আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টার কাছাকাছি নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে একটি দীর্ঘ পোস্ট প্রকাশ করেন। পোস্টে তিনি মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক কাজের তালিকা তুলে ধরে, নিজের ভূমিকা ও কাজের পদ্ধতি ব্যাখ্যা করেন।
প্রকাশে তিনি স্পষ্ট করেন যে, কোনো একক উদ্যোগে তিনি ব্যক্তিগতভাবে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেননি; বরং মন্ত্রণালয়ের গৃহীত সব পদক্ষেপে তিনি অংশগ্রহণকারী হিসেবে কাজ করেছেন। দীর্ঘ সময় কাজের দায়িত্বে থাকায় তিনি প্রায়শই সকালবেলা অফিসে পৌঁছে রাত আট‑নয়টা পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যান, আর গভীর রাতে বাড়িতে আবার কাজ সম্পন্ন করেন। শুক্রবার‑শনিবারের দিনগুলোতেও তিনি সচিবালয়ের কাজের দায়িত্বে ছিলেন।
এই সময়কালে মন্ত্রণালয় মোট ২২টি আইনি সংস্কার, ১৫টি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও ডিজিটালাইজেশন প্রকল্প, ২৪,২৭৬টি হয়রানীমূলক মামলা প্রত্যাহার, গণহত্যা সংক্রান্ত বিচারের ব্যবস্থাপনা এবং দৈনন্দিন কার্যক্রমে প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি অর্জন করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আইনি সংস্কারের মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) অধ্যাদেশকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা অন্যতম। নতুন বিধান গুমকে মানবতাবিরোধী অপরাধের সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করে, সাক্ষীর সুরক্ষা ব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের নিয়োগ, অন্তর্বর্তীকালীন আপিলের সুযোগ এবং ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ প্রণালী যুক্ত করেছে।
সুপ্রীম কোর্টের বিচারক নিয়োগ সংক্রান্ত অধ্যাদেশের মাধ্যমে স্বতন্ত্র জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে, যা মেধা, সমতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে বিচারপতি নির্বাচন নিশ্চিত করে। এই ব্যবস্থা বিচারিক স্বায়ত্তশাসনকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে গৃহীত।
সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার জন্য আরেকটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। এতে বিচার বিভাগের সম্পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে, অধস্তন আদালতের বিচারকদের তত্ত্বাবধান ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিজস্ব কর্তৃপক্ষের অধীনে রাখা হয়েছে।
বাণিজ্য সংক্রান্ত কিছু সংস্কারও সমান্তরালে চালু হয়েছে, যদিও বিস্তারিত তথ্য পোস্টে উল্লেখ করা হয়নি। তবে উল্লেখযোগ্য যে, মন্ত্রণালয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সেবা প্রদান ও নথিপত্রের স্বয়ংক্রিয়করণে অগ্রগতি সাধন করেছে।
কিছু পর্যবেক্ষক ও বিরোধী দল তার কাজের গতি ও ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। আসিফ নজরুল এই সমালোচনাকে স্বীকার করে বলেন, সমালোচনা স্বাভাবিক এবং তা কোনো বাধা নয়; বরং তিনি জনগণকে তার পোস্টে উল্লেখিত কাজগুলো মনোযোগ দিয়ে জানার আহ্বান জানান।
এই সংস্কারগুলো দেশের আইনি কাঠামোকে আধুনিকায়নের দিকে ধাবিত করবে, বিচারিক স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা বাড়াবে এবং ভবিষ্যৎ আইনসভার আলোচনায় প্রাসঙ্গিক ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
আসিফ নজরুলের পোস্টের পর মন্ত্রণালয়ের কর্মসূচি চালু রয়েছে, এবং তিনি উল্লেখ করেন যে, পরবর্তী সময়ে আরও আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে, যা দেশের শাসনব্যবস্থার উন্নয়নে অবদান রাখবে।



