বিএনপি আগামীকাল শপথ গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেখানে পার্টি চেয়ারপার্সন তরিক রহমান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে পাঁচটি মন্ত্রণালয়সহ সরকার গঠন করবেন। পার্টির অভ্যন্তরীণ সূত্র অনুযায়ী, তরিক ব্যক্তিগতভাবে মন্ত্রিসভা গঠনের আলোচনা তদারকি করছেন এবং পুরোনো অভিজ্ঞ নেতাদের সঙ্গে নতুন মুখের সমন্বয় নিশ্চিত করতে চাচ্ছেন। শপথের সময় মন্ত্রিসভায় ২৫ থেকে ৩০ জন সদস্যের মধ্যে স্থান পাবে, যা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন গতিবিধি সৃষ্টি করবে।
ক্যাবিনেটের গঠন প্রক্রিয়ায় ২০০১ সালের বিএনপি সরকারে কাজ করা প্রাক্তন মন্ত্রিগণ, স্ট্যান্ডিং কমিটি সদস্য এবং নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয় করা হবে। পার্টি নেতৃত্বের মতে, অভিজ্ঞ নেতাদের সঙ্গে তরুণ প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্তি সরকারকে দক্ষ ও বিতর্কমুক্ত রাখবে। এই মন্ত্রিসভা গঠন প্রক্রিয়ায় পার্টি অভ্যন্তরে ব্যাপক সমন্বয় চলছে, যাতে বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা যায়।
তরিক রহমান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকবেন এবং রক্ষা মন্ত্রণালয়সহ অন্তত পাঁচটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেবেন বলে অনুমান করা হচ্ছে। তার নেতৃত্বে সরকার গঠন হলে, পার্টি নীতি ও প্রশাসনিক কাঠামোতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে। তরিকের এই পদক্ষেপকে পার্টির অভ্যন্তরে শক্তি সংহত করার একটি কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পার্টি সেক্রেটারি জেনারেল মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পরবর্তী প্রেসিডেন্টের সম্ভাবনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, যদিও নিয়োগ প্রক্রিয়া কিছুটা সময় নিতে পারে। এদিকে, তিনি কোনো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে, যা পার্টির অভ্যন্তরে তার প্রভাব বাড়াবে।
প্রাক্তন গৃহ ও গণপ্রকৌশল মন্ত্রী মির্জা আব্বাস এবং প্রাক্তন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমেদকে আবার মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে। উভয়েই পূর্বে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তাদের পুনরায় যোগদান পার্টির অভিজ্ঞতা বাড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, প্রাক্তন বাণিজ্য মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং প্রাক্তন তথ্য মন্ত্রী আবদুল ময়ীন খানকেও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। এছাড়া, প্রাক্তন স্বাস্থ্য মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, প্রাক্তন যোগাযোগ মন্ত্রী সালাহুদ্দিন আহমেদ এবং প্রাক্তন রাজ্য শক্তি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু নামগুলোও তালিকায় রয়েছে।
বিএনপি স্ট্যান্ডিং কমিটি সদস্য গায়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং এ.জেডি.এম. জাহিদ হোসেনকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানানো হয়েছে। উভয়ই পার্টির গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রাখেন এবং তাদের উপস্থিতি মন্ত্রিসভার রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখবে।
নতুন নির্বাচিত সংসদ সদস্য শামা উবায়েদ (ফরিদপুর‑২), আফ্রোজা খানম রিতা (মানিকগঞ্জ‑৩) এবং ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল (নাটোর‑১)কেও মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য প্রার্থীর মধ্যে রাখা হয়েছে। এদের অন্তর্ভুক্তি পার্টির তরুণ প্রতিনিধিত্বকে শক্তিশালী করবে এবং নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রযুক্তি ও বিশেষায়িত মন্ত্রণালয়ের জন্য স্ট্যান্ডিং কমিটি সদস্য নাজরুল ইসলাম খান, সিনিয়র জয়েন্ট সেক্রেটারি জেনারেল রুহুল কবির রিজভি, জয়েন্ট সেক্রেটারি জেনারেল (আন্তর্জাতিক সম্পর্ক) হুমায়ূন কবির এবং উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ইসমাইল জাবিয়ুল্লাহকে সংক্ষিপ্ত তালিকায় রাখা হয়েছে। নাজরুল বা রিজভি যেকোনো একজনকে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে, তবে উভয়কে একসাথে মন্ত্রিসভায় রাখা হবে না।
মন্ত্রিসভা গঠনের চূড়ান্ত তালিকা শীঘ্রই প্রকাশের কথা, এবং শপথ গ্রহণের পর সরকার কার্যকরী হবে। এই গঠন প্রক্রিয়া বিএনপির অভ্যন্তরে ক্ষমতার পুনর্বণ্টন এবং দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পার্টি নেতৃত্বের মতে, নতুন মন্ত্রিসভা দেশের উন্নয়ন ও শাসনব্যবস্থার স্বচ্ছতা বাড়াবে, যা নাগরিকদের কাছে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেবে।



