২০২৬ সালের স্পিরিট অ্যাওয়ার্ডে “Sorry, Baby” ছবির স্ক্রিনপ্লে বিভাগে সেরা পুরস্কার অর্জিত হয়েছে। চলচ্চিত্রের লেখক‑নির্দেশক‑অভিনেত্রী ইভা ভিক্টর মঞ্চে গিয়ে পুরস্কার গ্রহণ করেন, যা অভিনেত্রী অ্যামি মাডিগান উপস্থাপন করেন। স্বাধীনভাবে তৈরি করা এই কাজটি শিল্প জগতে নতুন স্বর তুলেছে, যা ভিক্টরের জন্য বিশেষ গর্বের বিষয়।
অভিনয় ও পরিচালনা দুটোই একসাথে করা ভিক্টর স্বীকার করেন যে স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাণ ছাড়া তিনি এই গল্পটি তার ইচ্ছামতো উপস্থাপন করতে পারতেন না। তিনি স্বাধীন সিনেমার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান। এ অনুষ্ঠানে তিনি A24, হাই ফ্রিকোয়েন্সি, বিগ বিচ এবং ট্যাঙ্গো এন্টারটেইনমেন্টের সহযোগিতার জন্যও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, যারা প্রথমবারের মতো স্বতন্ত্র কণ্ঠকে সমর্থন করেছে।
চলচ্চিত্রের প্রধান কাস্টের মধ্যে রয়েছে নাওমি অ্যাকি, লুকাস হেডস এবং জন ক্যারোল লিঞ্চ, যাদেরও তিনি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “আপনাদের সমর্থনই প্রথমবারের মতো চলচ্চিত্র নির্মাতাদের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেয়।” এই কৃতজ্ঞতার কথা শোনার পর নাওমি অ্যাকি নিজেও সেরা সহায়ক পারফরম্যান্সের পুরস্কার জিতেছেন, যা ছবির সাফল্যের আরেকটি সূচক।
স্পিরিট অ্যাওয়ার্ডের স্ক্রিনপ্লে বিভাগে ভিক্টরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাইকেল অ্যাঞ্জেলো কোভিনো ও কাইল মারভিনের “Splitsville”, অ্যাঙ্গাস ম্যাকলাচলানের “A Little Prayer”, জেমস সুইনি’র “Twinless” এবং ক্রিস্টিয়ান সুয়েগালের “Sovereign” উল্লেখযোগ্য। যদিও এই নামগুলোও শক্তিশালী প্রস্তাবনা উপস্থাপন করলেও ভিক্টরের কাজটি জুরি ও দর্শকদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ স্বীকৃতি পেয়েছে।
ইভা ভিক্টরের চলচ্চিত্র নির্মাণের যাত্রা ২০২৫ সালের স্যান্ডেন্স ফেস্টিভ্যালে বিশ্বপ্রসার শুরু করে। “Sorry, Baby” নিউ ইংল্যান্ডের এক তরুণ শিক্ষার্থীর গল্প বলে, যিনি যৌন নির্যাতনের পর ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধারের পথে অগ্রসর হন। এই সংবেদনশীল বিষয়টি ভিক্টর তার কমেডি ও অভিনয়ের পটভূমি থেকে অর্জিত সূক্ষ্ম হাস্যরসের ছোঁয়া দিয়ে উপস্থাপন করেছেন, যা দর্শকের হৃদয়কে স্পর্শ করে।
হলিউড রিপোর্টারের একজন সিনিয়র রিভিউয়ার ছবির সমালোচনা করেন যে, গম্ভীর বিষয়বস্তুকে হালকা হাস্যরসের সঙ্গে মেশিয়ে একটি অনন্য টোন তৈরি হয়েছে, যদিও কিছু মুহূর্তে গল্পের তীব্রতা হ্রাস পায় বলে মনে হতে পারে। তবু ছবির আকর্ষণীয় চরিত্রায়ণ ও সৃজনশীল বর্ণনা দর্শকদেরকে গভীরভাবে জড়িয়ে রাখে, যা স্বাধীন চলচ্চিত্রের সম্ভাবনা তুলে ধরে।
ভিক্টরের এই সাফল্য স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তিনি ভবিষ্যতে আরও স্বতন্ত্র কণ্ঠকে সমর্থন করার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও গল্পগুলো বড় পর্দায় স্থান পায়।
স্পিরিট অ্যাওয়ার্ডের এই বিজয় ইন্ডি সিনেমার শক্তি ও প্রাসঙ্গিকতা পুনরায় নিশ্চিত করেছে, এবং ইভা ভিক্টরের মতো প্রথমবারের পরিচালককে আন্তর্জাতিক মঞ্চে স্বীকৃতি প্রদান করেছে। স্বাধীনতা, সৃজনশীলতা এবং সাহসিকতার মিশ্রণে গড়ে ওঠা এই চলচ্চিত্রটি এখন নতুন প্রজন্মের চলচ্চিত্রপ্রেমীর জন্য একটি অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে।



