ইউএস পেন্টাগন সামরিক কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করার জন্য সব আইনসঙ্গত উদ্দেশ্যে অনুমোদন চাচ্ছে, তবে অ্যানথ্রপিক এই দাবির প্রতি সর্বাধিক প্রতিরোধ দেখাচ্ছে। একই সময়ে, সরকার ওপেনএআই, গুগল এবং এক্সআইএআই-কে সমান শর্তে প্রযুক্তি সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছে।
একজন ট্রাম্প প্রশাসনের গোপন কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন যে, ওই চারটি কোম্পানির মধ্যে একটি ইতিমধ্যে শর্তে সম্মতি দিয়েছে, আর বাকি দুটিতে কিছুটা নমনীয়তা দেখা গেছে। তবে অ্যানথ্রপিকের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন, যেখানে কোম্পানি এখনও স্পষ্টভাবে কোনো চুক্তি স্বীকার করেনি।
ইউএস পেন্টাগন অ্যানথ্রপিকের সঙ্গে চলমান $২০০ মিলিয়ন মূল্যের চুক্তি বাতিলের হুমকি জানিয়েছে। এই চুক্তি যদি শেষ হয়ে যায়, তবে অ্যানথ্রপিকের ক্লড মডেলগুলো সামরিক গবেষণা ও উন্নয়নে ব্যবহারের সুযোগ কমে যাবে।
জানুয়ারি মাসে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রকাশিত প্রতিবেদনে অ্যানথ্রপিক ও ডিফেন্স ডিপার্টমেন্টের মধ্যে ক্লড মডেলগুলোর ব্যবহার নিয়ে তীব্র মতবিরোধের কথা উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্লড সামরিক অপারেশনে ব্যবহার করা হয়েছিল, যার মধ্যে ভেনেজুয়েলার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেফতার করার সময়ও অন্তর্ভুক্ত।
অ্যানথ্রপিকের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে কোম্পানির একটি মুখপাত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, তারা ডিপার্টমেন্ট অফ ওয়ারের সঙ্গে নির্দিষ্ট কোনো অপারেশন নিয়ে আলোচনা করেনি। তাদের প্রধান উদ্বেগ হল স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ও ব্যাপক গৃহনিরীক্ষা সংক্রান্ত কঠোর সীমাবদ্ধতা।
ক্লড মডেলগুলোকে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের অংশ হিসেবে ব্যবহার করা হলে অ্যানথ্রপিকের নীতি অনুযায়ী তা অনুমোদিত নয়। একই সঙ্গে, বৃহৎ পরিসরের গৃহনিরীক্ষা কার্যক্রমেও কোম্পানি কঠোর সীমা নির্ধারণ করেছে, যা সামরিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা সৃষ্টি করতে পারে।
ইউএস পেন্টাগনের দাবি অনুযায়ী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি সামরিক কৌশল ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, তাই সব আইনসঙ্গত ব্যবহারের অনুমোদন প্রয়োজন। তবে অ্যানথ্রপিকের মতবিরোধের পেছনে নৈতিক ও নীতি সংক্রান্ত উদ্বেগের দিকটি স্পষ্ট।
ওপেনএআই ও গুগল-ও একই ধরনের শর্তের মুখোমুখি হয়েছে, তবে উভয় কোম্পানি কিছুটা নমনীয়তা দেখিয়ে শর্তে সম্মতি জানিয়েছে বলে জানা যায়। এক্সআইএআই-ও একই চাপে রয়েছে, তবে তার অবস্থান এখনও স্পষ্ট নয়।
এই পরিস্থিতি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শিল্পে সরকারী নিয়ন্ত্রণ ও বেসরকারি কোম্পানির নীতি সংক্রান্ত দ্বন্দ্বের উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সামরিক ব্যবহারকে আইনসঙ্গত বলে স্বীকৃতি দেওয়া এবং নৈতিক সীমা বজায় রাখার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
অ্যানথ্রপিকের ক্লড মডেলগুলোকে সামরিক কাজে ব্যবহার করা হলে, তা কোম্পানির নীতি ও আন্তর্জাতিক নৈতিক মানদণ্ডের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলমান। এই বিষয়টি ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সামরিকীকরণে কী প্রভাব ফেলবে, তা পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
সামগ্রিকভাবে, ইউএস পেন্টাগন ও অ্যানথ্রপিকের মধ্যে চলমান আলোচনায় চুক্তির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত রয়ে গেছে। চুক্তি রদ করা হলে, অ্যানথ্রপিকের আর্থিক ও কৌশলগত অবস্থানে প্রভাব পড়তে পারে, আর সামরিক ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার সীমিত হতে পারে।



