সরকারি আদেশের ভিত্তিতে বিটিআরসি টেলিটক বাংলাদেশকে ৭০০ MHz ব্যান্ডের অবশিষ্ট ১৫ MHz-র মধ্যে ১০ MHz স্পেকট্রাম প্রদান করবে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে টেলিটকের ৫,৫০৬ কোটি টাকার বেশি বকেয়া ফি ও অন্যান্য দায়‑দায়িত্ব রয়েছে।
পোস্ট ও টেলিকমিউনিকেশনস বিভাগ সম্প্রতি একটি কার্যনির্দেশ জারি করে বিটিআরসি-কে নির্দেশ দিয়েছে যে, অপ্রতিদানযোগ্য ১৫ MHz‑র মধ্যে ১০ MHz টেলিটকের কাছে বরাদ্দ করা হোক। এই নির্দেশটি এক্সিকিউটিভ অর্ডারের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
৭০০ MHz ব্যান্ডের মোট ২৫ MHz স্পেকট্রাম নিলামের জন্য নির্ধারিত ছিল। জানুয়ারি ২১ তারিখে গ্রামীণফোন প্রথম মোবাইল অপারেটর হিসেবে এই ব্যান্ডে অংশগ্রহণ করে ১০ MHz স্পেকট্রাম অর্জন করে। ভিত্তি মূল্য প্রতি MHz ২৩৭ কোটি টাকার হারে নির্ধারিত হওয়ায় গ্রামীণফোন মোট ২,৩৭০ কোটি টাকায় এই বরাদ্দ সম্পন্ন করেছে।
নিলাম প্রক্রিয়ার আগে বিটিআরসি সীমিত অংশগ্রহণের সম্ভাবনা বিবেচনা করে নিলাম নীতিমালা পরিবর্তন করে একক অপারেটরের সর্বোচ্চ অধিগ্রহণ ক্ষমতা ১৫ MHz থেকে ১০ MHz করে কমিয়ে দেয়। ফলে গ্রামীণফোন একমাত্র দরদাতা হিসেবে ১০ MHz পেয়ে যায়, আর বাকি ১৫ MHz অপ্রতিদানযোগ্য রয়ে যায়।
বাকি থাকা ১৫ MHz-র মধ্যে সরকার এখন ১০ MHz টেলিটকের কাছে বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ফলে অবশিষ্ট স্পেকট্রাম মাত্র ৫ MHz থাকবে। এই বরাদ্দের ফলে টেলিটককে নতুন ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের সুযোগ মিলবে।
তবে টেলিটকের বকেয়া পরিমাণ ৫,৫০৬ কোটি টাকার বেশি হওয়ায় এই সিদ্ধান্তটি বিদ্যমান স্পেকট্রাম নীতিমালার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ কিনা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী বকেয়া ফি থাকা অপারেটরকে নতুন বরাদ্দ দেওয়া নিষিদ্ধ।
বিটিআরসি চেয়ারম্যান মো. এমদাদ উল বরি সরকারী চিঠি পাওয়ার কথা নিশ্চিত করে জানান যে, টেলিটক পূর্বে একই ব্যান্ডে স্পেকট্রাম চেয়েছিল, তবে নিলাম ছাড়া বরাদ্দ করা প্রতিযোগিতামূলক না হওয়ায় তা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল।
বিটিআরসি চেয়ারম্যানের মতে, নিলাম সম্পন্ন হওয়ার পর অবশিষ্ট ১৫ MHz-র মধ্যে ১০ MHz সরকারীভাবে বরাদ্দ করা সম্ভব, কারণ এই অংশটি কোনো দরদাতা ছাড়া অবশিষ্ট ছিল। তাই সরকারী নির্দেশে টেলিটককে বরাদ্দ করা আইনগতভাবে অনুমোদিত হতে পারে।
বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, টেলিটকের বকেয়া ফি পরিশোধে দেরি হলে তার আর্থিক স্বাস্থ্যের ওপর চাপ বাড়বে এবং ভবিষ্যতে অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণের সম্ভাবনা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে, নতুন স্পেকট্রাম ব্যবহার করে সেবা গুণগত মান উন্নয়ন করলে গ্রাহক ভিত্তি সম্প্রসারণে সহায়তা পাবে।
অবশিষ্ট ৫ MHz স্পেকট্রাম এখনও অপ্রতিদানযোগ্য রয়ে যাওয়ায় বিটিআরসি ভবিষ্যতে অতিরিক্ত নিলাম বা পুনর্বণ্টনের পরিকল্পনা করতে পারে। এই পরিস্থিতি বাজারে প্রতিযোগিতা ও স্পেকট্রাম মূল্য নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।
সারসংক্ষেপে, সরকারী নির্দেশে টেলিটককে ১০ MHz স্পেকট্রাম বরাদ্দের ফলে রাষ্ট্রের মালিকানাধীন অপারেটরের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে সুযোগ সৃষ্টি হবে, তবে বকেয়া ফি পরিশোধের দায়িত্ব এবং নিয়মের সঙ্গতি নিয়ে নিয়ন্ত্রক ও শিল্পের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।



