26 C
Dhaka
Monday, February 16, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধগাইবান্ধা মাদক নিরাময় কেন্দ্রে যুবকের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ

গাইবান্ধা মাদক নিরাময় কেন্দ্রে যুবকের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ

গাইবান্ধা শহরের ভি-এইড রোডে অবস্থিত একটি মাদক নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে ২৮ বছর বয়সী মুর্শিদ হক্কানীর ওপর শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। তার বড় ভাই আওরঙ্গ হক্কানী শনিবার বিকালে গাইবান্ধা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, কেন্দ্রের কর্মীরা রোগীর শরীরে মারাত্মক আঘাত হানেন এবং তাকে হুমকি দিয়ে গোপন রাখার চেষ্টা করেন।

কেন্দ্রটি গাইবান্ধার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গণউন্নয়ন কেন্দ্র-জিইউকে পরিচালনা করে। মুর্শিদকে গত বছর ২৮ আগস্ট মানসিক অস্থিরতার কারণে ভর্তি করা হয় এবং পরিবারকে প্রাথমিকভাবে রোগীর সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়। তবে পরবর্তীতে অজুহাত দিয়ে এই অনুমতি বন্ধ করা হয়।

আওরঙ্গ হক্কানী ১১ ফেব্রুয়ারি তার ভাইকে দেখার জন্য কেন্দ্রের দরজায় গিয়ে কর্মীদের অগোছালো ও অসংলগ্ন উত্তর পেয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। বহুবার অনুরোধের পর বিকালে মুর্শিদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পান। সাক্ষাতের সময় রোগীর নাক, শরীরের বিভিন্ন স্থানে কাটাছেঁড়া, ফোলা ও চোটের স্পষ্ট চিহ্ন দেখা যায়। এরপর কেন্দ্রের কাছ থেকে পাওনা পরিশোধ করে রোগীকে বাড়ি নিয়ে যাওয়া হয়।

মুর্শিদের পরিবার দাবি করে যে, কেন্দ্রের একটি আধাপাকা ঘরে তাকে মুখের ভিতরে কাপড় ঢুকিয়ে, লোহার রড দিয়ে দু’হাত, পিঠ, উরু, হাঁটু, নাক এবং বাম হাতের তালুতে ধারাবাহিকভাবে আঘাত করা হয়। এক পর্যায়ে তার দুই পা রশি দিয়ে বাঁধা হয় এবং উল্টো করে গ্রিলের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়, যার ফলে তিনি অচেতন হয়ে যান। নির্যাতনের পর তাকে পরিবারকে না জানানোর জন্য হুমকি দেওয়া হয়।

পরিবারের লোকজন মুর্শিদকে কেন্দ্র থেকে বের করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

কেন্দ্রের কাউন্সিলর কাবিউল আজাদ বাদল জানান, মুর্শিদের আচরণ অন্যান্য রোগীদের সঙ্গে সংঘর্ষের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল এবং সেই সময়ে অন্যান্য রোগীরা তাকে মারধর করেছিল। তিনি এই ঘটনার জন্য কেন্দ্রের অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়ার দায় স্বীকার করেন।

গাইবান্ধা সদর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন অভিযোগ গ্রহণের কথা জানিয়ে বলেন, প্রয়োজনীয় তদন্ত চালিয়ে প্রমাণের ভিত্তিতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, তদন্ত চলাকালে সকল সংশ্লিষ্টের সাক্ষ্য নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় মেডিকেল রিপোর্ট সংগ্রহ করা হবে।

প্রতিবেদন অনুসারে, মুর্শিদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয় আদালতে মামলা দায়ের করা হতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রের কার্যক্রমের উপর তদারকি বাড়ানো হবে।

এই ধরনের ঘটনা সমাজে মাদক নিরাময় কেন্দ্রের প্রতি বিশ্বাস ক্ষয় করে, তাই তদন্তের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ত্বরিত পদক্ষেপের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments