26 C
Dhaka
Monday, February 16, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিপ্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খগড়া প্রসাদ শর্মা অলির পুনরায় নির্বাচনী প্রচার শুরু

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খগড়া প্রসাদ শর্মা অলির পুনরায় নির্বাচনী প্রচার শুরু

কোমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল‑ইউনিফাইড মার্কসিস্ট লেনিনিস্ট (CPN‑UML) এর নেতা খগড়া প্রসাদ শর্মা অলি, ৭৩ বছর বয়সে, ৫ মার্চ নির্ধারিত পার্লামেন্ট নির্বাচনে পুনরায় শাসন পুনর্গঠন করার লক্ষ্যে প্রচার চালু করেছেন। তিনি চারবার দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তবে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে যুবকেন্দ্রিক প্রতিবাদে সরকার পতিত হয়ে তিনি পদত্যাগ করেন।

ওলি নেপালের রাজনীতিতে পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে সক্রিয় ছিলেন, কমিউনিস্ট গোষ্ঠীর মধ্যে তার প্রভাব বিশাল। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের অ্যান্টি‑করাপশন আন্দোলনে অন্তত ৭৭ জনের মৃত্যু ঘটার পর, তার সরকার সামাজিক মিডিয়া নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে পরিস্থিতি তীব্র করে, যা ব্যাপক অর্থনৈতিক মন্দা ও দুর্নীতির বিরোধিতা করে গৃহীত প্রতিবাদকে ত্বরান্বিত করে।

সেই প্রতিবাদে মবগুলো তার বাড়ি, সংসদ ভবন এবং সরকারী অফিসে আগুন জ্বালায়, ফলে তিনি ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তার পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, দেশের রাজনৈতিক সমাধান ও সমস্যার সমাধানের পথে অগ্রসর হতে এই পদক্ষেপ প্রয়োজন।

প্রতিবাদের পরপরই, জানুয়ারি মাসে অস্থায়ী সরকারের গঠন করা একটি কমিশনের সামনে তিনি তার বিবৃতি দেন, যেখানে তিনি পুলিশকে গুলিবর্ষণ করার কোনো আদেশ দেননি বলে অস্বীকার করেন। তিনি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত অডিও রেকর্ডিংয়ে বলেন, “আমি গুলিবর্ষণের কোনো নির্দেশ দিইনি” এবং দায়িত্বকে “অনুপ্রবেশকারী” বা “অরাজক শক্তি”র ওপর চাপিয়ে দেন।

ওলি আরও যোগ করেন, আইন নিজেই গুলিবর্ষণকে অনুমোদন করে এমন একটি পরিস্থিতিতে শিশুদের (যুবকদের) ধাক্কা দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি এই দায়িত্বের বিশদ ব্যাখ্যা দেননি, কেবলমাত্র অজ্ঞাত গোষ্ঠীর দোষারোপ করেন।

বর্তমানে, CPN‑UML এর সর্বোচ্চ পদে পুনরায় নির্বাচিত হয়ে, ওলি পার্লামেন্টের অধিকাংশ আসন পুনরুদ্ধার করে সরকার গঠন করার লক্ষ্য রাখছেন। তবে তার নিজস্ব নির্বাচনী জেলায় ৩৫ বছর বয়সী র‍্যাপার‑মেয়র বালেন্দ্র শাহের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে, যাকে যুব পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

প্রচারাভিযান সোমবার থেকে শুরু হবে, এবং ওলি সম্প্রতি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ভোটের জন্য আবেদন করেছেন। তিনি নির্বাচনের প্রতিযোগিতাকে “দেশকে পুড়িয়ে দেয়া ও গড়ে তোলার মধ্যে পার্থক্য” হিসেবে বর্ণনা করেন, যা তার সমর্থকদের মধ্যে পুনরায় আশার সঞ্চার করেছে।

প্রতিপক্ষের বালেন্দ্র শাহ, যিনি পূর্বে র‍্যাপার হিসেবে জনপ্রিয়তা অর্জন করে কুমিল্লা শহরের মেয়র পদে নির্বাচিত হয়েছেন, তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে আধুনিক ও উদ্ভাবনী নীতি প্রস্তাব করছেন। তার প্রচারাভিযানও একই সময়ে শুরু হবে, যা দুজনের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক মুখোমুখি তৈরি করবে।

প্রতিবাদে সামাজিক মিডিয়া নিষেধাজ্ঞা মূল কারণ ছিল, তবে অর্থনৈতিক স্থবিরতা ও দীর্ঘস্থায়ী দুর্নীতি এই আন্দোলনের পেছনে মূল চালিকাশক্তি ছিল। এই বিষয়গুলো এখনও নেপালের জনমতকে প্রভাবিত করে, এবং উভয় প্রার্থীই এই সমস্যাগুলো সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

ওলির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সন্দেহের মুখে, তিনি ডিসেম্বর মাসে CPN‑UML এর চেয়ারম্যান পদে বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠতার সঙ্গে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন, যা তার পার্টির ভিতরে শক্তিশালী সমর্থনকে নির্দেশ করে।

বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, যদি ওলি পার্লামেন্টে অধিকাংশ আসন পুনরুদ্ধার করতে সফল হন, তবে তিনি পুনরায় সরকার গঠন করে পূর্বে আরোপিত নীতিগুলোর পুনর্বিবেচনা করতে পারেন। অন্যদিকে, বালেন্দ্র শাহের জয় যদি ঘটে, তবে নেপালের রাজনীতিতে যুবকেন্দ্রিক পরিবর্তনের একটি নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে।

অবশেষে, নেপালের রাজনৈতিক দৃশ্যপট এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে পৌঁছেছে, যেখানে পুরোনো কমিউনিস্ট নেতার প্রত্যাবর্তন এবং তরুণ পরিবর্তনের প্রতীকীর উত্থান একসাথে দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments