জেমস ট্রাফোর্ড, ম্যানচেস্টার সিটির ডিফেন্ডার গার্ড, এই গ্রীষ্মে ক্লাব ছেড়ে যাওয়ার কথা ভাবছেন, কারণ ইতালিয়ান গোলকিপার গিয়ানলুইজি ডোনারুম্মা দলের প্রথম পছন্দে রূপান্তরিত হয়েছেন। ট্রাফোর্ডের অবস্থানগত পরিবর্তন এবং তার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, যখন ম্যানচেস্টার সিটি এই মৌসুমে ডোনারুম্মার ওপর নির্ভরশীলতা বাড়িয়ে তুলেছে। গার্ডের মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে তিনি এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাননি, তবে তিনি প্রতিদিন কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
ট্রাফোর্ডের বার্নলি থেকে ম্যানচেস্টার সিটিতে স্থানান্তর ২০২৪ সালের ৩১ জুলাই সম্পন্ন হয়, যেখানে ক্লাব তাকে প্রায় £৩১ মিলিয়ন মূল্যে অর্জন করে। বার্নলিতে দুই বছর কাটিয়ে তিনি টার্ফ মুরের মাঠে গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা অর্জন করেন, তবে তার প্রত্যাবর্তন ম্যানচেস্টার সিটির জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ ছিল। তরুণ গোলকিপার ২০১৫ সালে মাত্র বারো বছর বয়সে ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগদান করেন এবং তখন থেকে ক্লাবের একাডেমি সিস্টেমে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে আসছেন।
ডোনারুম্মার আগমন ২ সেপ্টেম্বরের দিকে ঘটেছিল, যখন তিনি প্যারিস সেইন্ট-জার্মেইন থেকে £২৬ মিলিয়ন মূল্যে ম্যানচেস্টার সিটিতে স্থানান্তরিত হন। পেপ গুআর্ডিওলা, ম্যানচেস্টার সিটির প্রধান কোচ, ডোনারুম্মাকে প্রথম পছন্দের গোলকিপার হিসেবে ঘোষণা করার পর ট্রাফোর্ডের অবস্থান স্বাভাবিকভাবে পরিবর্তিত হয়। ডোনারুম্মার চুক্তি ক্লাবের এক্সিকিউটিভদের জানানো হয়, যা ট্রাফোর্ডের প্রত্যাশাকে অপ্রত্যাশিত করে তুলেছিল।
সেই মৌসুমের প্রথম তিনটি প্রিমিয়ার লিগ ম্যাচে ট্রাফোর্ড স্টার্টিং গার্ড হিসেবে মাঠে নামেন, তবে ডোনারুম্মার অন্তর্ভুক্তির পর থেকে তিনি আর লিগে শুরুর দায়িত্ব পাননি। তার পরবর্তী আটটি উপস্থিতি মূলত এফএ কাপ, কারাবাও কাপ এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে সীমাবদ্ধ ছিল। ফলে লিগে তার খেলা সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছে, যা তার ক্যারিয়ার পরিকল্পনায় নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।
এফএ কাপের চতুর্থ রাউন্ডে ম্যানচেস্টার সিটি স্যালফোর্ডকে ২-০ দিয়ে পরাজিত করার পর ট্রাফোর্ডকে ক্লাবের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। তিনি সংক্ষিপ্তভাবে বলেছিলেন, “এখন পর্যন্ত সবকিছু ভালোই চলেছে।” তিনি ডোনারুম্মার সঙ্গে প্রতিযোগিতার কথা না ভাবেও, নিজের কাজের প্রতি মনোযোগী থাকার কথা জোর দিয়ে বলেন। তার এই মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে তিনি পরিস্থিতি স্বীকার করে, নিজের পারফরম্যান্স উন্নত করার দিকে মনোনিবেশ করছেন।
ট্রাফোর্ড স্বীকার করেন যে ডোনারুম্মার আগমনের আগে তিনি প্রথম গার্ডের ভূমিকা পাবেন বলে কোনো নিশ্চিতকরণ পাননি। “এটা এমন কিছু নয় যা আগে থেকে জানানো হয়েছিল,” তিনি বলেন। “ফুটবল এমন, প্রতিদিন কঠোর পরিশ্রম করতে হয় এবং সুযোগে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হয়।” এই দৃষ্টিভঙ্গি তার পেশাগত মানসিকতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় স্থিতিশীলতা প্রকাশ করে।
ক্লাবের সঙ্গে তার চুক্তি পাঁচ বছর এবং অতিরিক্ত এক বছরের বিকল্পসহ সম্পন্ন হয়েছে, তবে গ্রীষ্মের পরের মৌসুমে তার অবস্থান অনিশ্চিত রয়ে গেছে। ট্রাফোর্ড উল্লেখ করেন, “কেউ জানে না, এটা ফুটবল, একদিন একদিনে সবকিছু দেখা যাবে।” তিনি নিজের চুক্তি বজায় রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও, ডোনারুম্মার সঙ্গে প্রতিযোগিতার ফলে তার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
ট্রাফোর্ডের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি প্রতিদিনের প্রশিক্ষণে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দিচ্ছেন এবং ফলাফল কী হবে তা সময়ের ওপর নির্ভরশীল। “আমি জানি আমার চুক্তি আছে, তবে পরের মৌসুমে কী হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়,” তিনি বলেন। “আমি শুধু একদিন একদিনে কাজ চালিয়ে যাব এবং নিজের উন্নতিতে মনোযোগ দেব।” এই মনোভাব তার পেশাগত দায়িত্ববোধকে তুলে ধরে।
ইংল্যান্ডের জাতীয় দলের কোচ থমাস টুচেলের অধীনে ট্রাফোর্ডকে নভেম্বর মাসে ইংল্যান্ডের স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যা তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। যদিও ডোনারুম্মার সঙ্গে প্রতিযোগিতা বাড়ছে, তবুও ট্রাফোর্ডের পারফরম্যান্স তাকে জাতীয় দলের দৃষ্টিতে মূল্যবান করে তুলেছে। তার এই সুযোগের ফলে ভবিষ্যতে ক্লাবের সঙ্গে তার সম্পর্কের ওপর নতুন দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে উঠতে পারে।
সারসংক্ষেপে, জেমস ট্রাফোর্ডের ম্যানচেস্টার সিটি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ডোনারুম্মার সঙ্গে প্রতিযোগিতার ফলে উত্থাপিত হয়েছে, যদিও তিনি এখনও নিজের কাজের প্রতি সম্পূর্ণ মনোযোগী এবং চুক্তি অনুযায়ী কাজ চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। গ্রীষ্মের পরের মৌসুমে তার অবস্থান কী হবে তা এখনো অনিশ্চিত, তবে তার কঠোর পরিশ্রম এবং পেশাদারিত্ব তাকে ভবিষ্যতে নতুন সুযোগের দরজা খুলে দিতে পারে।



