সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) জামায়াত-এ-ইসলামির সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও পার্টি নেতা মোহাম্মদ শিশির মনির নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টে স্পষ্টভাবে জানালেন, পার্টির নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ট্যাক্স‑ফ্রি গাড়ি ও সরকারি প্লট গ্রহণ করা হবে না। তিনি উল্লেখ করেন, “পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আমাদের এমপি মহোদয়গণ ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি এবং সরকারি প্লট গ্রহণ করবেন না ইনশাআল্লাহ।”
এই নির্দেশের পেছনে ২০২৫ সালের ৭ নভেম্বর সিলেট নগরে অনুষ্ঠিত জামায়াত-এ-ইসলামি সুধী সমাবেশের সময় করা এক ঘোষণার ভিত্তি রয়েছে। সেই সমাবেশে জামায়াতের আমির ডা. আমির শফিকুর রহমান স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, “আগামীতে আমাদের একজনও যদি এমপি নির্বাচিত হন, তাদের কেউ সরকারি প্লট নেবেন না ও বিনা ট্যাক্সের গাড়িতে চলবেন না।”
মোহাম্মদ শিশির মনিরের পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, যদি কোনো কারণে পার্টি বিরোধী দলে বসতে হয়, তারা সরকারী দলের সঙ্গে মানবিক ও সামাজিক কাজের জন্য সহযোগিতা করবে। তিনি বলেন, “যদি কোনো কারণে আল্লাহর ইচ্ছায় আমাদের বিরোধী দলে বসতে হয়, আমরা তাদের (সরকারি দল) আশ্বস্ত করছি, প্রতিটি মানবিক ও ভালো কাজে আমরা অবশ্যই তাদের কর্মী হয়ে কাজ করব।”
এছাড়া তিনি অতিরিক্তভাবে উল্লেখ করেন, সরকারে বসার পর যদি কোনো সদস্য পুরোনো কায়দা ভঙ্গ করে, তবে প্রথমে ব্যক্তিগতভাবে সংশোধনের আহ্বান জানাবেন। “তারা সরকারে যাওয়ার পর আবার যদি পুরোনো কায়দায় ওলট-পালট কিছু করে, প্রথমে ব্যক্তিগতভাবে বলব, এগুলো ছেড়ে দেন। যদি তারা সংশোধন হয়ে যান, অভিনন্দন জানাব। যদি না করেন, তবে আগেও যেমন জীবন বাজি রেখে আন্দোলন‑সংগ্রাম আমরা করেছি, আগামীতেও ছাড় দেব না।”
এই ঘোষণার মূল উদ্দেশ্য হল পার্টির নৈতিকতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা, পাশাপাশি জনগণের কাছে পার্টির অখণ্ডতা প্রদর্শন করা। ট্যাক্স‑ফ্রি গাড়ি ও সরকারি প্লটের মতো সুবিধা না নিয়ে পার্টির সদস্যরা স্বেচ্ছায় স্বয়ংসম্পূর্ণতা বজায় রাখবেন বলে তারা জোর দিয়েছেন।
দলটির এই পদক্ষেপকে কিছু বিশ্লেষক পার্টির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তবে পার্টির বিরোধী গোষ্ঠী এই সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখার সম্ভাবনা রয়েছে, বিশেষত নির্বাচনী প্রতিযোগিতার সময়ে।
প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, জামায়াত-এ-ইসলামির এই নীতি সরকারী সুবিধা না নেওয়া একটি প্রতীকী পদক্ষেপ, যা ভোটারদের কাছে পার্টির স্বচ্ছতা ও নৈতিকতা তুলে ধরতে পারে। অন্যদিকে, সরকারী দল এই নীতিকে পার্টির স্ব-সীমাবদ্ধতা হিসেবে দেখবে, যা তাদের নীতি-নির্ধারণে কোনো বাধা সৃষ্টি না করে।
ভবিষ্যতে যদি জামায়াত-এ-ইসলামির কোনো এমপি সরকারী দলে অংশ নেয়, তবে মোহাম্মদ শিশির মনিরের উল্লিখিত শর্তাবলী অনুসরণ করা হবে বলে দলটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই শর্তের মধ্যে রয়েছে সরকারী সুবিধা না গ্রহণ এবং মানবিক কাজের জন্য সরকারী দলের সঙ্গে সমন্বয় করা।
এই ঘোষণার ফলে পার্টির অভ্যন্তরে নীতি-নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়বে বলে আশা করা যায়। এছাড়া, পার্টির সদস্যদের মধ্যে নৈতিক দায়িত্ববোধ জোরদার হবে, যা ভবিষ্যৎ নির্বাচনী প্রচারণায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
অধিকন্তু, এই পদক্ষেপটি অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর জন্যও একটি উদাহরণ হতে পারে, বিশেষত যখন সরকারী সুবিধা ও স্বার্থের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কের প্রশ্ন উত্থাপিত হয়।
সামগ্রিকভাবে, জামায়াত-এ-ইসলামি এই নীতি অনুসরণ করে পার্টির স্ব-পরিচয়কে পরিষ্কার করতে চাচ্ছে, একই সঙ্গে ভোটারদের কাছে নৈতিকতা ও স্বচ্ছতার বার্তা পৌঁছে দিতে চায়।
এই ঘোষণার পরবর্তী ধাপ হিসেবে পার্টি নেতৃত্বের কাছ থেকে আরও বিস্তারিত নির্দেশনা আসার সম্ভাবনা রয়েছে, যাতে সব এমপি ও পার্টি কর্মীরা একসাথে এই নীতি মেনে চলতে পারেন।
সর্বশেষে, মোহাম্মদ শিশির মনিরের ফেসবুক পোস্টটি পার্টির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও নৈতিক মানদণ্ডের প্রতি অঙ্গীকারের স্পষ্ট প্রকাশ, যা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।



