18 C
Dhaka
Monday, February 16, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধময়মনসিংহে হিন্দু শ্রমিকের ধর্মদ্রোহী অভিযোগে গাছের কাছে দেহ দাহ

ময়মনসিংহে হিন্দু শ্রমিকের ধর্মদ্রোহী অভিযোগে গাছের কাছে দেহ দাহ

ময়মনসিংহ শহরের এক টিন‑শিট বাড়ি থেকে ২৮ বছর বয়সী দীপু চন্দ্র দাস সকালবেলায় কাজের জন্য রওনা হন। তিনি তার বাবাকে জাগিয়ে তুলেন, স্ত্রীর সঙ্গে বিদায় নেন এবং ১৮ মাসের কন্যাকে আলিঙ্গন করে বাসে চড়ে ৬০ কিলোমিটার দূরের গার্মেন্ট ফ্যাক্টরিতে যান, যেখানে তিনি হেম ও নেক্সটের মতো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সোয়েটার মান যাচাই করার দায়িত্বে ছিলেন।

দীপু কাজের শেষে বাড়ি ফেরার পথে কোনো সন্দেহের বিষয় জানেননি। তবে ১৮ ডিসেম্বর, ধর্মদ্রোহী অভিযোগে তাকে গৃহস্থালির কাজের জায়গা থেকে টেনে নিয়ে গাছের কাছে বাঁধা হয় এবং শত শত দর্শকের সামনে আগুনে জ্বালিয়ে মারা যায়। দেহ দাহের আগে তাকে এক কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে ভিড়পূর্ণ রাস্তা দিয়ে টেনে আনা হয়, শারীরিকভাবে হিংস্রভাবে হিংসা করা হয় এবং গাছের ডালে বাঁধা অবস্থায় অগ্নিকাণ্ডে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

দীপুর মৃত্যু হিন্দু সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়িয়ে দেয়। প্রতিবেদন অনুসারে, বাংলাদেশে ১.৭৪ কোটি জনসংখ্যার প্রায় ৯% সংখ্যালঘু, যার বেশিরভাগই হিন্দু। ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ সমাজের মাঝে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা এই ঘটনার পটভূমি হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

ঘটনার পর ভারতসহ বহু দেশের সরকার ও মানবাধিকার সংস্থা তীব্র নিন্দা প্রকাশ করে। আন্তর্জাতিক মিডিয়া এবং সামাজিক নেটওয়ার্কে ঘটনাটির ছবি ও ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যা বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদে রূপ নেয়।

দীপুর পরিবার এখন অন্ধকারময় এক কক্ষের মধ্যে শোকের ছায়া বয়ে চলছে। টিনের ছাদ, মাটিতে প্যাক করা মাটি, প্লাস্টিকের টেবিল ও চেয়ার, কয়েকটি চালের থলি, একটি টেডি বেয়ার এবং একটিমাত্র রেল থেকে ঝুলন্ত জামাকাপড়ই এখন তাদের একমাত্র সম্পদ। দীপু ক্রেডিটে কেনা ফ্রিজ ও ছোট টেলিভিশনও এখন নিঃশব্দে তার অনুপস্থিতি স্মরণ করিয়ে দেয়।

মায়ের শেফালি রানি দাসের কান্না থামাতে না পারা দৃশ্যটি পরিবারের ভাঙা হৃদয়ের প্রতীক। তিনি “ওহ দীপু, আমার দীপু কোথায়?” বলে কাঁদতে কাঁদতে গৃহে প্রবেশ করা অতিথিদের কাছে তার কষ্ট প্রকাশ করেন।

স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে তদন্ত শুরু করে এবং অপরাধের দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করার জন্য দল গঠন করে। গৃহস্থালির কাজের জায়গা, গাছের আশেপাশের ক্যামেরা রেকর্ড এবং সাক্ষীদের বিবৃতি সংগ্রহ করা হয়েছে। বর্তমানে ২০ জনের বেশি সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে ধর্মদ্রোহী অপরাধ ও হত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্তকারীরা বলছেন, গোষ্ঠীর নেতৃত্বে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি ধর্মীয় সংবেদনশীলতা ব্যবহার করে হিংসা উস্কে দিয়েছেন।

বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান থাকায়, আদালত থেকে এখনো কোনো চূড়ান্ত রায় প্রকাশিত হয়নি। তবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হিংসা রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সুরক্ষার জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করেছে।

এই ঘটনার পর, সরকারী স্তরে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নীতি পুনর্বিবেচনা এবং হিংসা প্রতিরোধে আইন প্রয়োগের ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

দীপু চন্দ্র দাসের মৃত্যু বাংলাদেশে ধর্মীয় সহনশীলতা ও সংখ্যালঘু অধিকারের আলোচনায় নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করেছে। তার পরিবার এখনো শোকের মধ্যে ডুবে আছে, আর সমাজের জন্য এই ধরনের হিংসা আর না ঘটার জন্য আইনগত ও সামাজিক পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments