প্রিমাদাসা স্টেডিয়ামে ভারত এ ও পাকিস্তান দলের মধ্যে টি২০ ম্যাচে, ভারত এ দলটি পরিকল্পনা অনুসারে খেলা চালিয়ে পাকিস্তানকে পরাজিত করতে সক্ষম হয়েছে। ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে অক্ষর পাটেলের পারফরম্যান্স দলকে সাফল্যের পথে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে।
অক্ষর পাটেল ২ ওভারে ২-২৯ রেকর্ড দিয়ে দুইটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নেন, যার মধ্যে ছিলেন পাকিস্তানের ওপেনার বাবর আজম এবং মিড-অর্ডার খেলোয়াড় উসমান খান। এই দু’টি উইকেট পাকিস্তানের স্কোরকে সীমাবদ্ধ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তার পারফরম্যান্সের ফলে ভারত এ দলের বোলিং ইউনিটের আত্মবিশ্বাস বাড়ে।
অক্ষর পাটেল বললেন, “আমরা ভারত এ ব্যাটিং বনাম পাকিস্তান বোলিং নিয়ে চিন্তা করিনি; আমাদের মনোযোগ ছিল পরিকল্পনা ও এক্সিকিউশনে।” তিনি আরও যোগ করেন, “বোলিং প্রথম হোক বা দ্বিতীয়, উইকেটের অবস্থা যাই হোক, আমরা শুধু আমাদের কাজের উপরই মনোযোগ দিই।” এই দৃষ্টিভঙ্গি তাকে এবং দলের কৌশলগত প্রস্তুতিকে তুলে ধরেছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “রিভ্যালুয় বা অন্য কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা আমাদের খেলায় প্রভাব ফেলে না; আমরা একে একে প্রতিপক্ষের সঙ্গে ম্যাচ খেলি।” অক্ষর পাটেল আরও উল্লেখ করেন, “আমরা যখন মাঠে নামি, তখন শুধুমাত্র ক্রিকেটের উপরই মনোযোগ দিই, অন্য কোনো বিষয় নয়।” তার এই মন্তব্য দলীয় শৃঙ্খলা ও মনোভাবকে প্রকাশ করে।
প্রিমাদাসা স্টেডিয়ামের ২৮,০০০ সিটের প্রায় ৯০ শতাংশ ভারত এ সমর্থক পূর্ণ করে, তবে অক্ষর পাটেল উল্লেখ করেন যে এই সমর্থন স্রিলঙ্কে বিশেষ নয়, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড বা ওয়েস্ট ইন্ডিজে একই রকম। তিনি বলেন, “ব্লু জার্সি পরা ভারত এ সমর্থকরা যেখানে খেলি, সেখানে আমাদের জন্য একই উৎসাহ থাকে; আমরা মাঠের পিচ ও উইকেটের শর্তে মনোযোগ দিই।” স্টেডিয়ামের ভিড়ের উচ্ছ্বাসে গর্জন শোনা গিয়েছিল, যা খেলোয়াড়দের মনোবল বাড়িয়ে দিয়েছে।
অক্ষর পাটেল বাবর আজমকে পাঁচ রান করে ক্লিন বোল্ড দিয়ে আউট করেন, যা পাকিস্তানের শুরুর শটকে বাধা দেয়। তিনি বলের অদ্ভুত গতি ও ঘূর্ণনের কথা উল্লেখ করেন, যা ব্যাটসম্যানদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছিল। এই উইকেটের ফলে পাকিস্তানের শুরুর রণনীতি ব্যাহত হয়।
উসমান খান ৪৪ রান করে আক্রমণাত্মকভাবে পিচে দৌড়ে গিয়ে স্টাম্পিংয়ের ঝুঁকি নেয়; অক্ষর পাটেল একটি ছোট শট দিয়ে তাকে ধোঁকা দেন, ফলে স্টাম্পিং হয়ে পাকিস্তানের পতন নিশ্চিত হয়। উসমান খানের আউটের পর পাকিস্তানের স্কোর দ্রুত স্থবির হয়ে যায়। এই মুহূর্তটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
অক্ষর পাটেলের দুইটি উইকেটের পাশাপাশি ভারত এ দলের বোলিং ইউনিটও ধারাবাহিক চাপ সৃষ্টি করে, যা পাকিস্তানের স্কোরকে সীমাবদ্ধ রাখতে সহায়তা করে। স্পিনারদের পরিবর্তনশীল গতি এবং স্লিপার ডেলিভারি ব্যাটসম্যানদের জন্য অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। ফলে পাকিস্তান দলটি লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়।
এই জয়কে ভিত্তি করে ভারত এ দলটি পরবর্তী ম্যাচে একই সিরিজের অন্য প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবে, যা শীঘ্রই ঘোষণা করা হবে। সিরিজের পরবর্তী ম্যাচটি দু’দিনের মধ্যে নির্ধারিত, যেখানে ভারত এ আবারও পাকিস্তানের সঙ্গে মুখোমুখি হবে। দলটি পরিকল্পনা ও এক্সিকিউশনকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রস্তুতি চালিয়ে যাবে।



