20 C
Dhaka
Monday, February 16, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকমার্কিন সামরিক বাহিনী ভার্জিনিয়া তেলবাহী জাহাজ ভার্জিনিয়া ইন্ডিয়ান মহাসাগরে আটক করেছে

মার্কিন সামরিক বাহিনী ভার্জিনিয়া তেলবাহী জাহাজ ভার্জিনিয়া ইন্ডিয়ান মহাসাগরে আটক করেছে

মার্কিন সামরিক বাহিনী ইন্ডিয়ান মহাসাগরে আরেকটি তেলবাহী জাহাজের ওপর হস্তক্ষেপ করেছে। প্যানামা পতাকাবাহিনী ভেরোনিকা III নামের জাহাজটি ক্যারিবিয়ান সাগর থেকে ট্র্যাক করে শেষ পর্যন্ত ইন্ডিয়ান মহাসাগরে ধরা পড়ে। এই পদক্ষেপটি গত সপ্তাহে একই অঞ্চলে আরেকটি জাহাজ আটক করার পর দ্বিতীয়বারের মতো ঘটেছে এবং ভেনেজুয়েলার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের সন্দেহে করা হয়েছে।

ভেরোনিকা III প্যানামা রেজিস্ট্রির অধীনে চলছিল এবং ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলা থেকে রওনা হয়। ট্যাঙ্কারট্র্যাকারস.কমের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি রওনা হওয়ার সময় ১.৯ মিলিয়ন ব্যারেল কাঁচা তেল বহন করছিল এবং ২০২৩ সাল থেকে রাশিয়া, ইরান ও ভেনেজুয়েলার তেল পরিবহনে যুক্ত থাকার সন্দেহ রয়েছে। বর্তমানে এই জাহাজটি মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রকাশ্য বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে দূরত্বই আর কোনো সুরক্ষা দেয় না এবং আন্তর্জাতিক জলে কোনো দেশই নিরাপদ আশ্রয় পাবে না। তারা ক্যারিবিয়ান সাগর থেকে জাহাজটির গতি অনুসরণ করে ইন্ডিয়ান মহাসাগরে পৌঁছে, দূরত্ব কমিয়ে শেষ পর্যন্ত হস্তক্ষেপ করেছে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে জাহাজটি ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্ধারিত কোয়ারান্টাইন মানতে চেয়েছিল না এবং এ কারণে তা বাধা দেওয়া হয়েছে।

এই অপারেশনকে পেন্টাগন “সদস্যভুক্ত অধিকার, সামুদ্রিক হস্তক্ষেপ এবং বোর্ডিং” হিসেবে বর্ণনা করেছে, তবে জাহাজটি সম্পূর্ণভাবে জব্দ করা হয়েছে কিনা বা তার যাত্রা চালিয়ে যাওয়া অনুমোদিত হয়েছে কিনা তা স্পষ্ট করা হয়নি। গত বছর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কমপক্ষে সাতটি তেলবাহী জাহাজ আটক করেছে, যা ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পূর্বে, একই সপ্তাহে মার্কিন সামরিক বাহিনী অ্যাকুইলা II নামের আরেকটি জাহাজকে ট্র্যাক করে ইন্ডিয়ান মহাসাগরে পৌঁছে পরিদর্শন করেছে। এই ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে যে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর গ্লোবাল রেঞ্জ এবং সহনশীলতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক জলে নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনকারী জাহাজগুলোর ওপর চাপ বাড়াতে সক্ষম।

ডিসেম্বরে ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকার নিষেধাজ্ঞা প্রাপ্ত তেলবাহী জাহাজগুলোর ওপর “নিষেধাজ্ঞা” আরোপের কথা ঘোষণা করেছিল। সেই নির্দেশনা অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী এখন আন্তর্জাতিক জলে নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনকারী জাহাজের ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপের ক্ষমতা ব্যবহার করছে।

একজন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক উল্লেখ করেছেন, এই ধরনের অপারেশন আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন ও নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে দৃঢ় করে এবং অন্যান্য দেশকে সতর্ক করে যে আন্তর্জাতিক জলে নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করা সহজ নয়। তদুপরি, ভেনেজুয়েলা, রাশিয়া ও ইরানের তেল বাণিজ্যের ওপর এই পদক্ষেপের প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে তেল বাজারের গতি-প্রকৃতিতে পরিবর্তন আনতে পারে।

ভেরোনিকা III-র বর্তমান অবস্থা এখনও অনির্ধারিত, তবে জাহাজটি আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকায় ভবিষ্যতে তা কীভাবে পরিচালিত হবে তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরে থাকবে। এই ঘটনা দেখায় যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও আর্থিক নীতি একসাথে কাজ করে ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানির ওপর চাপ বাড়াতে এবং নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনকারী নৌযানগুলোর ওপর কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।

এই ধরনের হস্তক্ষেপের ফলে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক রুটের ওপর প্রভাব পড়তে পারে, বিশেষ করে যখন ভেনেজুয়েলা, রাশিয়া ও ইরানের তেল সরবরাহের বিকল্প পথ খোঁজা হচ্ছে। তাই, ভবিষ্যতে এই ধরনের অপারেশনগুলো কীভাবে আন্তর্জাতিক নীতি ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে প্রভাবিত করবে তা পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments