পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার পিরোজপুর-চারখালি সড়কে গত রাত প্রায় ১১ টার দিকে দুইজন বিএনপি নেতা হ্যাকিং আক্রমণের শিকার হয়ে গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। আক্রমণটি নাসিরের বাড়ি থেকে প্রায় দুইশো মিটার দূরে ঘটেছে এবং শিকারদের অবস্থা তীব্র হওয়ায় পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
শিকারদের মধ্যে ৭০ বছর বয়সী মোহিউদ্দিন মল্লিক নাসির, যিনি পিরোজপুর সদর উপজেলা ইউনিটের প্রাক্তন সভাপতি, এবং ৪৫ বছর বয়সী রিয়াজুদ্দিন মল্লিক নিপু, যিনি শঙ্করপাশা ইউনিয়ন ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক, অন্তর্ভুক্ত। দুজনেই পারেরহাট বাজার থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে আক্রমণের শিকার হন।
আক্রমণকারী দলটি মোট ৮ থেকে ১০ জনের মধ্যে ছিল বলে শিকার নিপু জানান। তারা মোটরসাইকেল চালিয়ে শিকারদের পথ আটকে দিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হঠাৎ আক্রমণ চালায় এবং দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। শিকারদের সঙ্গে সরাসরি কোনো পরিচয় প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি, কারণ আক্রমণকারীরা দ্রুত সরে যায়।
মোহিউদ্দিন নাসিরের ক্ষেত্রে ডান ও বাম হাতের পাশাপাশি বাম ঘাড়ে প্রায় দশটি ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যেখানে বেশ কয়েকটি টেন্ডন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রিয়াজুদ্দিন নিপু মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে ছুরিকাঘাতের শিকার হন, যার ফলে তার শারীরিক অবস্থা দ্রুত খারাপ হয়ে যায়।
পিরোজপুর সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার রাজিব পায়ক উল্লেখ করেন, শিকারের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উভয়কে দ্রুতই খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানে উন্নত চিকিৎসা সেবা পাওয়ার জন্য স্থানান্তর করা হয়।
আক্রমণের পর পিরোজপুর সদর সর্কেলের অতিরিক্ত সুপারিন্টেন্ডেন্ট অফ পুলিশ নাসরিন জাহান হাসপাতালে গিয়ে শিকারের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি জানান, তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী আক্রমণের পেছনের দায়ী ব্যক্তিদের সনাক্ত করা সম্ভব হবে।
পুলিশের মতে, ঘটনাস্থলে কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর চিহ্ন পাওয়া যায়নি, তবে আক্রমণকারী দলের সংখ্যা ও ব্যবহৃত অস্ত্রের ধরন থেকে দেখা যায় যে এটি পরিকল্পিত এবং সমন্বিত আক্রমণ ছিল। স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এখন পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করতে পারেনি, তবে তদন্ত চলমান রয়েছে।
শিকারের পরিবার এবং সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠনগুলো এই আক্রমণকে নিন্দা করে এবং দ্রুত ন্যায়বিচার দাবি জানায়। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তদন্তের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের সহিংসতা রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থার শক্তিশালীকরণ এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা পুনরায় জোর দেওয়া হয়েছে।



