করেছে। দুইটি বিমানবাহী জাহাজ, যার মধ্যে সর্ববৃহৎ যুদ্ধজাহাজও অন্তর্ভুক্ত, ইতিমধ্যে অঞ্চলে পাঠানো হয়েছে। অতিরিক্ত নৌবাহিনীর শক্তি সম্ভাব্য হুমকির বিরুদ্ধে সুরক্ষা প্রদান করবে, এ বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র সচিব মার্কো রুবিও স্লোভাকিয়ায় একটি সংবাদ সম্মেলনে মন্তব্য করেন।
রুবিও উল্লেখ করেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি আক্রমণের চেয়ে কূটনৈতিক সমাধান এবং আলোচনার মাধ্যমে ফলাফল পছন্দ করেন। তিনি যুক্তি দেন, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে সামরিক পদক্ষেপই শেষ বিকল্প হবে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের শীর্ষ কূটনৈতিক প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ এবং তার জামাই জ্যারেড কুশনার ইরানের আলোচনাকারী দল, যার মধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রী আব্বাস আরাগচি অন্তর্ভুক্ত, জেনেভায় সাক্ষাৎ করার পরিকল্পনা করছেন। রুবিও বলেন, ইরানের সঙ্গে সফল চুক্তি কখনো অর্জিত হয়নি, তবে এখনো চেষ্টা করা হবে।
২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত পারমাণবিক চুক্তি থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রত্যাহার করার পর ইরান তার পারমাণবিক কার্যক্রম সীমিত করে এবং আন্তর্জাতিক পরিদর্শনের অনুমতি দিয়ে কঠোর আর্থিক নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পেয়েছিল। বর্তমান আলোচনার পূর্বে তাখ্ত‑রাভানচি টেলিভিশনে জানিয়েছেন, তেহরানে ৬০% সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামকে পাতলা করে ইরানের সমঝোতার ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়েছে।
তবে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম, যা অস্ত্রের স্তরের কাছাকাছি, ইরানের ইচ্ছার ওপর সন্দেহ বাড়িয়ে তুলেছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে সতর্কতা সৃষ্টি করেছে।
এই পর্যায়ে আলোচনার ফলাফল ইরান-ইসরাইল সম্পর্ক এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। যদি ইরান সমৃদ্ধিকরণ বন্ধ করতে সম্মত হয় এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পথে এগোতে পারে, তবে পারমাণবিক উত্তেজনা হ্রাস পেতে পারে। অন্যদিকে, কোনো অগ্রগতি না হলে অঞ্চলীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়তে পারে এবং ভবিষ্যতে সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পেতে পারে।
সারসংক্ষেপে, বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ত্যাগের দাবি তুলে ধরেছেন, একই সঙ্গে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক দলগুলো স্বিটজারল্যান্ডে পরবর্তী আলোচনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। উভয় পক্ষের অবস্থান ও আন্তর্জাতিক চাপের সমন্বয়ে এই আলোচনার ফলাফল মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও পারমাণবিক অ-প্রসারণ নীতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।



