প্রাক্তন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা ট্রাম্প প্রশাসন কর্তৃক প্রকাশিত একটি বর্ণবাদী ভিডিও এবং মিনেসোটা রাজ্যে পরিচালিত কঠোর অভিবাসন বিরোধী অভিযানকে তীব্র সমালোচনা করেছেন। ওবামা এই মন্তব্যগুলো একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে প্রদান করেন, যেখানে তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশের পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
“যারা এক সময় মনে করতেন যে পদের প্রতি সম্মান, শিষ্টাচার এবং সৌজন্যবোধ থাকা প্রয়োজন, তাদের মধ্যে এখন আর কোনও লজ্জা কাজ করে বলে মনে হয় না, তাই না? সেই বোধটা হারিয়ে গেছে।” ওবামা এই উক্তিতে বর্তমান নৈতিক মানদণ্ডের অবনতি নির্দেশ করেন।
তিনি উল্লেখ করেন যে ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যা বর্ণবাদী উপাদান ধারণের জন্য ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে। ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন নাগরিক গোষ্ঠীর মধ্যে অসন্তোষের সৃষ্টি করে।
“রাজনৈতিক বক্তৃতা এমন এক নিষ্ঠুরতার পর্যায়ে নেমে গেছে, যা আগে দেখা যায়নি।” এই মন্তব্যে ওবামা বর্তমান রাজনৈতিক ভাষ্যের তীব্রতা ও আক্রমণাত্মক স্বরকে সমালোচনা করেন। তিনি যুক্তি দেন যে, পূর্বের শিষ্টাচার ও সম্মানের মানদণ্ড এখন অপ্রাসঙ্গিক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ওবামা ট্রাম্প প্রশাসনের মিনেসোটা রাজ্যে পরিচালিত অভিবাসন বিরোধী কঠোর অভিযানকেও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, এই ধরনের নীতি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশ্নবিদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ মানুষকে এই আচরণকে গভীর উদ্বেগজনক হিসেবে দেখছেন বলে উল্লেখ করেন। “যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ মানুষ এ ধরনের আচরণকে গভীরভাবে উদ্বেগজনক মনে করে।” এই মন্তব্যে তিনি জনমতের ব্যাপক বিরোধিতা তুলে ধরেন।
ওবামা আরও জানান, এই ধরনের বিতর্কমূলক বিষয়গুলো জনসাধারণের মনোযোগকে মূল সমস্যার থেকে সরিয়ে নেয়। “এটি সত্য যে, এসব বিষয় মনোযোগ আকর্ষণ করে। আবার এটাও সত্য যে, এগুলো মূল বিষয় থেকে মনোযোগ সরিয়ে দেয়।” তিনি এই বক্তব্যে বর্তমান রাজনৈতিক আলোচনার দিক পরিবর্তনের দিকে ইঙ্গিত করেন।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন যে, ওবামার এই সমালোচনা ট্রাম্প প্রশাসনের আন্তর্জাতিক চিত্রকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং অভ্যন্তরীণভাবে রাজনৈতিক চাপ বাড়াতে পারে। তবে ওবামা নিজে কোনো নীতি প্রস্তাব না করে শুধুমাত্র বর্তমান পরিস্থিতির প্রতি তার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি, তবে পূর্বে উল্লেখিত ভিডিও ও অভিবাসন নীতির সমর্থকরা এই সমালোচনাকে রাজনৈতিক বিরোধের অংশ হিসেবে দেখছেন।
এই বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়ে গেছে এবং পরবর্তী সপ্তাহে আরও বিশ্লেষণ ও মন্তব্যের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
ওবামার মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে, বিভিন্ন নাগরিক অধিকার সংস্থা ও মানবাধিকার গোষ্ঠী এই বিষয়গুলোকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে তুলনা করে সমালোচনা চালিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।



