18 C
Dhaka
Monday, February 16, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাজাতীয় নির্বাচনের পর শেয়ারবাজারে ১৮ মাসের সর্বোচ্চ বৃদ্ধি

জাতীয় নির্বাচনের পর শেয়ারবাজারে ১৮ মাসের সর্বোচ্চ বৃদ্ধি

২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের ফলাফলের পর শেয়ারবাজারে তীব্র উত্থান দেখা গেছে। প্রথম ট্রেডিং দিনে ডিএসইএক্স সূচক ২০০ পয়েন্ট, অর্থাৎ ৩.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৫,৬০০ পয়েন্টে পৌঁছেছে। এটি আগস্ট ২০২৪‑এর পর সর্বোচ্চ একদিনের উত্থান, যখন আওয়ামী লীগের পতনের পর ব্যাপক সংস্কারের প্রত্যাশা বাজারকে উচ্ছ্বসিত করেছিল।

বাজারে পুনরায় আত্মবিশ্বাসের ছাপ স্পষ্ট, কারণ বিনিয়োগকারীরা নতুন সরকারকে সংস্কার ও তদারকি শক্তিশালী করার সম্ভাবনা নিয়ে সক্রিয়ভাবে লেনদেন করছেন। এই সপ্তাহে শাসন গ্রহণের পথে থাকা বিএনপি-নেতৃত্বাধীন সরকারকে নিয়ে আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে।

লেনদেনের মোট মূলধন ৬১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১,২৭৫ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। পাঁচ মাসের মধ্যে প্রথমবার দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ ১,০০০ কোটি টাকার সীমা অতিক্রম করেছে। মোট ৩৯৪টি শেয়ার লেনদেনে অংশ নিয়েছে, যার মধ্যে ৩৬৪টি শেয়ার মূল্য বাড়ায়, আর মাত্র ২৬টি শেয়ার হ্রাস পেয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে পুনরায় আগ্রহী হতে পারেন। এ ধরনের প্রত্যাশা শেয়ার মূল্যের দ্রুত উত্থানে সহায়তা করেছে।

অস্থায়ী সরকারের সময়কালে সংস্কারমূলক পদক্ষেপ চালু থাকলেও সূচকটি গত এক বছর অর্ধেক সময়ে উত্থান-পতনের মধ্যে দোল খেয়েছে। নির্বাচনের ফলাফল নতুন আশার সঞ্চার করে বাজারে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করেছে।

তবে উত্থান সমানভাবে ছড়িয়ে পড়েনি। ইসলামী ব্যাংক প্রায় ৫ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত তালিকায় শীর্ষে রয়েছে। ইবনে সীনা শেয়ারও হ্রাস পেয়েছে। উভয় প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে উল্লেখযোগ্য অংশীদারিত্ব বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতাদের হাতে রয়েছে বলে ধারণা করা হয়, এবং তাদের নির্বাচনী ফলাফল বাজারের মনোভাবকে প্রভাবিত করেছে।

অন্যদিকে, বিএনপি নেতাদের সঙ্গে সংযুক্ত কিছু কোম্পানি দৈনিক সর্বোচ্চ সীমা, অর্থাৎ প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত উত্থান দেখেছে। উদাহরণস্বরূপ, ডাকা ডাইইংয়ের শেয়ার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যদিও পুরো তালিকা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশিত হয়নি।

বাজারের সামগ্রিক প্রবণতা দেখায়, ভোটের পর স্বল্পমেয়াদে বিনিয়োগকারীর আশাবাদ পুনরুদ্ধার হয়েছে এবং তা শেয়ার মূল্যের দ্রুত বৃদ্ধি ঘটিয়েছে। তদুপরি, বিদেশি মূলধনের প্রত্যাবর্তন সম্ভাবনা নিয়ে বাজারে ইতিবাচক প্রত্যাশা গড়ে উঠেছে।

বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, যদিও বর্তমান উত্থান শক্তিশালী, তবে দীর্ঘমেয়াদে নীতি বাস্তবায়ন ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। সংস্কারমূলক পদক্ষেপের বাস্তবায়ন, আর্থিক তদারকি শক্তিশালীকরণ এবং বাজারে নতুন বড় কোম্পানির তালিকাভুক্তি ভবিষ্যতে শেয়ারবাজারের স্থিতিশীলতা নির্ধারণ করবে।

সারসংক্ষেপে, নির্বাচনের পর শেয়ারবাজারে তীব্র উত্থান দেখা গেছে, লেনদেনের পরিমাণ ও সূচকের বৃদ্ধি স্পষ্টভাবে আত্মবিশ্বাসের পুনরুদ্ধার নির্দেশ করে। তবে নির্দিষ্ট সেক্টর ও কোম্পানির পারফরম্যান্সে পার্থক্য রয়েছে, এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রবণতা নির্ভর করবে সরকারী সংস্কার ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীর মনোভাবের উপর।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments