পাকিস্তান ও ভারত এ দলের মধ্যে অনুষ্ঠিত টি২০ সিরিজের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে, দু’দলই শীঘ্রই মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। পাকিস্তানের নেটস শেষের দিকে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে, স্টেডিয়ামের পার্শ্বে ডি.জে. ‘ফাস্ট কোম্পানি’ গানের সুর বাজে, যা ভিড়ের চাপ ও সমবয়সীর প্রভাবকে তুলে ধরে। এই পরিবেশে ২৪ ঘণ্টা পর, হারদিক পাণ্ড্যা দুইটি স্লিপে সজ্জিত হয়ে বাবর আজমের দিকে বোলিং শুরু করে, যা ম্যাচের কৌশলগত মোড়ের সূচনা করে।
পাকিস্তান প্রথম ২০ ওভারের বেশিরভাগই স্পিনের ওপর নির্ভর করে, যার মধ্যে পাওয়ারপ্লে সময়ে ছয়টি ওভারের পাঁচটি স্পিন বোলার ব্যবহার করে। নতুন বল হাতে নেওয়া সলমান আহগা প্রথমই অভিষেক শর্মাকে আউট করে, যা স্পিনের প্রভাবকে ত্বরান্বিত করে এবং শুরুর থেকেই বলের ঘূর্ণনের গুরুত্বকে তুলে ধরে। সলমানের সফল আউটের পর, সাইম আয়ুব দুইটি ওভারে তীক্ষ্ণ টার্ন দেখিয়ে, প্রায় ৭০ শতাংশ ডেলিভারিতে চার ডিগ্রি থেকে বেশি বিচ্যুতি তৈরি করে, যা ব্যাটসম্যানের দৃষ্টিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন।
এই ধরনের শর্তে, ভারত এ দল স্পিন দিয়ে শুরু করার সুযোগ পেতে পারত। দলটি ধীর পিচের জন্য প্রস্তুত ছিল, যেখানে কুলদীপ যাদব আরশদীপ সিংয়ের পরিবর্তে খেলায় নামেন, যা এশিয়া কাপের ধীর পিচের টেমপ্লেটের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাছাড়া অক্ষর প্যাটেল নতুন বল নেয়ার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ, ফলে স্পিনের ব্যবহারকে সমর্থন করার জন্য যথেষ্ট কারণ ছিল।
তবে, সুর্যকুমার যাদবের সিদ্ধান্তে দলটি স্পিনের বদলে সিম দিয়ে শুরুর দিকে অগ্রসর হয়। পাওয়ারপ্লে সময়ে প্রথম চার ওভার সম্পূর্ণ সিমের ওপর ভিত্তি করে, যার মধ্যে দু’টি ওভার হারদিক পাণ্ড্যা এবং দু’টি ওভার জাসপ্রিত বুমরাহের। এই চার ওভার ধারাবাহিকভাবে সিম দিয়ে শুরু হওয়ায়, প্রকৃত অর্থে অফ-স্পিড ডেলিভারি ১৮তম বল পর্যন্ত দেখা যায়নি।
হারদিক পাণ্ড্যা স্লিপে দুইজন ক্যাচার রাখার পেছনে কৌশলগত কারণ ছিল। ধীর পিচে ব্যাটসম্যানের পা না সরিয়ে, দ্রুত সিমের হিট-দ্য-ডেক এবং কঠিন দৈর্ঘ্য ব্যবহার করে আউট নেওয়া সহজ হয়। তাই, প্রথমে ঘূর্ণন বা ধোঁকাবাজি না দিয়ে, সরাসরি সিমের গতি ও লাইনকে কাজে লাগিয়ে ব্যাটসম্যানকে চাপে আনা হয়।
পাকিস্তানের স্পিনের আধিপত্যের পরেও, ভারত এ দলের সিম-প্রথম কৌশল ম্যাচের প্রাথমিক পর্যায়ে ব্যাটসম্যানদের রিদম ভাঙতে সহায়তা করে। স্লিপে ক্যাচার রাখা, ধারাবাহিক সিম ওভার এবং কঠিন দৈর্ঘ্য ব্যবহার করে পাণ্ড্যা ও বুমরাহের বোলিং, ব্যাটিং দলে তৎকালীন অস্থিরতা সৃষ্টি করে। এই পদ্ধতি, যদিও স্পিনের সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়নি, তবু ম্যাচের গতি পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সারসংক্ষেপে, পাকিস্তান দলের স্পিনের ওপর নির্ভরতা এবং ভারত এ দলের সিম-প্রথম পদ্ধতি দু’দলই শর্ত অনুযায়ী তাদের শক্তি ব্যবহার করেছে। সলমান আহগা ও সাইম আয়ুবের স্পিনের প্রভাব, এবং হারদিক পাণ্ড্যা ও জাসপ্রিত বুমরাহের সিমের ধারাবাহিকতা, ম্যাচের প্রথম অর্ধে উভয় দলের কৌশলগত পছন্দকে স্পষ্ট করে। ভবিষ্যৎ ম্যাচে এই দুই পদ্ধতির সমন্বয় কিভাবে গতি পাবে, তা দর্শকদের জন্য আকর্ষণীয় থাকবে।



