মানিকগঞ্জের চাপওয়ালার শ্বশুর বাড়ি বাংলা হোটেল ও রেস্টুরেন্টে ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত আটটার দিকে এক গ্রাহক ও তার সঙ্গীরা হিংসাত্মক হামলার শিকার হন। আক্রমণটি ঘটার সময় রেস্টুরেন্টে কিছু নারী গ্রাহকের সঙ্গে একজন কর্মী অনুপযুক্ত আচরণ করছিল, যা লক্ষ্য করা গ্রাহক ও তার বন্ধুদের বিরক্তি সৃষ্টি করে। প্রতিবাদে গিয়ে গ্রাহক ও সঙ্গীরা কথোপকথনকে তীব্রতর করে তোলার পর, কয়েকজন অপরাধী লোহার রড, হাতুড়ি, চাপাতি, ধারালো ছুরি, কুড়াল, বেলচা এবং বাঁশের লাঠি ব্যবহার করে আক্রমণ চালায়।
আক্রমণে আহত গ্রাহক মো. আতিকুর রহমান খান এবং তার সঙ্গীরা রক্তাক্ত ও গুরুতর অবস্থায় মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়। আহতদের অবস্থা স্থিতিশীল হলেও চিকিৎসা চলমান। ঘটনাস্থলে উপস্থিত রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার কিরণ খান তখন উপস্থিত ছিলেন না, যা তদন্তের সময় একটি বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আতিকে আঘাতকারী ১৩ জনের মধ্যে পরিচিত ছয়জনের নাম পাওয়া গেছে: মো. ইমরান (২৪), মো. লিখন (২২), হাসান (২৭), জীবন (২৫), মুন্না (২২) এবং মঞ্জুর (২৬)। বাকি সাতজনের পরিচয় এখনও অজানা। গ্রাহক আতিকুরের চাচা মো. খলিলুল রহমান খান বাদল, মানিকগঞ্জ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে এই ১৩ জনের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
রেস্টুরেন্টের মালিক চিত্রনায়ক ওমর সানি জানান, কর্মী ঘাটতির কারণে কয়েক দিন আগে লিখনকে নিয়োগ করা হয়েছিল। তিনি লিখনের স্বভাব ও চরিত্র নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে, তাকে মাদকাসক্ত ও অনিয়মিত আচরণকারী বলে উল্লেখ করেন। সানি বলেন, তিনি এখনও বুঝতে পারছেন না কেন একটি গ্রাহকের সঙ্গে এ রকম হিংসা ঘটেছে এবং ঘটনাটির ন্যায়সঙ্গত বিচার চাচ্ছেন।
আক্রমণের খবর জানার সঙ্গে সঙ্গেই ওমর সানি পুলিশ ও সেনা সদস্যদের ফোন করে বিষয়টি জানিয়ে দেন। সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা লিখনের কাছ থেকে সতর্কতা জানিয়ে মুচলেকা নেন এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা না ঘটার জন্য নির্দেশ দেন।
মানিকগঞ্জ সদর থানার ওয়্যার্ড অফিসার (ওসি) মো. ইকরাম হোসেন জানান, ঘটনার পরপরই মামলা রুজু করা হয়েছে এবং সন্দেহভাজীদের গ্রেপ্তার করার চেষ্টা চলছে। বর্তমানে পুলিশ দল অপরাধীদের অবস্থান অনুসন্ধান, সাক্ষ্য সংগ্রহ এবং প্রমাণ সংরক্ষণে কাজ করছে।
অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন ইতিমধ্যে গ্রেফতার হয়েছে, তবে বাকি অপরাধীদের ধরা এখনও বাকি। তদন্তকালে রেস্টুরেন্টের সিকিউরিটি ক্যামেরা রেকর্ড, সাক্ষীদের বিবৃতি এবং চিকিৎসা রেকর্ডকে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
আইনগত প্রক্রিয়া চলমান থাকায়, মামলার চূড়ান্ত রায়ের আগে সব পক্ষের অধিকার রক্ষার জন্য যথাযথ তদন্তের প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়ে বলা হচ্ছে। ভবিষ্যতে রেস্টুরেন্টে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি এবং গ্রাহকের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রতিশ্রুতি জানানো হয়েছে।



